Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ৭ ফাল্গুন ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.2/5 (63 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৮-০৩-২০১৭

বিকৃত যৌনাচারের প্রতিবাদ করলেই চলত নির্মম নির্যাতন

ইব্রাহিম খলিল


বিকৃত যৌনাচারের প্রতিবাদ করলেই চলত নির্মম নির্যাতন

সাতক্ষীরা, ০৩ আগষ্ট- সাতক্ষীরা শিশু পরিবারের এতিম শিশুদের ওপর দীর্ঘদিন চলা যৌন নির্যাতন ও মানসিক নির্যাতনের খবর জনপ্রিয়  বিভিন্ন নিউজ পোর্টালসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রকাশিত হওয়ার পর বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নানা নির্যাতনের কাহিনী। দীর্ঘদিন চলা এসব নির্যাতনের কাহিনী বর্ণনা করেছে শিশুরা। কীভাবে এসব শিশুদের ওপর স্ট্রিম রোলার চালাতো কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একটু এদিক-ওদিক হলেই চলতো ভয়াবহ নির্যাতন।

সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানা যায়, শিশু পরিবারের দায়িত্বরত শিক্ষকরা এতিমখানাকে নিজেদের বাড়ির মতো ব্যবহার করছে এবং শিশুদের প্রতি নির্দয় আচরণ করায় ঘটেছে শিক্ষককে মারপিটের ঘটনা। এতিম শিশুরা বলছে, অন্যায় আচরণের প্রতিবাদ করলে বা হুকুম তামিল না করলে শিশু পরিবারের কর্মচারীরা এতিম শিশুদের গলায় পা দিয়ে দাঁড়িয়ে নির্যাতন করে। গা-হাত-পা টিপতে বলে প্রায়ই যৌন নির্যাতন করা হয়। বাধা দিলে চলে নির্মম নির্যাতন।

এতিম শিশু পরিবারের ছাত্ররা আরো বলে, আমরা এখানে মোট ৭২ জন থাকি। আমরা বিভিন্ন সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করি, আমাদের নির্যাতনের কথাগুলো বলার জন্য। কিন্তু এখানের শিক্ষক মোস্তফা মো. নুরুজ্জামান আমাদের বলেন, ‘তোরা এখানকার নির্যাতনের কাহিনী যদি বাইরের কারো কাছে বলিস তবে ২০ টাকা খরচ করে আমার লোক দিয়ে তোদের হাত পা ভেঙে দেব। আর বাইরের লোকের সঙ্গে বললে পরে এখানে থাকবি না? মেরে হাত পা ভেঙে দেব।’

আরো জানা যায়, আলিম নামে একজন কেয়ারটেকারই নাকি এখানকার সবকিছু। ছাত্ররা কেউ অসুস্থ হলে চিকিৎসা না করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তাছাড়া বিভিন্ন সময় শারীরিক নির্যাতনসহ এতিমখানায় অবস্থিত ছাত্রদের বাবা-মাকে ছাত্রদের সঙ্গে দেখা করতে দেয় না এই শিক্ষক।

এ গরমেও এতিমখানায় ছাত্রদের ফ্যান চালাতে দেওয়া হয় না অথচ এ এতিমখানায় কেয়ারটেকার আলিম সপরিবারে দ্বিতীয় তলায় থাকেন। তিনি ফ্রিজ, ফ্যান, লাইট ব্যবহারসহ কারেন্টের চুলায় রান্না করেন। আর ছাত্ররা ফ্যান চালালে তাদের শারীরিক নির্যাতন করেন এ শিক্ষক।

এ ছাড়া এতিমখানায় তানভীন নামে আর একজন কেয়ারটেকার ৪র্থ তলায় থাকেন। তানভীন বাচ্চাদের পড়ানোর পরিবর্তে গল্প করে সময় কাটান। আবার অতিরিক্ত পড়া আদায় না হলে ছাত্রদের বেদম মার দেওয়া হতো। যারা কলেজে পড়াশুনা করে তারা এ শিক্ষকদের অবহেলার কারণে এ বছর একদিনও সকালে খেয়ে যেতে পারে না। এ ছাড়া জামান নামে একজন শিক্ষকের কারণে বাচ্চাদের সাবান ও কাপড় পরিষ্কার করার ডিটারজেন্ট পাওডারও দেওয়া হয় না।

এ ছাড়া বাচ্চাদের বিকৃত যৌন হয়রানি ও নিজের কাপড় পরিষ্কার করানোরও অভিযোগ রয়েছে শিক্ষক বিমান বৈরাগীর বিরুদ্ধে। ডাক্তার সাত মাস আগে আসলেও আর কোনো খবর নেই তাদের। এ ছাড়া খাবার ঠিকমত না দেওয়াসহ গাছের কোনো ফল বাচ্চারা খেলে মরা বাপ মা তুলে গালাগালি করেন কেয়ারটেকার আলিম ও তানভীন। ছাত্ররা কেয়ারটেকার আলিম ও তানভীনের অপসারণ দাবি করেন।

আরো জানা যায়, শহিদ স্যার থাকাকালে এতিমখানার কিছু উন্নতি হলেও বর্তমান মিজানুর রহমান কোনো উন্নয়ন করেন না। শুধু কাগজ কলমে সীমাবদ্ধ রাখেন আর বলেন জেলা প্রশাসক এ এতিমখানার সভাপতি এখানে কেউ ঝামেলা করবে না।

শিশু পরিবারের তত্ত্বাবধায়ক মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি ১৯ তারিখে সাতক্ষীরায় যোগদান করেছি। আমি এর আগে এখানে চাকরি করেছি। বর্তমানে আমি এখানে আবার এসেছি। শিশুদের বিভিন্ন অভিযোগ ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন জানান, শিশু পরিবারের ঘটনাটি নিয়ে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুর আহমেদ স্বজলকে প্রধান করে কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি প্রতিবেদন দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

আর/০৭:১৪/০৩ আগষ্ট

সাতক্ষীরা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে