Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২০ , ৯ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (67 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৮-১৪-২০১৭

সাতক্ষীরা থানার এসআইয়: 'পঞ্চাশ হাজার টাকা দিবি, নইলে ধরব'

সাতক্ষীরা থানার এসআইয়: 'পঞ্চাশ হাজার টাকা দিবি, নইলে ধরব'

সাতক্ষীরা, ১৪ আগস্ট- পঞ্চাশ হাজার টাকা দিবি, নইলে ধরে নিয়ে যাব।   সাতক্ষীরা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হাসান এ দাবি করেন। উত্তরে ভুক্তভোগীর স্ত্রী বলেন, আগে দুইবার টাকা দিয়েছি। আমরা আর টাকা দিতে পারব না। তাতে যদি আমার স্বামীকে মেরেও ফেলেন, দুঃখ নাই। একটাই অনুরোধ, তাঁর লাশটি বাড়ি পৌঁছে দেবেন। গত শনিবার রাতে স্বামীকে ধরতে যাওয়া পুলিশকে এসব কথা বলেন সাতক্ষীরার সীমান্ত গ্রাম তলুইগাছার শাহানারা খাতুন। তিনি বলেন, পুলিশ বাড়িঘর তল্লাশি করে কোনো কিছুই পায়নি। তবু আমার স্বামীকে (মাওলা বকস) ধরে নিয়ে গেছে। শাহানারা খাতুন অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামী অনেক আগে সীমান্তে বিভিন্ন ভারতীয় মালামাল পারাপার করত। কয়েক বছর আগে সে কাজ ছেড়ে দিয়েছেন।

গত বছর সাতক্ষীরা থানার এসআই আবুল কালাম তাঁকে ধরতে আসেন। এসআই বলেন, তোর ঘরে ১০ কেজি সোনা আছে। তুই সোনা পাচারকারী। গ্রেপ্তার হবি, না টাকা দিবি।   শাহানারা জানান, শেষ পর্যন্ত দেড় লাখ টাকায় রফা হয়। জমি বন্ধক রেখে টাকা জোগাড় করে পুলিশকে দিয়েছিলাম। আক্ষেপ করে তিনি আরো বলেন, এ ঘটনার মাস দুয়েক পর ফের স্বামীকে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে ধরে নিয়ে যায়। সেবার দিতে হয়েছিল ৮০ হাজার টাকা। গত শনিবার রাতে তৃতীয় দফায় পুলিশ এলে তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী আর টাকা দিতে পারবে না। তার কোনো অপরাধ নেই।

শাহানারা আরো জানান, শনিবার রাতে একদল পুলিশ তাঁদের বাড়িতে হানা দেয়। রাতে ঘরের দরজা না খুলে মাওলা বকস লুঙ্গি পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। জোর করে পুলিশ ঘরে ঢুকে পড়ে। পুলিশের কবল থেকে রক্ষার জন্য ঘরের টিন খুলে আরেকটি ঘরের চালে উলঙ্গ অবস্থায় উঠে পড়েন। এ সময় পুলিশ সদস্যরা তাঁকে বলেন, ‘তুমি নেমে এসো। তোমার ঘর তল্লাশি করে কিছু না পেলে চলে যাব। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, মাওলা বকস পুলিশের প্রতি আস্থা রেখে নেমে আসেন। এ সময় তাঁর ঘর তল্লাশি করা হয়। কিন্তু ঘরের ভেতরে কিছুই পাওয়া যায়নি। তার পরও পুলিশ তাঁকে ধরে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া সাতক্ষীরা সদর থানার এসআই নাজমুল হাসান বলেন, ‘মাওলা বকসের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। এ অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মাওলা বকস পুলিশের সঙ্গে প্রতারণার লক্ষ্যে নিজ ঘরে আত্মহত্যার ভান করে। পরে ঘরের টিনের চাল উল্টে মাদকদ্রব্য সরিয়ে রেখে উলঙ্গ অবস্থায় চালের ওপর অবস্থান নেয়। আমরা পরে তাকে গ্রেপ্তার করি। অভিযানে থাকা সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সায়মুল ইসলাম বলেন, মাওলা বকস খুব খারাপ মানুষ। সে মাদক পাচারকারী। তার স্ত্রী ও মেয়েও এই  ব্যবসা করে। এ কারণে তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মাওলা বকসের স্ত্রী শাহানারা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার এক ছেলে বজলু মালয়েশিয়ায় থাকে। আরেক ছেলে মজনু চোখে দেখে না। এক মেয়ে স্কুলে পড়ে। সে অসুস্থ। তাদের তো ভবিষ্যৎ আছে। আমি টাকা জোগাড় করে স্বামীকে বাড়ি আনলেই তো পুলিশ কাল আবার তাঁকে ধরে নিয়ে যাবে। তাই আর থানায় কোনো যোগাযোগ করিনি। থাকুক পুলিশের কাছে। সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি মারুফ আহম্মদ জানান, মাওলা বকসের নামে মাদকদ্রব্য পাচারের মামলা থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

এমএ/ ১১:০০/ ১৪ আগস্ট

সাতক্ষীরা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে