Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ , ১ আশ্বিন ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.8/5 (65 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ১২-৩১-২০১২

সাকা চৌধুরীর হুমকি ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ


	সাকা চৌধুরীর হুমকি ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ

ঢাকা, ১ জানুয়ারি- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী মঙ্গলবার অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে লক্ষ্য করে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছেন। এ সময় দুই পক্ষের আইনজীবীদের তুমুল হট্টগোলের একপর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষের উদ্দেশে তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, ‘দুই বছর জেলে রাখছিস, জেল থেকে বের হয়ে নিই...।’

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ গতকাল রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে বাগিবতণ্ডা, গালাগাল বিনিময় ও মারমুখী আচরণে বিশৃঙ্খলার একপর্যায়ে সাংসদ সাকা চৌধুরী এ হুমকি দেন।
বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবীর, বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হকের সমন্বয়ে গঠিত ট্রাইব্যুনালে মধ্যাহ্ন বিরতির কিছুক্ষণ আগে সাকা চৌধুরীর কয়েকটি আবেদনের শুনানি শুরু হয়। তখন থেকে দফায় দফায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি হয়।
শুনানিতে সাকা চৌধুরীর আইনজীবী ফখরুল ইসলাম বলেন, বিচারপতি নিজামুল হক এই ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান থাকাকালে বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবীর ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক সদস্য ছিলেন। স্কাইপে কথোপকথন ফাঁস হওয়ার পর ট্রাইব্যুনাল-১ থেকে বিচারপতি নিজামুল হক পদত্যাগ করেন। ওই কথোপকথন থেকে জানা গেছে, বিচারপতি নিজামুল হককে পদোন্নতির আশ্বাস দিয়েছিলেন প্রধান বিচারপতি এবং আপিল বিভাগের বিচারপতি এস কে সিনহা। এখন বিচারপতি ফজলে কবীর ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক স্কাইপে কথোপকথনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি না, তা আসামিপক্ষ জানতে চায়।
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এ আবেদনের বিরুদ্ধে জোরালো আপত্তি জানান। এ সময় সাকা চৌধুরী আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে উচ্চ স্বরে কথা বলেন।
মধ্যাহ্ন বিরতির পর কার্যক্রম আবার শুরু হলে ট্রাইব্যুনাল বলেন, আসামিকে এজলাসে আনা হবে না। তিনি বারবার চিৎকার করে বিড়ম্বনার সৃষ্টি করছেন। সাকা চৌধুরীকে এজলাসে আনার অনুরোধ জানান আইনজীবী ফখরুল ইসলাম। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এর আগেও এই আসামি এ ধরনের আচরণ করেছেন।
ট্রাইব্যুনাল বলেন, আসামিপক্ষের আইনজীবী যদি অঙ্গীকার করেন, আসামিকে এজলাসে আনা হলে তিনি চুপ করে থাকবেন, তাহলে তাঁকে আনা হবে। পরে আইনজীবী মৌখিক অঙ্গীকার করলে সাকা চৌধুরীকে এজলাসে আনা হয়।
শুনানি শুরু হলে ট্রাইব্যুনাল আইনজীবীকে বলেন, ‘আপনি এর মধ্যে সীমা অতিক্রম করেছেন। মাননীয় প্রধান বিচারপতি ও আপিল বিভাগের বিচারপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন।’ ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘না, না, আমি বলেছি, তাঁরা জড়িত ছিলেন।’ এ সময় তিনি স্কাইপে বিচারপতি নিজামুল হক ও আহমেদ জিয়াউদ্দিনের কথোপকথনের একটি অংশ পড়ে শোনান।
আবেদনের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘কিসের ভিত্তিতে আপনি এ আবেদন করেছেন?’ এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল আবারও এই আবেদনের ব্যাপারে আপত্তি জানান।
ফখরুল ইসলাম বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গেলে ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালকে কি নিজেদের বিষয়ে সার্টিফিকেট দিতে হবে?’
আসামির কাঠগড়ায় থাকা সাকা চৌধুরী কথা বলার অনুমতি চাইলে ট্রাইব্যুনাল তাঁর আইনজীবীকে বলেন, ‘আমরা তাঁকে কথা বলতে দেব না।’ তার পরও সাকা চৌধুরী বলেন, ‘এটা খুব নির্দোষ আবেদন। আপনাদের সার্টিফিকেট দেওয়ার কোনো দরকার নেই। এই আবেদন এ জন্য করা হয়েছে যে নাসিম সাহেবের কোর্টে যে প্রেজুডিস হয়েছে, তাঁর দায় যেন আপনাদের ঘাড়ে না বর্তায়। কিন্তু আপনি আইনজীবীর ওপর রাগ করছেন।’
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আসামি কি এভাবে কথা বলতে পারেন?’ এ সময় সাকা চৌধুরী বলেন, ‘ফাঁসি তো দিয়ে রেখেছেন, বেলজিয়াম থেকে ফাঁসি লিখে রেখেছে।’
ফখরুলকে ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘বিচারপতি নিজামুল হকের বিচার করতে আমরা এখানে আসিনি। কী আদেশ দিলে আপনি খুশি হবেন? আপনাদের কি এটা বলতে হবে, আমরা প্রতিজ্ঞা করে বলছি, জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। এটাই চাইছেন আপনি?’
পরে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আমি ৪০ বছর ধরে আইন পেশায় আছি। আমরা আইনজীবীরা অনেক সময় ঝগড়া করি, বিচারকের সঙ্গেও মাঝেমধ্যে ঝগড়া করি। কিন্তু এমন আবেদন কি কখনো করেছি? এই আবেদন খারিজ করে আদালত অবমাননার কার্যক্রম নেওয়া উচিত।’
এরপর আরও দুটি আবেদনের শুনানি হয়। এর মধ্যে একটি আইনমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন, অপরটি বিচারপতি নিজামুল হককে ট্রাইব্যুনালে এসে ব্যাখ্যা দেওয়ার বিষয়ে আবেদন।
আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগের আবেদনের বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল শুনানি শুরু করেন। এ সময় সাকা চৌধুরী মন্তব্য করলে মাহবুবে আলম বলেন, ‘চুপ থাকেন তো।’
তখন সাকা চৌধুরী চিৎকার করে অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশে বলেন, ‘চোপ, চোপ...।’
রাষ্ট্রপক্ষের কয়েকজন কৌঁসুলি এ পর্যায়ে সাকা চৌধুরীকে চুপ করতে বলেন। আসামিপক্ষের কয়েকজন আইনজীবী চিৎকার করতে থাকেন। এ সময় একজন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ও আসামিপক্ষে সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী পরস্পরের উদ্দেশে মারমুখী ভঙ্গিতে তেড়ে যান। তাঁদের মধ্যে গালাগাল বিনিময় চলতে থাকে। তাঁরা পরস্পরের হাড় ভেঙে দেওয়ারও হুমকি দেন। কিছুক্ষণ দুই পক্ষের মধ্যে বিকট হট্টগোল চলে। সাকা চৌধুরী হুংকার দিয়ে বলেন, ‘দুই বছর জেলে রাখছিস, একবার জেল থেকে বের হয়ে নিই...।’
পরিস্থিতি কিছু শান্ত হলে অ্যাটর্নি জেনারেল ট্রাইব্যুনালকে বলেন, এটা কী হচ্ছে? সাকা চৌধুরী তখন বলেন, ‘আমাকে প্ররোচনা দেওয়া হচ্ছে। আমি ভদ্রভাবে অংশ গ্রহণের চেষ্টা করছি।’
ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘আপনার অংশগ্রহণের দরকার নেই। আপনার আইনজীবী আছে।’
সাকা চৌধুরী বলেন, ‘আমার অধিকার আছে।’ মাহবুবে আলম বলেন, ‘না, নেই।’
পরে সাকা চৌধুরীর প্রধান আইনজীবী আহসানুল হক উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য সবার পক্ষে দুঃখ প্রকাশ করেন। পরে শুনানি অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম ৩ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে