Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (17 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ১২-১০-২০১২

নারায়ণগঞ্জে ৬ মামলায় ৫ হাজারেরও বেশি আসামি


	নারায়ণগঞ্জে ৬ মামলায় ৫ হাজারেরও বেশি আসামি

জেলায় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের সহিংস ঘটনায় ৬টি মামলার প্রস্তুতি চলছে। এতে প্রায় ৮ থেকে ৯শ’ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৫ হাজারেরও বেশিজনকে আসামি করা হচ্ছে।

রোববার বিএনপির ডাকা দেশব্যাপী অবরোধে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার কাঁচপুর, সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জ ও বন্দর উপজেলার মদনপুর এলাকায় ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে নানামুখী সংঘর্ষ ঘটে।

রোববারের ঘটনায় সোমবার দুপুর ১১টা পর্যন্ত মামলা দায়ের না হলেও মামলার এজাহার ও অন্য আনুষঙ্গিক কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে মামলায় কাদের আসামি করা হবে তা নিয়ে রোববার বিকেল থেকেই সোমবার সকাল পর্যন্ত জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বন্দর, সোনারগাঁও ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসিদের বৈঠক হয়।

সোনারগাঁও থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই আজমিরুজ্জামান জানান, রোববারের ঘটনায় ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে ১০-১২টি গাড়ী ভাঙচুর, ট্রাক-মিনিবাস ও ৫ মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া পুলিশের উপর হামলার ঘটনাও ঘটে।

এসব ঘটনায় পুলিশের উপর হামলা, সরকারী কাজে বাধা প্রদানের অভিযোগে একটি মামলা হবে। এছাড়া গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে দ্রুত বিচার আইনে পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এ মামলায় আড়াই থেকে ৩শ’ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৫ হাজার জনকে আসামি করা হতে পারে।

এছাড়া অবরোধ চলাকালে ৫টি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এসব মোটরসাইকেলের মালিক সোনারগাঁও উপজেলা ছাত্রলীগের বিভিন্ন স্তরের নেতারা। তারাও একটি মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

অবরোধ চলাকালে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান, যুবলীগ নেতা মতিউর রহমান মতি, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এর ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেনের নেতৃত্বে ২০-২৫টি খোলা ট্রাক ও পিকআপভ্যানে করে কয়েকশ’ লোক অবরোধ বিরোধী মিছিল বের করে।

তাদের মিছিলেও অবরোধকারীরা হামলা চালায়। তারা একটি ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনাতেও আরো একটি মামলা করবে আওয়ামী লীগ।

পুলিশের একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রোববার মূল স্পট ছিল কাঁচপুর। এস্থানে সহিংসতার ঘটনায় মামলায় কাদের আসামি করা হবে তা নিয়ে পুলিশের উচ্চ পর্যায়ে বৈঠক চলছে। কারণ রোববার এ স্পটে জেলা বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের প্রায় সকল নেতারাই উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে বন্দর উপজেলার মদনপুর এলাকায় ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে অবরোধকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ঘটে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকাতেও পুলিশের সঙ্গে অবরোধকারীদের সঙঘর্ষ ঘটে। এনিয়েও মামলার প্রস্তুতি চলছে।

প্রসঙ্গত দেশব্যাপী অবরোধে রোববার সকালে ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের অন্যতম স্পট কাঁচপুর এলাকায় পুলিশ ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে কয়েক দফা ত্রিমুখী সঙঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় কাঁচপুর ও এর আশপাশ এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

সঙঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছে। তবে বিএনপি নেতাদের দাবী, আহতের সংখ্যা কমপক্ষে শতাধিক ছাড়িয়ে যাবে। সঙঘর্ষের সময়ে পিকেটাররা ২০-২৫টি যানবাহন ভাঙচুর, বাস-ট্রাক ও ৫টি মোটরসাইকেলে অগ্নি সংযোগ করে। আওয়ামী লীগের লোকজন অবরোধ মিছিল বের করলে তাদের সঙ্গেও সঙঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বিএনপি।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ ৭৩ রাউন্ড টিয়ার সেল ও ১৫৪ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় পুলিশ ১১ জনকে আটক করেছে।

সোনারগাঁও থানার ওসি হারুন অর রশীদ জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে গিয়ে তিনি নিজেসহ এসআই বেলায়েত, এসআই আজাহার, কনস্টেবল মোস্তফাসহ ৭ পুলিশ আহত হন।

এছাড়া সংঘর্ষের ঘটনায় হাজী সেলিম, সালাউদ্দিন, আশরাফ মোজাম্মেল, শামসুজ্জামান খান বেনু, এটিএম কামাল, সামছুদ্দিন, মেজবাহ, এমদাদুল, শাহীন অর্ধশত আহত হয়।

নারায়নগঞ্জ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে