Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৯ , ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (40 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৭-২১-২০১৭

চিকুনগুনিয়ায় কেউ মরে না, তবে…!  

ফারজানা তন্বী


চিকুনগুনিয়ায় কেউ মরে না, তবে…!
 

গুগলে সার্চ দিলে চিকুনগুনিয়া অর্থ পাওয়া যায় “CONTORED”, “THAT WHICH BENDS UP” যার প্রেক্ষিতে চিকুনগুনিয়া মানে হিসাবে বলা যায় “যা স্বাভাবিক আকৃতি পরির্তন করে”, “অস্বাভাবিকভাবে বাকিয়ে ফেলে”। আসলেই তাই, যন্ত্রণা হাত পা বেঁকে যায় বটে। অনেক কিছু লেখা পাওয়া যায় গুগলে, অনেক রির্সাসলব্ধ ফলাফল পাওয়া যায়। তবে আসল সংজ্ঞা বা ব্যাখ্যা সম্পর্কীত তথ্য যা কিছু আছে তা বোধহয় একজন চিকুনগুনিয়া রোগীই দিতে পারবে। সম্প্রতি আমিও চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছি এবং বরাবরের মতন আমিও মারা যাইনি। তবে আর সব জীবিতদের মত আমিও চলনশক্তি মোটামুটি হারিয়ে ফেলেছি। তাতে কি মারা তো আর যাইনি!! কবে চলনশক্তি ফেরত পাবো তার সদ্বউত্তর ডাক্তার দিতে পারলেন না তাই আবার গুগলের কাছে জানতে চাইলাম। সে যা জানালো তা বোধহয় হাড় কাঁপানোর জন্য যথেস্ট।

তাঞ্জানিয়ায় ১৯৫২ সালে প্রথম এই রোগের প্রার্দুরভাব দেখা যায়। তবে বর্তমানে এশিয়া, আফ্রিকা, আমেরিকা, ইউরোপসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এত আবির্ভাব ঘটেছে বহু আগে। এখন ব্যাথার কথায় আসা যাক। ২০০৬ সালের আমেরিকায় চিকুইয়গুনিয়ার প্রার্দুরভাব হলে সেখানে এক রির্সাসে জানা যায়, ৪৫ বছর বয়সীরা ৫০% রোগী হাড়ের দীর্ঘমেয়াদি ব্যাথ্যায় ভুগচ্ছেন, ৬০% রোগীকে আক্রান্ত হওয়ার তিন বছর পরও হাড়ের সংযোগের ব্যাথায় ভুগতে দেখা গেছে। ফ্রান্সের এক গবেষনায় দেখা গেছে ৫৯% ভুক্তভুগী রোগীকে আক্রান্ত হওয়ার দুই বছর পরও হাড়ের সংযোগের ব্যাথায় ভুগচ্ছেন। একইভাবে ইতালির এক গবেষনায় দেখা গেছে ৬৬% ভুক্তভুগী রোগীকে আক্রান্ত হওয়ার এক বছর পরও হাড়ের সংযোগের ব্যাথায় ভুগচ্ছেন। চিকুনগুনিয়া যখন শুরু হয় তখন আমানুষিক যন্ত্রণা, তীব্র জ্বর, বমি, মাথা ব্যথ্যা নিয়ে আসে। রোগী হাটাচলার সাথে সাথে নড়াচড়ার ক্ষমতা হারায়। এরই সাথে একে একে আসতে থাকে ক্ষুধামন্দা, মাড়ি ব্যাথ্যা, মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া, সারা গায়ে র‍্যাশ, সেই র‍্যাশে তীব্র চুলকানি। আর এসবের সাথে নিমের মত তেতোমুখের সাথে যন্ত্রণাকাতর বিনিদ্র রাত। হাত দিয়ে কাজ করাতো দূরের কথা হাতের আঙুলগুলো পর্যন্ত ভাঁজ করা বিরাট অসম্ভব এক কাজ মনে হয়। প্রতিকার কি? ওষুধ? পথ্য?

চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাবের সুযোগ নিয়ে এখন মোড়ে মোড়ে এই রোগের উপর বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এবং তাদের বিশেষ ঔষধ পাওয়া যাচ্ছে। হোমিওপ্যাথির ব্যবসা এক্ষেত্রে রীতিমত ঈর্ষনীয়। কি ভয়ানক দামি সেসব ঔষধ। ফাইলের পর ফাইল অসহায় রোগীরা সেসব কিনছেন একটু স্বস্তির আশায়। এসব নকলদের ভীড়ে আসল খোঁজা আর খড়ের গাদায় সুই খোঁজা একই জিনিষ। কে তাদেরকে সচেতন করার দায়িত্ব নেবে, কে তাদের প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা করবে, কে মারবে এই মশকবাহিনী। আবারও গুগলের কাছে ফেরা যাক, তার মতে এই রোগের জন্য যদি কিছু থেকে থাকে তাহলো প্রতিরোধ। সেসব এলাকায় এই রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি সেখানে মশা মারার ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া কোন উপায় নেই।

কিন্তু…চিকুনগুনিয়ায় কেউ মারা যায় না, মারা যাবেও না আশা করি। তাই মশা মারার কোন উদ্যোগ নেয়ার কি দরকার বাপু! সত্যিই, বাঙালি প্রাণ না দিলে কিছুই পায়না। কিছু প্রাণ ঝরবে তারপর না হয় বিবেচনা করা যাবে কিছু করা উচিৎ কিনা? চিকুনগুনিয়া মহামারি কিনা? হায় বাঙ্গালী তোর কপাল বটে একখান…ভাষা থেকে মশা সবাই তোর প্রানের আহুতি চায়!

এমএ/ ১২:০৮/ ২১ জুলাই

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে