Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ , ১ আশ্বিন ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.5/5 (54 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-৩১-২০১২

২ বছরের জন্য স্বাধীনতা পেল ইন্টারনেট! 

মিজানুর রহমান সোহেল



	২ বছরের জন্য স্বাধীনতা পেল ইন্টারনেট! 

গ্লোবাল ভিলেজ বলে পরিচিত ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল জাতিসংঘ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর হয়ে ওঠেনি। আগামী ২ বছর অর্থাৎ ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত আপাতত ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে না। অবাধ তথ্য আদান-প্রদান করার ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের বিকল্প নেই। শুধু তাই নয়, দাবি উঠেছে ইন্টারনেটকে মানুষের মৌলিক চাহিদার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হোক। এমন সময় সারা পৃথিবীর ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ করার পরিকল্পনা নিহায়েত বোকামি বৈ আর কিছু নয়। আর নিয়ন্ত্রণের যেসব কারণ বলা হয়েছে তা কোনভাবেই যথার্থ নয়। সম্প্রতি দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ) আয়োজিত ওই সম্মেলন অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে শেষ হয়। সদস্য দেশ ও সংস্থাগুলো ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কোনো সমঝোতায় পৌঁছতে পারেনি এ আয়োজনে। ফলে বিভিন্ন দেশে বর্তমান নিয়মনীতিতেই ইন্টারনেট ব্যবহার অব্যাহত থাকবে। সম্মেলনে যে নিয়মনীতি আলোচনা করা হয়েছে, সেগুলো সদস্যদের ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। চাইলে সেগুলো আরোপ কিংবা বাতিল করতে পারে সদস্য দেশগুলো। দেখা যাক সম্মেলনের ভেতর বাইরে কেমন পতিক্রিয়া হয়েছিল ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ নিয়ে।

সর্তসাপেক্ষে ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ মুক্ত
আইপি ঠিকানায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং শর্তভিত্তিক বিপণণ কৌশলকে সর্বোচ্চ সম্মতির সাপেক্ষে এ সম্মেলনে ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণে ছাড় দেওয়া হয়। এ সম্মেলনে অংশ নেওয়া বেশ কিছু দেশ ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণে আইটিইউয়ের ক্ষমতা প্রয়োগে জবাবাদিহিতা এবং আইন প্রয়োগের সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দাবি তোলে। এ ছাড়াও অনলাইন কনটেন্ট প্রচার ও নিয়ন্ত্রণে "অনলাইন কোড অব কনডাক্ট" মেনে চলার প্রতি সবগুলো দেশের প্রতি পরামর্শ দেওয়া হয়। এরই মধ্যে গুগল মোবাইলভিত্তিক প্রচারণার পক্ষে ইন্টারনেটের ব্যবহারকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রথমশ্রেণীর অনলাইন প্রকাশনা সংস্থা যেমন নিউ ইয়র্ক টাইমস সতর্কতার বিষয়টি আমলে নিতে বলেছে। একে "দ্য ইন্টারনেট কোল্ড ওয়্যার" বলে অভিহিত করা হচ্ছে। এদিকে বেশিরভাগ রাষ্ট্রই অনলাইন স্বাধীনতার বিষয়ে চুক্তি সই এবং নিয়ন্ত্রণের একক অধিকার ইউএনভিত্তিক না হয়ে রাষ্ট্রভিত্তিক হওয়া উচিত বলে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রাখেন। আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ আইনের আওতায় এবং ব্যক্তি তথ্যের প্রতি সর্বোচ্চ নিরাপত্তার বিষয়ে আইটিইউয়ের সিদ্ধান্ত মেনে চলতে সবগুলো সদস্য দেশগুলোকে পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রসঙ্গত, ইন্টারনেট বিশ্বের ভবিষ্যৎ ভাগ নির্ধারণের মতবিনিময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরে দু সপ্তাহব্যাপী সম্মেলনে ইন্টারনেট বিশ্বের মুক্ত চর্চায় নতুন করে তেমন কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি। এতে প্রতিটি দেশের অভ্যন্তরীণ সরকারের হাতেই থাকছে ইন্টারনেটের নিয়ন্ত্রণ তা নিশ্চিত হয়েছে।

ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ ক্ষতিকর হবে: বিশেষজ্ঞরা 
সম্মেলনে অংশ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষক মিলটন ম্যুয়েলার তথ্য এবং যোগাযোগপ্রযুক্তির অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক তথ্য বিষয়ে গবেষণা তথ্য তুলে ধরে এ নিয়ন্ত্রণ ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেন। এ ছাড়াও হার্ভার ল স্কুলের অধ্যাপক জ্যাক গোল্ডস্মিথও এ বিষয়ে ব্লগে লেখেন। সামাজিক প্রতিনিধি হিসেবে এ সম্মেলনে ব্যাঙ্গালুরুর ন্যাশনাল ল স্কুলের অধ্যাপক চিন্ময় অরুণ বলেন, ভারত নিজের প্রয়োজনানুসারেই ইন্টারনেট নীতি নিয়ে কাজ করবে। এ জন্য চুক্তি কোনো টেকসই সমাধান হতে পারে না। এ ছাড়া তথ্য অবাধ করতে টেলিযোগাযোগ খাতকে আরও সুসম্প্রসারিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। বেঙ্গালুরুভিত্তিক সেন্টার ফর ইন্টারনেট অ্যান্ড সোসাইটির পলিসি ডিরেক্টর প্রাণেশ প্রকাশ বলেন, এতে কোনো কনটেন্টে প্রবেশাধিকার খর্ব হবে না। আবার এতে ইন্টারনেট ব্যবহারও বাড়বে না। এসব পরিবর্তন হয় সাধারণত জাতীয় স্তরে। খুব উচ্চ মূল্যবোধ না থাকলে আন্তর্জাতিক স্তরে এ ধরনের নিয়মনীতির কোনো মানেই হয় না। এ সম্মেলনে অংশ নেওয়া সেন্টার ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড টেকনোলজির নীতিনির্ধারক ইমা ল্যানসো জানান, ইন্টারনেট ব্যবস্থাপনাকে টেলিযোগাযোগের মতো করে সরকারি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হচ্ছে। এতে অবাধ তথ্যপ্রবাহ বিঘ্নিত হবে। প্রাইভেসির দোহাই দিয়ে ইন্টারনেটে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা কোনোভাবেই মুক্তচর্চা এবং তথ্য স্বাধীনতার পক্ষে যায় না। এমনটাই বললেন দুবাই সম্মেলনে অংশ নেওয়া অনলাইন বিশেষজ্ঞেরা।

যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্রের কারণেই ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণে যায়নি 
১৯৮৮ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ আইন নির্ধারণ করে আইটিইউ। তবে এরপর এ আইনে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। তখন অবশ্য ইন্টারনেটও এত বহুল প্রচলিত ছিল না। তবে মাঝের বছরগুলোয় ইন্টারনেট যেভাবে প্রসারিত হয়েছে, তাতে অনেক জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। ইন্টারনেটকে কাজে লাগিয়ে অনেক ভালো কাজ যেমন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে, তেমনি একে ব্যবহার করে দুষ্কর্মও কম হয়নি। দুবাই সম্মেলনে একটা ভয় ছিল, শেষ পর্যন্ত হয়তো ইন্টারনেটের নিয়ন্ত্রণ জাতিসংঘের হাতে চলে যাবে। এমন আশঙ্কা থেকে যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশ এবং কিছু শীর্ষ প্রতিষ্ঠান এ ধরনের যেকোনো প্রস্তাবের বিরোধিতা করে চুক্তিতে উপনীত হতে অস্বীকার করে। এ জন্যই সব সিদ্ধান্ত ২০১৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।

গোপনে ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের পক্ষে ছিল রাশিয়া ও চীন! 
ইন্টারনেটের স্বাধীনতা নিয়ে দেশগুলোর মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্বের বিষয়টি স্পষ্ট। রাশিয়া ও চীনের মতো দেশগুলো গোপনে অধিকতর নিয়ন্ত্রণ আরোপের জন্য তদবির করে এ সম্মেলনে। আর সেটা আইটিইউর মাধ্যমে। জাতিসংঘ উন্নয়ন গ্রুপের অন্যতম সংস্থা এই আইটিইউ। এ দুটি দেশের মূল উদ্দেশ্য ইন্টারনেটের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর হাত থেকে সরিয়ে দেয়া। ভারত ও আজারবাইজানের মতো দেশগুলোও গোপনে এ সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানায়। ভারতীয় টেলিকম বিভাগের কিছু সূত্র জানায়, বিশ্বব্যাপী সম-অধিকারভিত্তিক আইপি অ্যাড্রেস পাওয়ার জন্য সিনোরুশ প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানায় ভারত।

ক্ষতিগ্রস্ত তবুও উইকিলিকসের পক্ষে মার্কিনরা
কিছু কিছু দেশ অবশ্য ইন্টারনেটের ওপর আইটিইউর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সন্দিহান। তাদের আশঙ্কা এটা মত প্রকাশের স্বাধীনতা, চিন্তাধারা প্রকাশ এবং অনলাইনে সরকারি তথ্যে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এমনকি ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিয়মনীতি বেঁধে দিতে পারে জাতিসংঘ, যা যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলোর জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশ্বের শীর্ষ ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান গুগল এরই মধ্যে এ চুক্তি থেকে ইন্টারনেটকে বাদ দেয়ার জন্য প্রচার চালাচ্ছে। নিউইয়র্ক টাইমসের মতো শীর্ষস্থানীয় মার্কিন প্রতিষ্ঠানও এ চুক্তির বিরোধিতা করেছে। অন্য পত্রিকা ফোর্বস চুক্তিটিকে বলছে, ইন্টারনেট নিয়ে শীতল যুদ্ধ। আবার এর উল্টো দিকও আছে। উইকিলিকসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর অনলাইন কার্যক্রমে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মার্কিনরা। তার পরও বিশ্বের বেশির ভাগ শীর্ষ ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানই যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক। দেশটি কখনই চাইবে না এসব প্রতিষ্ঠানের আধিপত্য খর্ব হোক।

চুক্তি হলেও ইন্টারনেটের ওপর নিয়ন্ত্রণ দেশভিত্তিকই রয়ে যাবে
অন্যরা অবশ্য মনে করছে, চুক্তি হলেও ইন্টারনেটের ওপর নিয়ন্ত্রণ দেশভিত্তিকই রয়ে যাবে। তথ্য ও যোগাযোগ নিয়ে অর্থনৈতিক রাজনীতিবিষয়ক মার্কিন গবেষক মিল্টন মুলার এবং হার্ভার্ডের আইনবিষয়ক অধ্যাপক জ্যাক গোল্ডস্মিথ মনে করেন, ইন্টারনেট স্বাধীনতা নিয়ে শঙ্কা আসলেই অমূলক। বেঙ্গালুরুর ন্যাশনাল ল স্কুলের অধ্যাপক চিন্ময়ী অরুন মনে করেন, চুক্তি অনুযায়ী ইন্টারনেট চালিত হলে তাতে আখেরে লাভ হবে প্রতিবন্ধীদের জন্যও।

ব্যক্তি গোপনীয়তা পুরোপুরি ব্যক্তির ওপরই নির্ভর করবে
সব বিষয় যে ভালো হবে, এমন নয়। ব্যক্তি গোপনীয়তা পুরোপুরি ব্যক্তির ওপরই নির্ভর করবে। কিন্তু তথ্য যাচাইয়ের আইটিইউর প্রস্তাব সত্যিই ব্যক্তি গোপনীয়তায় বিঘ্ন ঘটাবে। নজরদারির অন্যতম এ পদ্ধতির প্রয়োগ অন্তত মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো চাইবে না। অবশ্য সবার জন্য উন্মুক্ত তথ্যের ক্ষেত্রে এ ধরনের নজরদারি করবে না আইটিইউ। শুধু যে দেশগুলো চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে, সেগুলোয় আইটিইউর নজরদারি চালু হবে। যদি বাংলাদেশ ওই চুক্তি স্বাক্ষর করে তাহলে আমরা নজরদারির মধ্যে চলে যাবো। কিন্তু আমরা তা কোনভাবেই চাই না। ইন্টারনেট সব সময় অবমুক্ত থাকুক। জয় হোক ইন্টারনেটের।

লেখাটি তৈরি করতে বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকা, ব্লগ ও অনলাইন নিউজ পেপারের সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে।

 

(প্রিয় ব্লগ থেকে)


Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে