Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ১১ ফাল্গুন ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.6/5 (8 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১০-৩০-২০১১

জ্যাকপট জেতার সুযোগ বাংলাদেশের সামনে সাইদুজ্জামান

জ্যাকপট জেতার সুযোগ বাংলাদেশের সামনে সাইদুজ্জামান
সারাটা রাত ম্যাড়মেড়ে কেটেছে। স্বস্তিদায়ক কোনো অর্জন নেই। দিনশেষে সৌভাগ্য এল দুই হাত মেলে। একটা নম্বরে শুধু ওই 'দান'টা তো বটেই, সঙ্গে পুরো বছরের উপার্জন জুটে যাওয়ার মুহূর্ত-জ্যাকপট! ক্রিকেটের সঙ্গে গ্যাম্বলিংয়ের আবছা একটা সেতুবন্ধন আছে। জুয়ায় সাহসের চেয়ে ভাগ্যটাই বেশি দরকার। ক্রিকেটে সামর্থ্য আর সাহসের সঙ্গে ভাগ্যের অংশীদারিত্ব অন্তত কোনো ক্রিকেটার অস্বীকার করেন না। সৃষ্টিকর্তাকে সর্বান্তকরণে স্মরণ করে যেমন আজ শুরু হওয়া ঢাকা টেস্টে নামবেন ইমরুল কায়েস। একটা ভালো ইনিংস যাঁকে 'জ্যাকপট' জেতার আনন্দই দেবে। একই আনন্দ-বেদনার মাঝে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজও। চট্টগ্রামে ড্রর পর ঢাকা টেস্ট এখন সিরিজ নির্ধারক 'জ্যাকপট'ও!
কয়েক বছর আগে হলে ম্যাচের সঙ্গে সিরিজ জেতা নিয়ে খুব বেশি হৈচৈ হতো কি? ২০০২ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হোম সিরিজেও তো ঢাকার ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ার পর একই পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় এবং শেষ টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল চট্টগ্রামে। সেদিন কিন্তু এমন করে সিরিজ জেতার সম্ভাবনা নিয়ে টু-শব্দও হয়নি। তখন যে টেস্টের দৈর্ঘ্য বাড়ানোর ওপরই বাংলাদেশ দলের সাফল্য-ব্যর্থতা মাপা হতো! সদ্যই টেস্ট আঙ্গিনায় পা রাখা একটি দলের জন্য ড্র-ই জয়ের আনন্দে ভাসিয়ে দেওয়ার মতো ব্যাপার। ২০০৪ সালে আবারও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ ব্রায়ান লারার ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেন্ট লুসিয়ায় প্রথম টেস্টে হাবিবুল বাশার, খালেদ মাসুদ আর মোহাম্মদ রফিকের সেঞ্চুরির পর লারা প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলেন, 'পরের টেস্ট জিততে না পারলে আমি অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেব!' তাঁকে সেটি করতে হয়নি। জ্যামাইকায় দ্বিতীয় টেস্টে সে চ্যালেঞ্জে জিতেছিলেন ব্রায়ান চার্লস লারা।
সময়ের স্বাভাবিক নিয়ম মেনে মুশফিকুর রহিমের বাংলাদেশকে এমন চ্যালেঞ্জ এখন আর কোনো দলই জানায় না। ড্যারেন সামির বর্তমান ওয়েস্ট ইন্ডিজের সে আত্মবিশ্বাসও নেই। অবশ্য কোনো দলের আত্মবিশ্বাসেরও আধার দলটির অধিনায়ক। সামির মনে কি সে জোর আছে? অধিনায়কের আগে দল যদি ক্যারিবীয় একাদশ নির্বাচনের মানদণ্ড হতো, তাহলে কি আজ ঢাকা টেস্টে টস করার সুযোগ পেতেন ড্যারেন সামি? এমন প্রশ্ন বরাবরই সংশয়াচ্ছন্ন। বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের বাউন্সার ভীতির কথা জেনেও কেমার রোচকে ড্রেসিংরুমে বসিয়ে রাখছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। উপমহাদেশের উইকেট স্পিনসহায়ক_চিরায়ত এ বিশ্বাস মেনে নিয়েও অফস্পিনার শেন শিলিংফোর্ডকেও খেলাচ্ছে না ক্যারিবীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। এঁদের একজনকে খেলাতে হলে যে বাদ দিতে হয় অধিনায়ককে! স্রেফ নেতৃত্বগুণের কারণে আধুনিক ক্রিকেটে মাইক ব্রিয়ারলিদের আর অধিনায়ক হওয়ার সুযোগ নেই। সামি সে মাপের নেতা এখনো হতে পারেননি। বীতশ্রদ্ধ হয়ে একবার অ্যাডাম হোলিওককে ওয়ানডে অধিনায়কত্ব দিয়েছিল ইংলিশ ক্রিকেট বোর্ড। ক্রিকেটার বনাম প্রশাসক বিরোধে ড্যারেন সামির মাঝেই আপাত সমাধান খুঁজছে ক্যারিবীয় ক্রিকেট বোর্ড। হোলিওক কিংবা সামিরা যত না ক্রিকেটার, তার চেয়েও বড় 'স্টেটসম্যান'!
মুশফিক যেখানে সবটাই। রান করছেন। বছর দুই আগের চেয়ে কিপিংয়ে ভুলের মাত্রা কমিয়ে পুরোদস্তুর অলরাউন্ডার তিনি। অধিনায়কত্বের শুরুর দিন থেকে প্রতিনিয়তই আরো প্রস্ফুটিত ক্রিকেটার এবং নিখুঁত স্টেটসম্যান মুশফিকুর। অধিনায়ককে আগে ড্রেসিংরুমের আস্থা অর্জন করতে হয়। সে আস্থা অর্জনের বেশ কিছু শর্ত আছে। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে পারলে এমনিতেই ড্রেসিংরুমে কর্তৃত্বের ছড়িটা হাতে চলে আসে। তবে সঙ্গে যদি সমর্থন দিয়ে সহ-খেলোয়াড়দের আস্থাও অর্জন করতে পারেন, তাহলে তিনি শতভাগ নেতা। যেমন মুশফিক। সমর্থনটা শুধু ড্রেসিংরুমের অন্তরালেই দেন না তিনি। আকস্মিকভাবে ইমরুল কায়েসকে বাদ দেওয়ার শোরগোলের মাঝেও অবিচল অধিনায়ক মুশফিক, 'ওয়ানডেতে ওর (ইমরুল) যেমন পারফরম্যান্স, টেস্টে হয়তো তেমন করতে পারছে না। আবার দেখবেন, আমাদের দলে কিন্তু এমন কোনো ব্যাটসম্যান নেই যাঁর গড় ৪৫ বা ৫০। সাকিব আর তামিম ছাড়া অন্য কারোই গড় ৩০-এর ঘরে নেই। তাই শুধু ইমরুল এখন খারাপ খেলছে বলে ওকে এভাবে টার্গেট বানানো উচিত হবে না। আমাদের কারো গড়ই খুব ভালো না। সে নিজেও জানে। আমার এই টেস্টে সবচেয়ে বড় বাজি ইমরুলকে নিয়ে। আমি শতভাগ নিশ্চিত, ও এই টেস্টে রান করবে।' গত বছর অনুরূপ চাপের মধ্যেও ইমরুল সেঞ্চুরি করেছিলেন ক্রাইস্টচার্চে। মলিন রাত কি হাজার ওয়াটের আলোয় ভাসিয়ে দিতে পারবেন ইমরুল?
তাই বলে ইমরুলকে নিয়ে অধিনায়ক যে ফাটকা খেলছেন, তা কিন্তু নয়। মুশফিকের কাছে, 'আমাদের জন্য ওপেনিং খুব গুরুত্বপূর্ণ।' গত এক-দেড় বছরের সুখস্মৃতি আঁকড়ে ধরেই তামিম ইকবালের উদ্বোধনী সঙ্গী হিসেবে ইমরুলকে পছন্দ মুশফিকের। কারণ এটা বাংলাদেশ অধিনায়কের কাছে, 'এটি আমাদের জন্য বড় এক ম্যাচ। আমি বলব, আমার ছোট্ট ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় ম্যাচ। এখানে হারানোর কিছু নেই, কিন্তু অর্জনের আছে অনেক।' সে অর্জনটা ম্যাচের সঙ্গে সিরিজ জয়ের গৌরব।
শেষ 'দান'টায় 'জ্যাকপট' জিততে পারবে বাংলাদেশ?

ফুটবল

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে