Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট, ২০১৯ , ৫ ভাদ্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-১৫-২০১৭

রেডিওতে ডালিমের ঘোষণা শুনেই চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করি

সেলিনা হোসেন


রেডিওতে ডালিমের ঘোষণা শুনেই চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করি

চোখের জলে সেদিনের কথা ভুলবার নয়। দিনটি ছিল ১৫ আগস্ট, ১৯৭৫। আমরা থাকতাম টিচার্স ট্রেনিং কলেজের পিছনে কলেজ স্ট্রিট নামের একটি গলিতে ভাড়া বাড়িতে। আমি আর আনোয়ার বাংলা একাডেমিতে। আমার দুই মেয়ে মুনা ও লারা ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলে পড়ে।

বেশ ভোরে উঠা আমার অভ্যাস। মেয়েদের স্কুলে পৌঁছে দিয়ে অফিনে যাওয়ার প্রস্তুতি থাকতো। প্রতিদিন বাড়ি থেকে বের হবার আগে আমি রেডিওর খবর শুনতাম।

১৫ আগস্ট রেডিও ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুনতে পাই মেজর ডালিমের সদম্ভ কণ্ঠস্বর, আমি মেজর ডালিম বলছি। শেখ মুজিবকে হত্যা করা হয়েছে। আমি তাৎক্ষণিকভাবে হকচকিয়ে গিয়ে পরক্ষণে চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করি। আব্বা আব্বা বলে ডাকতে থাকি। আনোয়ার বাথরুমের দরজা খুলে জিজ্ঞেস করে, কি হয়েছে? আমি ওর কথার উত্তর দেইনা। কাঁদতেই থাকি। আব্বা নিজের ঘরে নামাজ পড়ছিলেন। জায়নামাজ ছেড়ে উঠে আসেন। জিজ্ঞেস করে, কাঁদছিস কেন? কি হয়েছে? বঙ্গবন্ধুকে মেরে ফেলা হয়েছে। কে একজন মেজর ডালিম ঘোষণা দিচ্ছে। অ্যাঁ শব্দ করে আব্বা ঘরে একটি চেয়ারে বসে পড়েন। দু’হাতে চেপে ধরে রেডিও থেকে ভেসে আসা যাবতীয় কথা শোনেন।

দশটা-এগারোটার দিকে আমি আর আনোয়ার গলি থেকে বেরিয়ে বড় রাস্তার দিকে যাই। রাস্তায় আর্মির গাড়ি ছাড়া অন্য যানবাহন নাই। নিউমার্কেটের দিকে গেলে একটি খোলা জিপ আমাদের সামনে এসে থামে। দেখতে পাই কালো পোশাকধারী ৫-৬ জন বসে আছে। হাতে রাইফেল। আমাদেরকে ধমকের স্বরে বললেন, রাস্তায় এসেছেন কেন? যান, বাড়ি যান।

শহরে কি হচ্ছে তা বোঝার জন্য আমরা বের হয়েছিলাম। বুকভরা আতংক আর দীর্ঘশ্বাস নিয়ে আমরা ফিরে আসি। তারপর কত দিন আর কত রাত চলে গেছে। সময়ের হিসাব ফুরিয়েছে। কিন্তু ফুরোয়নি বুকের ভেতরের সেই ভোরের আর্তনাদ।

ভূখন্ডের মতো প্রার্কৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর বঙ্গবন্ধুর শরীরটির নান্দকি শিল্প তখন নীরবতার মহাকালের খেরোখাতায় ভরে ওঠার জন্য অপেক্ষমান। নিথর শরীর যে কত রঙময় হতে পারে ৩২ নম্বরের বাড়ির সিঁড়িতে শায়িত তাঁকে না দেখলে কেউ বুঝতে পারবে না। প্রাণস্পন্দনে কল্লোলিতহীন শরীর থেকে প্রবাহিক হচ্ছে রক্ত। যেন তার বুকে প্রতিটি ক্ষত তিনশত নদীর মতো বেরিয়ে আসছে রক্ত। প্রতিজ্ঞার মতো উচ্চারণ করছে, বঙ্গবন্ধু আপনার রক্তের স্রোতকে আমরা রক্তের স্রোতকে আমরা বুকে নিয়ে যাবো সাত-সমুদ্র তের নদীর পথে।

ডায়রির পাতায় বঙ্গবন্ধু লিখেছিলেন, ‘একজন মানুষ হিসাবে সমগ্র মানবজাতি নিয়েই আমি ভাবি। একজন বাঙালি হিসাবে যা কিছু বাঙালিদের সঙ্গে সম্পর্কিত তাই আমাকে ভাবায়। এই নিরন্তর সম্পৃক্তির উৎস ভালোবাসা, যে ভালোবাসা আমার রাজনীতি ও অস্তিত্বকে অর্থবহ করে তোলে।’

এমএ/ ০৭:১৭/ ১৫ আগস্ট

মুক্তমঞ্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে