Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট, ২০১৯ , ৭ ভাদ্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (20 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-১৬-২০১৭

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সুত্রধর: চলচ্চিত্রের ফেরিওয়ালা-তারেক মাসুদ

হাবিবুর রহমান মাসুদ বাবু


মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সুত্রধর: চলচ্চিত্রের ফেরিওয়ালা-তারেক মাসুদ

বিস্ময়কর হলেও সত্য তারেক মাসুদ নেই ! তাই বলে থেমে নেই চলচ্চিত্রের কোন উৎসব আমেজ, প্রদর্শনী, সেমিনার, চলচ্চিত্র নিয়ে প্রতিযোগীতা ও গবেষনা।যে মানুষটি বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে-মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তার ‘মুক্তির গান’ চলচ্চিত্র নির্মাণ করে গণজাগরণ সৃষ্টি করেছিল-বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে দিয়েছিল আন্তর্র্জাতিক স্বীকৃতি সম্মান। যিনি চলচ্চিত্র ফেরী করে-বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাসকে পৌছে দিয়েছিল বর্তমান প্রজন্মের কাছে! এ দেশের ইতিহাসের সুত্রধর চলচ্চিত্র নির্মাতা ‘তারেক মাসুদের সমাধি প্রাঙ্গন ও পরিবার-আজ কেন অবহেলিত, কি শুন্যতায় কি অপূর্নতায়! মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সুনজর থাকা সত্য কেন তারেক মাসুদ কম্পেলেক্স-বা স্মৃতি যাদুঘরের উন্নয়ন কার্যক্রম স্থগিত ? বাংলাদেশের চলচ্চিত্র উন্নয়নে তারেক মাসুদের যে অবিস্মরণীয-অবদান তা গৌড়ব গাথাঁ।দেশপ্রেমিক এই-মানুষেটির-জন্য কিছু করার দায়বদ্ধতা কি শুধুমাত্র পরিবারের ? না সরকারের ? সে দায়বদ্ধতার কথা-প্রত্যাশার কথা এবং তারক মাসুদের স্মৃতি,সম্মান ও তার শুন্যতায় আমাদের পথচলা ও ভবিষ্যতের প্রত্যাশা ।১৩ আগষ্ট ২০১৭ তারেক মাসুদের ৬ষ্টতম মৃত্যু দিবসকে  শ্রদ্ধায় স্মরণ করে-সহদর হিসেবে আমার এই লেখা। 

ছয় বছর হলো তারেক মাসুদ চলে গেছে না ফেরার দেশে। তার ফিরে আশার প্রত্যাশা আজো গভীর বেদনায় অনুভব করি। যার আশাবাদি প্রানবন্ত মূখ এ দেশের মানুষের প্রত্যাশাকে রঙিন স্বপ্ন দেখাতো। আমার প্রিয় ভাই-তারেক মাসুদ-ছেলেবেলায় যার কাছে সত্যজিৎ রায় মৃনাল সেন ঋতিক ঘটক, জীবনান্দ দাস, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজুরুল ইসলাম সহ আরো অনেক বিশ্বের কবি সাহ্যিতক, লেখক ও মহা মনিষেদের নাম শুনেছি। বিছানায় সুয়ে গভীর রাত অবধি গল্প শুনেছি পথের পাচালী, অপুর সংসার সহ বিখ্যাত সব চলচ্চিত্রের। সে বয়সে তারেক ভাইয়ের কাছে শুনেছি কার্লকাক্স, মাওসেতুং, লেলিনের মত বিভিন্ন ঐতিহাসিক ব্যাক্তিদের পরিচিতি। তৎকালিন বিশ্ববিদ্যালয় পড়াকালিন সময়-বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি হলে গ্রামের বাড়ীতে আসা মাত্র জমে উঠতো তারেক ভাইয়ের আড্ডা, ক্রিকেট খেলা, গান শোনা, পাড়ার সব বয়সী ছেলে মেয়েরা যেন উৎসবে মেতে উঠতো তারেক ভাইয়ের সানিদ্ধে। শুধু পরিবারেই নয়, আমাদের এলাকায় সর্বত্রই তারেক মাসুদ খুব জনপ্রিয় ছিল। প্রিয় এই মানুষটিকে হারিয়ে দেশের কতটা ক্ষতি হয়েছে জানি না, কিন্তু আমাদের পরিবার হয়েছে অভিভাবকহীন। যার শুন্যতা শুধু অনুভবের, বাস্তবে যা দেখে তা অনুমান করা যাবে না-আমরা কতটা অসহায় নিরুপায় নিরাপদত্তাহীন, আমাদের জীবনের পথচলা। আমাদের সব আকাঙ্খা বা প্রত্যাশা পিতৃতুল্য ভাই তারেক মাসুদের অর্থের কাছে নয়, তার উদার ভালবাসার কাছে বড় বেশী নির্ভরশীল ছিল। যা প্রকৃতি মেনে নিতে পরেনি, হয়ত মেনে নিতে পারেনি জঙ্গিবাদ বা তারেক মাসুদের প্রতিহিংসা পরায়ন বন্ধুরা, এখন মনে হচ্ছে তারা চাননি তার বিশ্বব্যাপী সুখ্যাতি, সমৃদ্ধি। তাই হয়ত লুকানো কোন অভিমান নিয়ে কাউকে না জানিয়ে আমার প্রিয় ভাই চলে গেল না ফেরার দেশে। তারেক মাসুদের ফিরে না আসার বেদনার চেয়ে অকালে-অপ্রাপ্ত বয়সের তার মৃত্যু যন্ত্রনা, মৃত্যু-কষ্ট এবং তার বেঁচে থাকার প্রয়োজন-আমি বেশী অনুভব করি। প্রকৃতির কোন কোন অপ্রত্যাশিত ঘটনা যেমন মেনে নেওয়া যায় না, আবার মনেও নেও যায় না! তারেক মাসুদের এই মৃত্যু মনে বা মেনে নিতে পারিছিনা-আমরা। তারেক মাসুদের এভাবে প্রস্থান বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অপুরনীয় ক্ষতি হলেও প্রকৃত পক্ষে একজন মেধাবী প্রতিযোগীর শূন্যতায়, বেশী লাভবান হয়েছেন তার অনুসারী সহযোদ্ধা প্রতিদ্বন্দি বন্ধুরা। কারন আজ মনে হচ্ছে তারেক মাসুদের বেচেঁ থাকার মূল্যায়নটা ছিল কারো কারো জন্য লোভের, লাভের এবং রীতিমত ভয়ের। কারণ তারেক মাসুদের কোন শুভাকাঙ্খী বন্ধু স্বজন সহযোদ্ধা আজ অবধি এই পরিবারের কোন খোজ রাখেননি। এ বিষয়টিও তারেক মাসুদের পরিবারের কাছে বিশ্বয়কর এবং বিভৎষ্য ব্যদনার। 

১৩ আগষ্ট, ২০১১ কাগজের ফুল চলচ্চিত্রের স্যুটিং লোকেশন পরিদর্শন শেষে মানিকগঞ্জ থেকে বাসায় ফেরার পথে-না ফেরার দেশে চলে গেছে তারেক মাসুদ। এটা দূর ঘটনা না হত্যা কোনটাই মেনে নিতে পারেনি আমার পরিবার এবং গোটা দেশ-জাতী। তারেক মাসুদের শুন্যতা তাকে না দেখার যন্ত্রনা, না পাওয়ার আকাঙ্খা রীতিমত তারেক মাসুদে পরিবারে জীবন ধারাকে আলাদা করে দিয়েছে। তারেক ভাইয়ের অভাবে মাঝে মাঝে নয়-সবসময়ই মনে হয় আমার বেচেঁ থাকাটা অর্থহীন, জীবনটা উপভোগ্যহীন, সব ভাল মন্দ কেমন যেন-গুলিয়ে ফেলেছি। তবু অতৃপ্ত যন্ত্রনা নিয়ে বেচেঁ আছি¬- তার সস্মৃতি বিস্মৃতির না ফেরার বেদনা কষ্ট এবং সহনীয় যন্ত্রনাকে অবলম্বন করে। তারেক মাসুদের সব স্মৃতি আমার কাছে অম্লান, কোন ভাবেও ভুলা যায় না তারেক ভাইয়ের স্মৃতি-প্রীতি। ছোট ভাই হিসেবে খুব বেশী কাছ থেকে তারেক মাসুদকে দেখেছি বুঝেছি- না বুঝে অনেক যন্ত্রনাও দিয়েছি। আমার দেওয়া সব যন্ত্রনাই সে মেনে নিয়েছে রীতিমত সহ্য করেছে, কখনই সে আমার দেওয়া যন্ত্রাকে বিদ্রুপে বা কোন প্রকার রোশানলে-ফিরিয়ে দেয়নি বরং-ভালবাসা দিয়ে আমাকে সংশোধন করার চেষ্টা করেছে। তারেক মাসুদের কছে এটাই সবচেয়ে বেশী শিক্ষনীয় ছিল তা হলো তার বিনয়, ভালাবাসা ও অন্যের জন্য ত্যাগ স্বীকার যা দিয়ে পৃথিবীর যে কোন মানুষকে জয় করা সম্ভভব। তারেক মাসুদের যা কিছু ভাল তার সবটুকু বিশ্বব্যাপী ফুলের সুবাসের মত বিলিয়ে দিয়েছিল। তার  কাছে আমি দায়বদ্ধ আর তারেক মাসুদের কাছে এ দেশ ঋনি। তার ঋনের দায় পরিশোধের কোন উপায় হয়ত আমার নেই, কিন্তু দেশের আছে ! তারেক মাসুদের অবদানের মূল্যায়ন কতটুকু হচ্ছে এই অনুসুচনায় আমি একজন সংস্কৃতিক কর্মী হিসেবে এক ধরণের অপরাধবোধ নিয়ে বেঁেচ থাকার চেষ্টা করছি। তারেক  মাসুদের মত মহৎ প্রান মানুষের ভাই হিসেবে আমি গৌরববোধ করি।পরিবারের প্রতি তারেক মাসুদের যে অবদান তা বর্তমান সময় বিরল। আজ তারেক মাসুদের শুন্যতা শুধু আমি  বা পরিবার বর্গ নয় এ দেশ জাতি ভীষনভাবে অনুভব করছে কঠিন বাস্তবতায়। একজন ন্যায় পরায়ন সৃজনশীল ও বিচক্ষন অভিভাবকের ভুমিকা সব সময় পালন করেছে তারেকে মাসুদ। তারেক মাসুদের অবদান অসামান্য-আমার পবিারের কাছে। তাই তার শুন্যতা অভাববোধ আমাদের পরিবারকে এলমেলো করে দিয়েছি। বিশ্ব বরেণ্য এই চলচ্চিত্র শিল্পীর পরিবারের প্রতি কোন সুনজর নেই সরকারের এবং তারেক মাসুদের শুভাকাঙ্খী সহযোদ্ধা বন্ধুদের। তারেক মাসুদকে অবলম্বন করে যার যা প্রয়োজন তার তত টুকু গ্রহণ শেষ-তাই ক্যাথরিন মাসুদও-তার সন্তানকে নিয়ে আমিরিকায় চলে গেছে-এখানেও আমরা অসহায়-নিরূপায়। তারেক মাসুদের মত একজন বিশ্বস্ত অভিভাবকের অভাব আমাদের পরিবারের কাছে কঠিন এক বাস্তবতা। নির্মল সদা আলাপী হাস্য উজ্জল এই মানুষটি নেই-এটা ভাবতেই চোখ জলে প্লাবিত হয়। এই কষ্টের কি নাম কতটা ব্যদনা ভরা আমি বুঝাতে পারবো না-শুধু বুঝি ভীষন কষ্ট হয় !

তারেক মাসুদ নামে এই দেবতুল্য মানুষটি ছিল-আমাদের পরিবার পরিজনের পথপদর্শক, একজন আলোকিত মানুষ যার আলোতে আমরা সুপথ খুজে পেতাম-চিন্তামুক্ত হয়ে ধাবিত হোতাম ভবিষ্যতের পথে। বাবার ভালবাসা ¯েœহ মমতায় আমরা সমৃদ্ধ ছিলাম-বাবার সীমাবদ্ধতার কারনে- তাকে সামান্য কম পেয়েছি তা বলবো না-তবে তারেক ভাইয়া আমাদের পাশে শুধু-নয়, জীবনের প্রতিটি প্রয়োজনে ছিল পিতার মত। আমাদের জীবন ধারণের সমস্ত উপায় বা সমস্যা সমাধান সবই ছিল তারেক মাসুদের জানা। আজ সে ভাইটি বেচেঁ-নেই তবু তার দেওয়া সম্মানী বর্তমানেও গ্রহণ করছি, আমার সীমাবদ্ধতা আছে বলে-এটা ক্যাথরিন মাসুদের উদারতা। আর ক্যাথরিন আছে বলেই, তারেক ভাইয়ের রেখে যাওয়া সকল সম্পত্তি তার নিয়ন্ত্রে  নিরাপদ। ক্যাথরিন মাসুদ আছে বলেই আমাদের জীবন যাপন নিরাপদ ভাবে-ভবিষ্যতের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তবু কেন যেন আমরা পরিবারের সবাই খুব বেশী কষ্টে আছি-দুঃখ যন্ত্রনা নিয়ে বেচেঁ থাকার জন্য রীতিমত লড়াই করছি। স্ব-স্ব-ক্ষেত্রে আমরা সীমিতভাবে প্রতিষ্ঠীত হলেও পরিবারিক জীবন এবং জীবিকার অণ্যেষনে আমাদের প্রত্যেকের স্বাছন্দে পথচলার একমাত্র অবলম্বন ছিল-তারেক মাসুদ-অন্য কেউ নয়। কিন্তু আজ আমাদের পরিবারের কাছে তা সোনার হরিনের মত, যা প্রকাশিত হলে তারেক মাসুদকে নিয়ে যারা কাজ করছে গবেষনা করছে বা তারেক মাসুদের স্মৃতি চারণ নিয়ে ব্যস্ত তাদের বিশালতা মৃয়মান হবে। কারণ এই উচ্চ শ্রেনীর তথাকথিত সংস্কৃতিবান মিডিয়া ব্যাক্তিরা স্বার্থ লোভী সৌজন্যে বিশ্বাসী-বাস্তবে তারা হিপোক্রেট।

তারেক ভাইয়ের পাওয়া ২১ শে পদকটি আমার মায়ের কাছে মহা-গৌরবের হয়ত এখনো সে স্পর্শ করেনি। তারেক মাসুদের মায়ের লোভ ২১ শে পদকের প্রতি নয়, ছেলের রেখে যাওয়া সম্পত্তির দিকে নয়, সে চায় তারেক মাসুদের সমাধির উন্নয়ন হউক, সংস্কার হউক, তার সন্তান যেন রোদ বৃষ্টি খোলা জায়গায় আর না থাকে। তারেক মাসুদের অবহেলিক সমাধি অন্ধকারে না থাকে। অচিরেই যেন আলোকিত হয় প্রিয় সন্তানের সমাধি প্রাঙ্গন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত তারেক মাসুদের বাড়ীতে তারেক মাসুদ স্মৃতি কম্পেলেক্স বা স্মৃতি যাদুঘর-এর কোন অগ্রগতি নেই-যদিও আমরা এই কম্পেলেক্সটি হওযার জন্য-আমাদের সব সম্পত্তি তারেক মাসুদ মেমোরিয়াল ট্রাস্টে দান করে দিয়েছি। বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর কাছে তারেক মাসুদের মা সহ এলাকাবাসি ও দেশবাসির এটাই প্রত্যাশা-তারেক মাসুদের গ্রামের বাড়ীতে যে স্মৃতি যাদুঘর বা একটি ফিল্ম ইনিষ্টিটিউট হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তা যেন অচিরেই শুরু হয়। যদি জমি অধিগ্রহণ প্রয়োজন হয়-সে ব্যাপারেও পদক্ষেপ গ্রহণ করে তারেক মাসুদ মেমোরিয়াল ট্রাস্টের অবকাঠামোগত উন্নয়নের কার্যক্রম উদ্বোধন করার অনুরোধ রইল । 

তারেক মাসুদ অনেক অতৃপ্ত  বাসনা স্বপ্ন-দূঃস্বপ্ন এবং কঠিন বাস্তবতাকে মনে ধারণ করে অভিমানে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছে।। তার অভিমান কি ছিল তা কেউ জানে না-কারণ মানুষের জানার বোঝার আগ্রহ সীমাবদ্ধ, দেখানো কিছু স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান বাস্তবায়নের ভেতর প্রলুব্ধ। যে দুঃখ কষ্ট- দুরবীসহ যন্ত্রনা এবং অনাহারে, অনিদ্রায়, তারেক মাসুদ নিজেকে প্রতিষ্ঠীত করেছিল- কখনোই আত্ম মর্যাদা সম্মানের কাছে পরাজয় বরণ করেননি। প্রভাব প্রতিপত্তিশালী আত্মীয় পরিজনের কাছে কখনই ছোট হননি। তারেক মাসুদ জীবনকে উপভোগ করতো পরিবার পরিজন নিয়ে, আমরা তার স্বপ্ন এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নের একটি অংশ ছিলাম-এটা ভীষন সত্য। কিন্তু এক ধরনের সীমাবদ্ধতা তাকে নিস্তেজ করে দিত-তবু এ সব সীমাবদ্ধতার ভেতর দিয়ে আমরা সবসময় উলদ্ধি করতাম-আমার একজন ভাই আছে, সে পিতার মত বটবৃক্ষ, আমাদের পরিবারের কর্নধর। বাবা মা ভাইয়ের বোনের সমস্ত পরিবারের সকল সমস্যা সংকটের তারেক ভাইয়া ছিল একমাত্র নির্ভশীল-উপায় দেবদূতের মত। 

তারেক মাসুদের জীবনের উৎথানের সুত্র বা ইতিহাস সিনেমার গল্পের মত রঙিন এ কথাটি যেমন সত্য, তেমনি এর-ভেতরও রহস্য ছিল জীবন বিনিময়ে সে কতটা সুখী-সমৃদ্ধ ছিল। পরিবারের ভাই বোন ভাস্তি ভাগ্নি এমন কি পারা প্রতিবেশী সহ সবাইকে নির্ভরশীল করে রেখেছিল-শুধু ভালবাসা বিনিময়ে। যে কারনে তারেক ভাইয়ের উপড় নির্ভরশীলতা ছিল আমাদের সবার স্বভাব সুলভ-অভ্যেস। নিজের কিছু সীমাবদ্ধতার কারনে সব সময় সব কিছু ইচ্ছা-চাহিদা মত করতে পারেনি, কারণ অদৃশ্য একটি সীমাবদ্ধতা তারেক ভাইকে কষ্ট দিত। কখনো কখনো আমার  মনে হত এই মানুষটির জীবন যাপন এক ধরণের অলিখিত চুক্তিতে সীমাবদ্ধ। বুঝতে অসুবিধা হতো না-নানা কর্ম পরিকল্পনার ভেতর, আমাদের পরিবার ছিল-তারেক মাসুদের ভাবনা বা স্বপ্নের আর একটি অংশ। তাকে অনেক স্বপ্ন পরিকল্পনা লোভে-লাভে বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা চলছে-যেখানে আমাদের স্থান নেই । আমার ভাইয়ের মতই আমরা সহজ সরল-তাই সব সময়ই- আমরা সব ধরণের সুবিধা থেকে আমরা বঞ্চিত অবহেলিত। তাইতো কঠিন বাস্তবতায় সর্বক্ষণ অনুভব করি আমার ভাইয়ের শুন্যতা-অর্থ সম্পদ কি রেখেছে জানি না ! জানার লোভ-আগ্রহ চেষ্টা কোনটাই আমাদের নেই। তবে যে ঐসহ্য উত্তরাদিকার তারেক মাসুদের একমাত্র সন্তান আমাদের কাছ থেকে অনেক দূরে-নিশাদ বিগহাম পুত্র মাসুদ শুধু মাত্র মায়ের সন্তান। মায়ের সন্তান হলেও নিশাদ-বাংলাদেশের সন্তান তারেক মাসুদের সন্তান, তাই নিশাদ বড় হয়ে যেন বুঝতে পারে দেখতে পায় ওর বাবা বাংলাদেশের একজন অন্যতম মেধাবী দেশ প্রেমিক মানুষ ছিল। যে মানুষটি বাংলাদেশের সংস্কৃতি ইতিহাস ঐতিহ্যকে বিশ্ববাসীর কাছে সমৃদ্ধ করেছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য আজো তার সমাধি প্রাঙ্গন সাধাণভাবে অবহেলায় পড়ে আছে -কিন্তু কেন ? প্রতিদিনই তারেক মাসুদের সমাধি প্রঙ্গনে দর্শনার্থী আসে-কিন্ত দেখতে পায় অবহেলিত একটি কবর আর কিতুই দেখতে পায় না। এ লজ্জা স্থানীয় পৌর-পিতা, উপজেলা, জেলা প্রশাসক জেলা প্রশাসন সহ জেলা জনপতি নিধিদের বিচলিত না করলেও সাধারণ মানুষ বুঝতে চায়, কেন তারেক মাসুদের সমাধির সংস্কার বা উন্নয়ন হচ্ছে না।

 ছয় বছর হয়ে গেলো তারেক মাসুদের সমাধির ও কম্পেলেক্স-এর  কোন উন্নয়ন অগ্রগতি নেই। যে- দেশ জাতি এবং মানুষের কল্যানে নিজেকে নিবেদন করেছে তার সমাধি প্রাঙ্গন আজ কেন অবহেলিত ? একজন জনপ্রতিনিধি, সমাজকর্মী বা সাংস্কৃতিক কর্মী হিসেবে অবলোকনের দায়িত্ব বা দায়ভার থাকলেও আমরা সংস্কৃতিবান মানুষেরা সংস্কৃতির চর্”ার ভেতর দিয়ে নিজের উন্নয়ন সাধনা করি। ব্যক্তিগত উন্নয়নের সার্থে আমরা বিবর হয়ে যাই, হয়ে যাই বিবেকহীন। ঋতিক কুমার ঘটকের চীর চেনা সেই চলচ্চিত্রের সংলাপ ‘আমরা বলি কিন্তু করি না’। কিন্তু বলা এবং করার সাথে নিবির সম্পর্ক থাকলে প্রেম ভালবাসা, মানুষের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা বিনিময় স্থায়ী হতো এবং উন্নয়ন হতো দেশ জাতি এবং মানুষের। তবেই পরাশক্তি-অপশক্তি, জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠার সাহস পেত না। প্রতিহিংসা পরায়ণ মানুষ নিজের সার্থে পরাশক্তি অপশক্তি মৌলবাদ জঙ্গিবাদকে কখনো কখনো প্রশ্রয় দেয় বলেই সুস্থ মানবতার কাছে দেশ জাতির উন্নয়ন এবং রাষ্ট্রের শত্রুর কাছে আমরা পরাজিত হবার উপক্রম হই ।

দেশের কল্যানে নিবেদিত প্রয়াত মানুষদের স্মরনে সব শ্রেনীর মানুষের সামান্য বিনিয়োগ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। শুধু তারেক মাসুদ নয় এ দেশের সুখ সমৃদ্ধি ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষন ও সামাজিক সাংস্কৃতিক অবকাঠামোগত উন্নয়নে সহ মহান মুক্তিযুদ্ধে যাদের অবদান আছে তাদেরকে মূল্যায়ন করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। আমরা যুদ্ধ অপরাধী নিজামী, আলী হোসেনের মত কুখ্যাত-অমানুষদের এবং দেশ বিরোধী শত্রুদের গলায় মালা দেই গাড়ীতেতে পতাকা তুলে দিয়েছি, রাজাকারের সন্তানদের জনপ্রতিনিধি হবার সুযোগ দিচ্ছি, কিন্তু যারা দেশের-দশের সুনাম সমৃদ্ধি ইতিহাস ঐতিহ্যকে সঠিকভাবে তুলে ধরেছে সংরক্ষন করছে-তাদের করছি অবজ্ঞা। তাহলে এই মুক্তিযুদ্ধ এই স্বাধীনতার মূল্য কি ? যারা দেশ ও জাতির শত্রু তারা কখনই মনে প্রানে চাইবে না তারেক মাসুদের সমাধির সংস্কার হউক-তার গ্রামে গড়ে উঠুক তারেক মাসুদ স্মৃতি কম্পেলেক্স- এখানেও কু-রাজনীতি আছে তাই, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কাছে কোন বিশেষন-বিশ্লেসন ছাড়াই প্রত্যাশা করছি, তারেক মাসুদ মেমোরিয়াল ট্রাস্টের তত্ত্বাবধানে ‘তারেক মাসুদ কম্পেলেক্স-এর অবকাঠামেগত কার্যক্রম শুরু ্হউক।  

তারেক মাসুদের যা কিছু অর্থ-সম্পত্তি নিয়ে গড়ে তুলা হয়েছে তারেক মাসুদ মেমোরিয়াল ট্রাস্ট যার চেয়ারপার্সন তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ। তারেক ভাইয়ের মৃত্যু যন্ত্রনা বুকে নিয়ে ক্যাথরিনের অনুরোধে সেই সময়-তারেক মাসুদ মেমোরিয়াল ট্রাস্টে দান করে দিয়েছি আমাদের গ্রামের বাড়ী বসবাসের জায়গা টুকু কিন্তু এই ট্রাস্টি বোর্ডে সামান্য সদস্য হবার যোগ্যতা অর্জন করতে পারিনি। এই বিষয়টি নিয়ে আমার/আমাদের কোন হতাশা নেই কষ্ট নেই, আছে অবহেলা বা অসম্মানের প্রতি অনুরাগ। তারেক মাসুদের সমাধি বা কমপ্লেক্স গড়ে উঠবে, আমার প্রিয় ভাই চীর স্মরণীয় হয়ে থাকবে এটা আমার আমাদের স্বপ্ন-প্রত্যাশা। কিন্ত বিগত ছয় বছরেও তারেক মাসুদের সমাধি ও কম্পলেক্স-এর কোন সংস্কার বা অবকাঠামোগত উন্নয়ন নেই। তারেক মাসুদের পরিবার এবং দেশবাসির পক্ষ থেকে আমাদের জোড়ালো দাবি তারেক মাসুদের গ্রামের বাড়ীতে তারেক মাসুদ মেমোরিযাল ট্রাস্টের কর্যক্রমের স্মৃতি যাদুঘর বা তারেক মাসুদ ফিল্ম ইনিষ্টিটিউটের সুচনা যেন হয় । সাংস্কৃতিক বান্ধব সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জননেত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক দৃষ্টিপাতে তারেক মাসুদের বৃদ্ধ মা যেন এই কম্পেলেক্স বা ইনিষ্টিটিউটের কার্যক্রম দেখে যেতে পারে এটাই প্রত্যাাশা-আর কিছু নয়।

তারেক মাসুদের স্বপ্ন স্মৃতি ধরে রাখার আকাঙ্খায় দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে তারেক মাসুদকে নিয়ে নানা সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও চলচ্চিত্র সংগঠন। তারেক মাসুদের সহদর হিসেবে নয় একজন সাংস্কৃতিক কর্মী হিসেবে আমিও তারেক মাসুদকে নিয়ে গড়ে তুলেছি ‘তারেক মাসুদ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ নামে একটি সংগঠন। প্রায় পাচঁ বছরের পথ পরিক্রমায়-দেশজ সংস্কৃতির চর্”ার পাশাপশাশি আন্তর্জাতিক সংস্কৃতির সাথে মেলবন্ধনের প্রচেষ্টায় আমরা একটি সাংস্কৃতিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। সাংস্কৃতিক বিভিন্ন মাধ্যমের চর্চা, অনুশীলন এবং শিশু কিশোরদের মেধা বিকাশে আবৃত্তি, অভিনয়, নাটক, থিয়েটার এ্যান্ড পারপারর্মেন্স আর্ট, ফিল্ম এ্যান্ড মিডিয়া, চিত্রাংকন, নৃত্য, সংগীত, সাহিত্য চর্চা ও প্রশিক্ষন সহ প্রতিযোগীতা মূলক অনুষ্ঠান বাস্তবায়ন আমাদের লক্ষ্য। প্রাম্ভিক বয়স থেকে প্রতিটি শিশুকে একজন সৎ নিষ্ঠাবান এবং দেশ প্রেমিক মেধাবী মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের উদ্দেশ্য। 

 শিশুর মেধা বিকাশের পাশাপাশি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রছাত্রীদের জন্য আমরা আয়োজন করতে যাচ্ছি একটি থিয়েটার ভিডিও/ফিল্ম এবং মিডিয়া কমিউনিকেশনস কর্মশালা। এই প্রযোজনা ভিত্তিক থিয়েটার ও ডিজিটার ভিডি ফিল্ম ওকর্মশালা বাস্তবান প্রকল্প প্রধান দায়িত্বে আছেন কমিউনিকেশন বিশেষজ্ঞ ম.ইকবাল হোসেইন ও মূর্খ প্রশিক্ষক নির্দেশক হিসেবে থাকছেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর পরিচালক ও প্রশিক্ষক আইরিন পারভীন লোপা। ঢাকার বিশটি সরকারী ও কেসরকারী বিশ্ববিদ্যারয়কে কেন্দ্র করে এই প্রযোজনা ভিত্তিক কর্মশালা অনুষ্ঠীত হবে। ঢাকা থেকে কার্যক্রম শুরু হলেও অগামী দিনে এই কার্যক্রম দেশব্যাপী পরিচালনা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি। 

আমাদের দেশের শিল্পীর মূল্য তার পরিবেশনা পর্যন্ত কারন, নজরুলে কথায় গীত শেষে বীনা ধুলি মাঝে পরে থাকে। শিল্পী বা শিল্প ! কার মূল্য বেশী ? এ সব কিছুর মূল্যায়ন বিভাবে নির্ধারণ হতে পারে সম্মানে-না অর্থে  ? যে মানুষটি তার মূল্যায়ন স্বীকৃতি অর্থের বিনিময়ে চিন্তা করেনি তার মৃত দেহ ক্ষতি পুরণ মালায় বিচারকের মঞ্চে। এটা কি শিল্পীর মূল্য না শিল্পের ? যদি শিল্পীর মূল্য হয় তাহলে তার মরণ দেহ আজো কেন অবহেলায়-অবহেলিত ! তারেক মাসুদ নেই ক্ষতি পুরণ মামলায় তার স্মৃতি সম্মানের মূল্য যদি কোটি টাকা হয় তবে তার সমাধিতে কেন ফুল ছড়ানোর জায়গা নেই। তারেক মাসুদের স্মরণে প্রতি বছর একাধিক বার লক্ষাধিক টাকা ব্যয় হয় কিন্তু সমাধিতে কারো ফুল দেবার অবসর হয় না। প্রতিদিন বহু দর্শনার্থী তারেক মাসুদের ভক্ত শ্রদ্ধা জানাতে আসে তারেক মাসুদের সমাধি প্রঙ্গনে, কিন্তু যার দর্শনে তারেক মাসুদের মৃতঃ আত্মা প্রশান্তি পাবে- তার সময় নেই-সমাধি প্রাঙ্গনে দাড়াঁবার। তারেক মাসুদের অকাল মৃত্যুতে দেশের যে ক্ষতি হয়েছে তা বর্তমানকে অতিক্রমের পথে- ভবিষ্যতে নতুন কারো আবিস্কারে পূরণ হয়ে যাবে। কিন্তু একটি পরিবারের নির্ভরশীল মানুষ যদি চলে যায়, তাকে না পেলে সেই পরিবারের ক্ষতির পরিমান দেশ রাষ্ট্র এবং মানুষ দিতে পারবে ? তারেক মাসুদের মৃত্যু তার পরিবারের উপড় যেভাবে প্রভাব ফেলেছে তার খবর কেউ রাখে না-না রাষ্ট্র না তরেক মাসুদের শুভাকাঙ্খী প্রিয় বন্ধু স্বজন। আমাদের দেশবাঙলায় কথায় বলে তেউলা মাথায় সবাই তেল দেয় ! দুঃখজনক হলেও সত্য যেখানে  তেল আছে সেখানে আরো তেল বেশী দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু তারেক মাসুদের অসহায় মা, ভাই বোনদের-মাথায় তেল দেবার কেউ নেই।এই নিরূপায় সহজ সরল মানুষদের পাশে দাড়াঁবারও কেউ নেই। সরকার প্রধান সহ সরকারী বেসরকারী কর্মকর্তা, প্রতিষ্ঠান ও চলচ্চিত্র নির্মাতা, সাংস্কৃতিক কর্মী, সামাজ সেবক, সমাজে সচেতন সকল শ্রেনী মানুষের দৃষ্টি নিজেদের উন্নয়নে সীমাবদ্ধ। তবে তারেক মাসুদের পরিবারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারের আইন ও বিচার সংশ্লিষ্ঠ মন্ত্রনালয় এবং বাংলাদেশ সরকারকে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।  সড়ক দূরঘটনায় কবলিত গাড়ী চালক-এর সর্বউচ্চ শাস্তি আজীবন কারাদন্ডে বিচার আদেশ প্রদানের জন্য যা আমাদের প্রত্যাশা ছিল।

আমরা তারেক মাসুদকে বাচিঁয়ে রাখতে চাই তার স্বপ্ন স্মৃতি-স্মরণ ও বরণের বিভিন্ন কার্যক্রমের ভেতর দিয়ে-এ ক্ষেত্রে ক্যাথরিন মাসুদ হতে পারে আমাদের আদর্শ, অনুপ্রেরনা এবং আমরা হতে পারি তার অনুসারী। তারেক মাসুদের স্ত্রী হিসেবে ক্যাথরিনের পাশে আমরা থাকতে চাই সব সময়। আমাদের বিশ্বাস ক্যাথরিনের স্পর্শে শুধু তারেক মাসুদের পরিবার পরিজন নয়-তারেক মাসুদের স্বপ্ন এবং শেষ ইচ্ছা ‘কাগজের ফুল’ চলচ্চিত্রটি জীবন্ত হবে। কাগজের ফুল ফুটবে সবার মাঝে বিলিয়ে দিবে তার সব টুকু সুবাশ ভাল লাগা ও ভালবাসা। তারেক মাসুদ কম্পেলেক্স স্মৃতি যাদুঘর এবং তারেক মাসুদের সমাধির উন্নয়ন সহ তারেক মাসুদের স্বপ্ন স্মৃতি ধরে রাখা এবং তার স্মৃতি সংগ্রশালা নির্মাণ-এর কার্যক্রম বাস্তবায়ন হবে-এটাই পরিবার ও জন মনের স্বপ্নীল প্রত্যশা।

লেখক : হাবিবুর রহমান মাসুদ বাবু, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সংগঠক।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে