Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২০ , ১০ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.1/5 (41 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৯-০৮-২০১৭

‘ধর্ষকদের গ্রেফতার না করলে আত্মহত্যা করবো’

‘ধর্ষকদের গ্রেফতার না করলে আত্মহত্যা করবো’

সাতক্ষীরা, সেপ্টেম্বর- ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রীর সংবাদ সম্মেলনঅসামিদের গ্রেফতার না করলে গণধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রী আত্মহত্যা করবেন বলে সংবাদ সম্মেলন করে ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার (৮ সেপ্টেম্বর)সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন ধর্ষণের শিকার এসএসসি পরীক্ষার্থী।  গত ১১ আগস্ট সাতক্ষীরার একটি গ্রামে গণর্ষণ শেষে অচেতন অবস্থায় স্কুলছাত্রীকে ফেলে রেখে যায় ধর্ষকরা।

ঘটনার এক মাসেও পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার না করায় সংবাদ সম্মেলন করেন স্কুলছাত্রী। সংবাদ সম্মেলনে স্কুলছাত্রী ঘোষণা দেন— ‘আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না। তাই পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার না করলে আমি আত্মহত্যা করবো।’

স্কুলছাত্রী লিখিত অভিযোগে বলেন, ‘পুলিশ মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে মামলার অসামিদের গ্রেফতার করছে না। গণধর্ষণের পর স্কুলছাত্রী সুস্থ্য হয়ে থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ ওই সময় মামলা নেয়নি। পরে গত ২০ আগস্ট সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করি। আদালত মামলাটি এফআইআর হিসেবে গণ্য করে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য শ্যামনগর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে পুলিশ মামালা রেকর্ড করলেও আসামিদের গ্রেফতার করছে না। আমারা জানতে পেরেছি যে, পুলিশ আসামিদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়েছে। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে।’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে স্কুলছাত্রী জানান, বাবা মুনছুর আলী দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অন্যত্রে বসবাস করেন। মা দীন মজুরের কাজ করে তাকে পড়া লেখা শেখাচ্ছেন। স্থানীয় একটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২০১৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন। স্কুলে যাওয়া-আসার পথে কালিগঞ্জ উপজেলার খড়িতলা গ্রামের আহম্মাদ শেখের ছেলে অশিক ও শ্যামনগর উপজেলার ধাপুয়ার চক গ্রামের গফ্ফার সরদারের ছেলে রফিকুলসহ কয়েকজন প্রায়ই তাকে কুপ্রস্তাব দিতো। বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করলে আশিক ও রফিকুলরা তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং তাকে প্রকাশ্যে অপহরণ ও ধর্ষণের হুমকি দেয়।

এ অবস্থায় আমার মা তাদের ভয়ে স্কুলছাত্রীর মা তার বিয়ের জন্য পাত্র খুঁজতে শুরু করেন। গত ৮ আগষ্ট যশোরের মনিরামপুর এলাকা থেকে একটি পাত্র পক্ষ স্কুলছাত্রীকে দেখতে যান। তারা ফিরে যাওয়ার পথে অশিক ও তার সহযোগীরা শ্যামনগর থানার পুলিশকে দিয়ে তাদের আটক করায়। খবর পেয়ে স্কুলছাত্রীর মা পাত্রপক্ষকে ছাড়ানোর চেষ্টা করেন। গত ১১ আগস্ট সারাদিন তার মা থানায় অবস্থান করেন। বৃদ্ধা নানীকে নিয়ে বাড়িতে থাকা অবস্থায় রাত ৮টার দিকে আশিক, রুহুল আমিন ও পবিত্র কুমার মণ্ডল অব্দুর রহিমের ব্যবহার করা সিআরভি গাড়ী নিয়ে তাদের বাড়ির সামনে গিয়ে পুলিশের কাছ থেকে পাত্রপক্ষকে ছাড়ানোর কথা বলে স্কুলছাত্রীকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। কিন্তু তাকে থানায় না নিয়ে এলাকারা আব্দুর রহিমের বংশিপুরের রোজা ব্রিক্সের দোতালা ভবনের একটি কক্ষে নিয়ে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করে তারা। গণধর্ষণের এক পর্যায়ে স্কুলছাত্রী অচেতন হয়ে পড়লে ইসমাইলপুর রাস্তার পাশে একটি ফাঁকা স্থানে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তার মা উদ্ধার করে শ্যামনগর থানায় নিয়ে যায়। পুলিশের পরামর্শে চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করায়। ধর্ষণের কয়েকদিন পর সুস্থ হয়ে শ্যামনগর থানায় ধর্ষকদের বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলে পুলিশ আর  মামলা নেয়নি।

শেষ পর্যন্ত উপায় না পেয়ে ২০ আগস্ট সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেন স্কুলছাত্রী। মামলার পর পুলিশ আসামিদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় আশিক ও তার সহযোগীরা মামলা প্রত্যাহারের জন্য স্বপরিবারে  হত্যার হুমকি দিচ্ছে। এ ঘটনায় স্কুলছাত্রীর মা গত ৩ সেপ্টেম্বর জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।

সাতক্ষীরা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে