Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ১১ ফাল্গুন ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (37 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-০৪-২০১২

কুয়েতে এক বাংলাদেশী  দীর্ঘ সাজা থেকে রক্ষা পেলো

আবদুল কাদের



	কুয়েতে এক বাংলাদেশী  দীর্ঘ সাজা থেকে রক্ষা পেলো

প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিভিন্ন অপরাধের কারনে কুয়েত সহ মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশেই বাংলাদেশীদের ভিসা বন্ধ আছে। তবুও থেমে নেই অপরাধ প্রবনতার মাত্রা। তবে গত কয়েক বছরে কুয়েতে সাধারন শ্রমিকদের সর্ব নিম্ন মজুরী পুর্বের ছেয়ে তিন গুন বৃদ্বি পাওয়ায় ছোট খাট চুরির অপরাধ থেকে বাংলাদেশী প্রবাসীরা সম্পুর্ন মুক্ত।

এখন স্বল্প সংখ্যক অসাধু  বাংলাদেশীর জগন্য অপরাধের কারনে কুয়েতে বাংলাদেশীদের বদনাম শেষ করা যাচ্ছেনা।
 
এমনই এক অপরধীর নাম কামাল হোসেন পিতা আব্দুল মালেক, কামাল হোসেন কুয়েতে একজন সাধারন বাংলাদেশী ব্যাবসায়ী ছিল।সে ২০০৭ সাল পর্যন্ত কয়েক বছর এক কুয়েতী মহিলার বোরকার দোকান চুক্তি বিত্তিক চালিয়েছিল। কিছু দিনের মাঝে তার সাথে ভাড়ার টাকা নিয়ে ঝামেলা সৃষ্টি হয় এবং সেই দোকান তার হাত থেকে চলে যায়। এর পর সে এক কুয়েতীর কয়েকটি দোকানের দায়িত্বে বেতনে চাকুরী করতে থাকে কিছু দিন পরে রাশেদ নামের সেই কুয়েতী বুঝতে পারে কামাল তার ব্যাবসা প্রতিষ্টান থেকে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ সরিয়ে নারী নিয়ে ভোগ বিলাশে মত্য হয়ে পড়েছে। এখানেও কামালের বেশী দিন ঠাই হলনা।
 
এর পর বিভিন্ন দরজায় মাথা ঠো্কতে ঠোকতে কামালের জালে ধরা পড়লো এক ব্যাবসায়ী কুয়েতী আবু আলী তাকে ব্যাবহার করে কামাল গড়ে তোলেন বোরকার কাপড়ের পাইকারী ব্যাবসা খুব দ্রুত সে প্রতিষ্ঠিত হতে শুরু করলো কিন্তু বদ অভ্যাস পরিবর্তন না হলে যা হওয়ার তাই হয়েছে। কাপড়ের পাইকারী ব্যাবসা ছাড়াও সে দুইটি বোরকার দোকান শুরু করে সাথে রাত্রি যাপনের জন্য সুন্দরী নারী তার প্রতি দিনের রুটিনে পরিনত হয়। শুধু কি এক জন নারীতেই সে সন্তুষ্ট না মোটেও নয় প্রায় সময়ই তার সাথে এক রুমে দুই তিন জন নারী আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠতো। বিপুল অংকের টাকা দিয়ে সে বিভিন্ন ম্যান পাওয়ার অফিস থেকে ফিলিপাইনি, ইন্দোনেশিয়ান, লেবাননী, শ্রীলংকান মেয়েদেরকে ক্রয় করে নিয়ে আসতো তার ভোগের জন্য। এভাবেই সে গত দুই বছরে কুয়েতে প্রায় ৩৫ হাজার দিনার দেনা হয়ে পড়ে  যা বাংলাদেশী টাকায় এক কোটি টাকার অনেক বেশী। তার ব্যবসার কাজে নিয়োজিত কর্মচারীদেরকেও সে বেতন দিতে অক্ষম হয়ে পড়ে। হোসেন নামের এক ড্রাইভার কয়েক মাসের বেতন না পেয়ে পালিয়ে যায়। এর পর আবদুল করিম নামে কামালের এক নিকট আত্নীয়কে সে অনেক বুজিয়ে তার ব্যাবসা দেখা শুনা করতে দায়িত্ব্ দেয় তাকেও চার মাসের বেতন দিতে না পারায় সে কয়েক দিনের ছুটির কথা বলে দেশে চলে যায়। তারপর পাওনাদার প্রতিষ্ঠান গুলো তার নামে মামলা করে এবং একটি প্রতিষ্টান তার বিরুদ্ধে চেক প্রতারনার মামলা করে যথারিতি যা হওয়ার তাই হয়েছে কামাল পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলো। কিন্তু এর পরই ঘটলো আলৌকিকতা! এক কোটি টাকার পাওনা আদায়ের মামলা ছাড়াও চেক জালিয়াতির মত জগন্য অপরাধের আসামী কামাল হোসেন মাত্র দুই মাসের মধ্যেই জেল থেকে সোজা পৌছে গেল বাংলাদেশ তার নিজ বাড়িতে। কুয়েতের আইন অনুযায়ী উপরোক্ত সব গুলো অপরাধের জন্য কামালের কমপক্ষে দশ বছরের সাজা হওয়ার কথা কিন্তু অভিনব কায়দায় সে দেশে পৌছে যাওয়ায় পাওনাদাররা হতাশ হওয়া ছাড়া আর কিছুই পেলনা।
 
উল্লেখ্য যে পাওনাদার কোন সাধারন ব্যাক্তি ছিলনা আবু কানান, এম্রুজ সহ কুয়েতের কয়েকটি নাম করা কোম্পানী তার কাছে এই ৩৫০০০ দিনার ব্যাবসার মালামালের বাকি বাবত পাওনা ছিল। তার বব্যবহৃত পুরাতন গাড়িটি এবং ভাড়ায় চালিত দোকান গুলোও পাওনাদারদের কোন কাজে আসবেনা ।কারন দোকানের মুল্যের ছেয়ে বেশী পরিমান মার্কেটের ভাড়া বাকি আর গাড়িটিও বিক্রির অযোগ্য। এভাবেই কামাল হোসেন বেঁচে গেল অনেক লম্বা কারাভোগের হাত থেকে।
 

কুয়েত

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে