Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২০ , ১২ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (37 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ১২-২০-২০১২

হাড় ভাঙ্গা হালিমার নাম ওঠেনি যুদ্ধাহতদের তালিকায়!


	হাড় ভাঙ্গা হালিমার নাম ওঠেনি যুদ্ধাহতদের তালিকায়!

গুলির চিহ্ন স্পষ্ট, তবুও হালিমার নাম ওঠেনি যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায়। অর্থের অভাবে সঠিক চিকিৎসাও নিতে পারেননি তিনি। পাননি সরকারি কোনো সাহায্য। দেশ স্বাধীন হয়েছে, কেটে গেছে ৪১ বছর। অথচ হানাদার পাকিস্তানি সেনাদের গুলিতে ভাঙা হাড় জোড়া লাগেনি এখনও!

১৯৭১সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকি সেনারা কিশোরী হালিমাকে মুক্তিবাহিনীর আশ্রয়দানকারীর মেয়ে হিসেবে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে আহত করে। স্বাধীনতার পরে অর্থাভাবে উপযুক্ত চিকিৎসা সেবাও নিতে পারেননি।

এদিকে মহান বিজয়ের ৪১ বছর পার হয়ে গেলেও হালিমার ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। মেলেনি সরকারি কোনো সাহায্য। নাম ওঠেনি যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকায়। ট্রেন ইঞ্জিনের পোড়া কয়লার গুঁড়োর প্রলেপ ও লতাপাতার রসের লৌকিক চিকিৎসায় কোনোমতে প্রাণে বেঁচে যান তিনি।

পাঁচ সন্তানের জননী হালিমার পরিবার বর্তমানে অর্থাভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছে। তার স্বামী রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর বেপারীপাড়ার দরিদ্র কৃষক হাফিজ উদ্দিন মুন্সি।

জানা গেছে, মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দেওয়ার অপরাধে বিহারীরা পাকিসেনাদের দিয়ে তাদের পরিবারের সবাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে এবাদুল্লাহ মিস্ত্রীপাড়ায় হালিমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। বাবা-মা বাড়িতে না থাকায় তাকেই হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে বর্বর পাকিরা।

গুলি তার পিঠের ডান পাশ দিয়ে আড়াআড়িভাবে ঢুকে হাতের কনুইয়ের উপরের অংশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। মৃত ভেবে পাকিরা চলে যাওয়ার পর মা হাজরা বেগমের সেবা-যত্নে জ্ঞান ফেরে। কিন্তু গুলিতে তার ডান কাঁধের পেছনের ভেঙে যাওয়া হাড় আর জোড়া লাগেনি। যার দুঃসহ যন্ত্রণা এখনও পর্যন্ত বইতে হচ্ছে হালিমাকে।  

হালিমা বেগম বলেন, “দেশ স্বাধীন হয়েছে তাই অনেক ভালো লাগে। কিন্ত পাকিবাহিনীর গুলিতে আমার ভাঙা হাড় জোড়া লাগেনি। ৪১ বছর ধরে এ যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছি। সরকার আহত মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় আমার নাম অন্তর্ভুক্ত করলে কষ্ট কিছুটা হলেও কমতো।”

হালিমার প্রতিবেশি দৌলতদিয়া আক্কাছ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল আজিজ বলেন, “হালিমা বেগম পাকিসেনাদের গুলিতে আহত হয়েছেন। সরকারের উচিত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় এই নারীর নাম অন্তর্ভুক্ত  করা।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আব্দুস সামাদ মোল্লা বলেন, “হালিমার ব্যাপারে আমাদের সঙ্গে কেউ যোগাযোগ বা সাহায্যের জন্য আসেনি। খোঁজ নিয়ে সাধ্যমতো সাহায্য করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে বিষয়টি জানানো হবে।”

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছরোয়ার হোসেন জানান, সরকারি সাহায্য ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় নাম অর্ন্তভুক্তির জন্য হালিমাকে আবেদন করতে হবে। সেটি যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

রাজবাড়ী

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে