Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (28 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ১২-০৬-২০১২

না’গঞ্জে কৌশলী শিবির, নাগাল পাচ্ছেনা পুলিশ


	না’গঞ্জে কৌশলী শিবির, নাগাল পাচ্ছেনা পুলিশ

নারায়ণগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির ক্রমে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে। তারা অবলম্বন করছে নানা কৌশল। বিভিন্ন স্থানে চোরাগোপ্তা হামলাসহ ঘটাচ্ছে নাশকতা। ঘন ঘন বদলে ফেলছে পরিকল্পনা। ফলে তাদের সহজেই নাগালে পাচ্ছে না পুলিশ। বরং পুলিশকে বোকা বানিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই তারা ঘটিয়েছে বিভিন্ন ধরনের নাশকতা। শিবির ক্যাডারদের হাতে একের পর এক পুলিশ মার খাচ্ছে অসহায়ের মতো। এমনকি নাশকতার সাথে জড়িত শিবির ক্যাডারদের কাউকেই গ্রেফতার করতে পারছে না পুলিশ।

জেলা পুলিশ সুপার অবশ্য বিষয়টি স্বীকারও করে নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য থাকে- তারা মিছিল করবে বা নাশকতা ঘটাবে। কিন্তু তারা তাদের পরিকল্পনা পরিবর্তন করে ফেলে সব কিছু এলোমেলো করে দেয়।”

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিবির ক্যাডারদের ছবি দিয়ে একটি পোস্টার ছাপানো হয়। পোস্টারটিতে ৪৩ জন শিবির ক্যাডারের ছবি থাকলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত মাত্র একজনকে গ্রেফতার করতে পেরেছে। বাকি ৪২ জনকে গ্রেফতারে এখন পর্যন্ত ব্যর্থ পুলিশ।

গত মঙ্গলবার হরতাল চলাকালে সিদ্ধিরগঞ্জে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে প্রায় এক ঘণ্টা তাণ্ডব চালায় শিবির। ওই তাণ্ডবের সময়ে পুরস্কার ঘোষিত অনেক শিবির ক্যাডারই উপস্থিত ছিলেন।

বুধবার শহরে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনার সময় মিছিলের নেতৃত্ব দেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর ইসলামী ছাত্র শিবিরের সভাপতি নাছিরউল্লাহ। অথচ পুলিশের পোস্টারিংয়ে সে মোস্ট ওয়ান্টেড। এছাড়া গত ১৯ নভেম্বর পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলাতেই সে আসামি।

গত ৫ ডিসেম্বর সকালে জামায়াত শিবিরের ক্যাডাররা হামলা চালিয়ে নারায়ণগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের এস আই রবি চরন চৌহান সহ পিটিয়ে আহত করে তিন পুলিশ সদস্যকে। সকাল ৯টায় শহরের মন্ডলপাড়া ফায়ার সার্ভিসের সামনে শিবিরের মিছিলে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ক্যাডাররা পুলিশের ওপর এ হামলা চালায়। হামলায় এসআই রবিচরন চৌহান গুরুতর আহত হন। তাকে নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় স্থানান্তর করা হয় ঢাকা রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে।

৪ ডিসেম্বর মানবতা বিরোধী অপরাধে বিচারাধীন জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের মুক্তি ও বিচার বন্ধের দাবিতে জামায়াত-শিবিরের ডাকা হরতালে তারা শহরে নামতে না পারলেও সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় ব্যাপক নাশকতা চালিয়েছে। পুলিশের সঙ্গে তারা প্রায় একঘণ্টা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া  ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটায়। এরপর তারা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রুটে আগুন ধরিয়ে দেয় বন্ধন পরিবহনের একটি বাসে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোর সাড়ে ৬টা থেকে জামায়াত ও শিবিরের কয়েকশ নেতাকর্মী ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক ও সানারপাড় এলাকায় অবস্থান নেয়। তারা কয়েকটি স্পটে টায়ারে আগুন ধরিয়ে দেয় ও ভাঙচুর করে কয়েকটি যানবাহন। এ সময় পুলিশের সামনেই জামায়াত নেতাকর্মীরা সড়কে মিছিল করে। পরে সকাল সাড়ে ৭টায় অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে নেতা-কর্মীরা পিছু হটে।

এর আগে, গত ১৯ নভেম্বর সকালে ইসলামী ছাত্র শিবিরের একটি জঙ্গি মিছিল থেকে পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসিসহ আহত হয় অন্তত ১০জন। শিবির ক্যাডারা প্রকাশ্যে পুলিশ সদস্যদের রাস্তায় লাঠিপেটা করে। বাধা দেওয়ায় পুলিশের সঙ্গে শিবির ক্যাডারদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় শহরের ২নং রেল গেট ও এর আশপাশের এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার সেল ও রাবার বুলেট ছোঁড়ে। এ সময় শিবির ক্যাডাররা পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর ও অন্য একটি কাপড়ের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর বিকেএমইএ নির্বাচনের দিন শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে নারায়ণগঞ্জ ক্লাব লিমিটেডের সামনে ইসলামী ছাত্র শিবিরের একটি মিছিলে পুলিশ বাধা দিলে তারা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শিবির ক্যাডারদের ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সাংসদ শামীম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মঞ্জুর কাদের সহ আহত হন ১৫ থেকে ২০ জন।

গত ১৭ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ জেলা ১৮দলীয় জোটের পূর্বনির্ধারিত একটি সমাবেশে ইসলামী ছাত্রশিবির ও বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। বিকেল পৌনে ৪টা থেকে সোয়া ৪টা পর্যন্ত টানা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষে পুলিশের সাত সদস্য সহ আহত হন অন্তত ৩০ জন।

শিবির ক্যাডারদের একের পর এক নাশকতার পর পুলিশ তাদের কিছু করতে না পারাকে পুলিশের ব্যর্থতা ও দূর্বলতা বলে মনে করছেন অনেকে।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার শেখ নাজমুল আলম বলেন, “বুধবার সকালে রবি চরন চৌহানের ওপর হামলার ঘটনাটি দুঃখজনক। শিবির ক্যাডারা রবি চরনকে দেখা মাত্রই হামলা চালায়। পুলিশ তাদের মিছিলে বাধা দেওয়ার আগেই তারা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। তবে এমন কর্মকাণ্ড যারা করছে তারা সবাই তরুণ। তাদের মধ্যে অনেকেরই এখনো দেশপ্রেম জেগে ওঠেনি। তাদেরকে কেন্দ্র থেকে এমনভাবে মগজ ধোলাই করা হয়েছে যে, তারা কেন্দ্রীয় নেতারা যা বলে তাই করে। তারা যা করছে, তা সম্পূর্ণ নীতিবিরুদ্ধ।”

তিনি বলেন, “তারা আমাদের প্রতিপক্ষ বানিয়ে যা করছে, তা ঠিক না। আমরা রাষ্ট্রের বাহিনী। রাষ্ট্রের জন্য সরকারের নির্দেশে আমাদের কাজ করতে হয়। সরকারের বিরুদ্ধে তাদের কোনো প্রতিবাদ বা আন্দোলন করার থাকলে নীতির ভেতরে থেকে করুক। আমরা এর আগে জামায়াতের বিরুদ্ধে কোনো কঠিন পদক্ষেপ নেইনি। তারা যদি আমাদের ওসির উপর হামলা না চালাতো তবে এমন পরিস্থিতি হতো না। যেমনভাবে চলছিলো তেমনভাবেই চলতো।”

তিনি আরো বলেন, “আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য থাকে- তারা মিছিল করবে বা নাশকতা ঘটাবে। কিন্তু তারা মুহূর্তে পরিকল্পনা পরিবর্তন করে ফেলে সবকিছু এলোমেলো করে দেয়। তবে তারা যা করছে, তার পরিণাম খুব ভয়াবহ হবে। কাউকেই আর ছাড় দেওয়া হবে না।”

নারায়নগঞ্জ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে