Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ , ১ আশ্বিন ১৪২৬

গড় রেটিং: 1.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ১২-৩১-২০১২

আলো ঝলমল হাতিরঝিলের পর্দা উঠল


	আলো ঝলমল হাতিরঝিলের পর্দা উঠল

ঢাকা, ০২ জানুয়ারি- পাঁচ বছর ধরে কাজ চলার পর সবার জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে রাজধানীর হাতিরঝিল-বেগুনবাড়ি সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প। রাজধানীর পূর্ব থেকে পশ্চিমে যোগাযোগ সহজতর করার পাশাপাশি নগরবাসীর জন্য একটি বিনোদনের স্থান হিসাবে গড়ে তোলা হয়েছে সোনারগাঁও থেকে রামপুরা পর্যন্ত ৩০২ একর জমির উপর বিস্তৃত এই প্রকল্পটি। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার সকালে যখন এ প্রকল্পের ফলক উন্মোচন করেন, চারপশাশে তখন শীতের সকালের ঝলমলে রোদ। এর আগে গাড়িতে করে প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখেন তিনি। 
 
রাজধানীর পুর্ থেকে পশ্চিমের যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়, যা বাস্তবায়নে ৯৩ শতাংশ অর্থের জোগান দেয় সরকার। 
 
সমন্বিত এ প্রকল্পের প্রাণ হাতিরঝিল ও বেগুনবাড়ি খাল, যার দুই পাশ দিয়ে যানবাহন চলাচলের জন্য তৈরি করা হয়েছে ১৬ কিলোমিটার সড়ক, চারটি সেতু, আরো চারটি ক্ষুদ্র সেতু (ভায়াডাক্ট) এবং চলাচলের জন্য চারটি ওভারপাস। 
 
বিনোদনের জন্য খালে রয়েছে নৌকা চালানোর ব্যবস্থা, ছোট পরিসরে পিকনিক স্পটসহ বেশকিছু সুবিধা। 
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছে প্রথমে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। তারপর তিনি গাড়িতে করে খালের ওপর নির্মিত সেতু ও সড়ক দিয়ে ঘুরে ঘুরে অনুষ্ঠান মঞ্চে পৌঁছান। এ সময় দুই তরুণী ফুলের তোড়া দিয়ে তাকে স্বাগত জানায়। 
 
অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী শুরুতেই প্রকল্পের ফলক উন্মোচন করেন এবং মোনাজাতে অংশ নেন। এরপর তিনি মঞ্চে এলে দর্শকসারি থেকে ‘জয় বাংলা’ শ্লোগানে তাকে স্বাগত জানানো হয়। 
 
প্রকল্প এলাকা চলাচলের জন্য খুলে দেয়া উপলক্ষে ঝিল ও খালের দ্ইু পাড় ও সড়কগুলো সাজানো হয় ফুলের টব ও নানা রঙের পতাকা দিয়ে। একটি স্থানে ঢোল বাজাতে দেখা যায় একদল বাদককে। হাতির ঝিল নাম বলে কয়েকটি হাতিও আনা হয় খালপাড়েরর সড়কে। 
 
প্রধানমন্ত্রীর আগমণ উপলক্ষে গুলশান লিংক রোডসহ বেশ কয়েকটি সড়কে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। 
 
প্রকল্প পরিচালক এএসএম রায়হানুল ফেরদৌস বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে এই প্রকল্পকে পুরোপুরি তৈরি করতে আরো কিছু কাজ বাকি রয়েছে, যা শিগগিরই করা হবে। 
 
প্রকল্পটি চালু হলে ঢাকার পূর্ব অংশের রামপুরা, বাড্ডা থেকে সহজেই শহরের কেন্দ্রস্থল কারওয়ান বাজারে পৌঁছানো যাবে বলে জানান রায়হানুল ফেরদৌস। 
 
গাড়িতে এ এলাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য এফডিসির পাশের মোড়ে, মগবাজার রেল ক্রসিং ও রামপুরা সেতুর কাছে তিনটি পথ রয়েছে। এ প্রকল্প উন্মুক্ত হওয়ায় যানজট কিছুটা হলেও কমবে বলে আশা করছেন সগক যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা। 
 
২০০৭ সালে হাতিরঝিল উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পায় ২০০৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর, যা ছিল সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শেষ একনেক বৈঠক। 
 
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সেনাবাহিনীর ১৬ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন, ঢাকা ওয়াসা এবং এলজিইডি যৌথভাবে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। প্রকল্পে পরামর্শকের দায়িত্বে ছিল বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়। 
 
ইতিহাস বলে, ঢাকার পিলখানা (হাতির আবাস) থেকে বেগুনবাড়ি এলাকার ঝিলে যাওয়ার জন্য হাতিরা যেসব সড়ক ব্যবহার করতো, পরবর্তীতে সেসব এলাকার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হাতি নামটি। ওই ঝিলটিও পরিচিত হয়ে ওঠে হাতিরঝিল নামে। 
 
হাতিরঝিল-বেগুনবাড়ি সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পের পরামর্শক গ্রুপের দলনেতা স্থপতি ইকবাল হাবিব বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, ব্রিটিশ রাজার ধারাবাহিকতায় ভাওয়ালের রাজাদের পোষা হাতি রাখা হতো পিলখানায়। সে সময় গোসল করার জন্য এসব হাতি ঝিলে যাওয়ার জন্য ব্যবহার করতো এখনকার এলিফ্যান্ট রোড, হাতিরপুল এলাকা। 
 
হাতিদের আনাগোনার কারণেই এলাকার নামের সঙ্গে হাতি শব্দটি যুক্ত হয়ে গেছে। ঝিলের নামকরণের পেছনেও কারণ অভিন্ন। 

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে