Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ২১ আগস্ট, ২০১৯ , ৬ ভাদ্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (32 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৭-২০-২০১৭

আমার হাতের চিংড়ি মাছ ডাল ভুনা পছন্দ করতেন হ‌ুমায়ূন: শাওন

হাবিবুল্লাহ সিদ্দিক


আমার হাতের চিংড়ি মাছ ডাল ভুনা পছন্দ করতেন হ‌ুমায়ূন: শাওন

দেশের অগণিত ভক্তের কাছে তিনি নন্দিত কথাসাহিত্যিক হ‌ুমায়ূন আহমেদ। কিন্তু ঘরে কেমন ছিলেন? কিংবা তাঁর দুই ছেলে নিষাদ-নিনিতের মধ্যে বাবার ছায়া কেমন দেখা যায়? এসব বিষয় জানাতে মুখোমুখি হয়েছেন তাঁর স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন হাবিবুল্লাহ সিদ্দিক

 হ‌ুমায়ূন আহমেদের প্রথম পড়া বই?

‘আমার আছে জল’।

প্রথম দেখা?

১৯৯১ সালে রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ভবনে তাঁর সঙ্গে প্রথম দেখা। জননী নামে একটি তথ্যচিত্রের মহড়ায় গিয়েছিলাম। জননী তাঁরই লেখা।

প্রথম দেখায় যে কথা বলেছেন

আসলে ঠিকঠাক মনে নেই। জননীর মহড়ার সময় দুটো সংলাপ আমার দিকে দিয়ে বলেছিলেন, ‘এগুলো পড়ো তো।’ আমি পড়লাম। উনি বললেন, ‘সিলেক্টেড।’ এটা অনেকটা অডিশন-টাইপ কথা ছিল।

প্রথম পাওয়া উপহার?

প্রথম পেয়েছিলাম বই। কী বই, সেটা এই মুহূর্তে মনে নেই। তবে বইয়ের ওপরে কী লিখেছিলেন, সেটা মনে আছে। লিখেছিলেন, ‘শাওন, যার অভিনয় আমাকে মুগ্ধ করেছে।’

প্রথম ঘুরতে যাওয়া?

১৯৯৬ সালে একসঙ্গে নেপাল ঘুরতে গিয়েছিলাম। একটা নাটকের শুটিংয়ের পর পুরো ইউনিট নিয়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন হ‌ুমায়ূন আহমেদ। সেই দলে আমিও ছিলাম। দুই ছেলে নিষাদ ও নিনিতকে নিয়ে প্রায়ই দেশ–বিদেশ ঘুরতে যান শাওন। ছবি: শাওনের ফেসবুক থেকে নেওয়া

শাওনের হাতের যে রান্না পছন্দ করতেন হ‌ুমায়ূন আহমেদ?

ওনার খাবার পছন্দ-অপছন্দ করত মুডের ওপর। ওনার যখন যেমন মুড হতো, সে রকম খাবার রাঁধতে বলতেন। আমার হাতের চিংড়ি মাছ আর ডাল ভুনা খুব পছন্দ করতেন তিনি।

হ‌ুমায়ূন আহমেদের যে প্রশংসা এখনো মনে রেখেছেন?

হ‌ুমায়ূন আহমেদ প্রশংসা করার মতো নয়, এমন অনেক কিছুতেই উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করতেন। তিনি এমনভাবে সব বলতেন, নিজের কাছেই অবাক লাগত। তাই আলাদা করে প্রশংসার ব্যাপারটি বলা কঠিন।

সমালোচনা?

উনি অনেক বিষয়ে সমালোচনা করতেন। এই মুহূর্তে মনে পড়ছে যেটা সেটা হলো, উনি খুবই পছন্দ করতেন রংচঙে পোশাক। বিশেষ করে লাল বা নীল শাড়ি। আমি সাদা জামদানি বা এ-জাতীয় কিছু পরলেই বলতেন, ‘এটা কী পরছ; যাও, বদলে এসো।’ পোশাক নিয়ে তিনি খুবই সমালোচনা করতেন। তাঁর আসলে রঙিন সবকিছুই পছন্দ ছিল।

নিষাদ-নিনিতের মধ্যে বাবার কী ছায়া দেখতে পান?

দুই ভাইয়ের মধ্যেই প্রবলভাবে বাবার ছায়া আছে। নিষাদের ক্ষেত্রে যেটা হয়, ও খুব ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করে। হ‌ুমায়ূন আহমেদ যেমন অনেক বই পড়তেন, অনেক বিষয়ে জানতেন এবং জানার চেষ্টা করতেন, সেটা আমার বড় ছেলে নিষাদের মধ্যে দেখি। ও এই বয়সে এত কিছু জানে যে আমার কাছেই অবাক লাগে। তাই আমার মনে হয়, বাবার মতো ওর ইন্টেলেকচুয়াল দিক থেকে মিল আছে। আর ছোট ছেলে নিনিতের মধ্যে আছে বাবার মতে একটু উইটি (রসিক) স্বভাব। যেমন বন্ধুদের সঙ্গে মজা করা, দুষ্টুমি করা—এসব আছে। কঠিন মুখ করে এমন কথা বলে যে শুনে অন্যরা হেসে গড়াগড়ি খাচ্ছে। যেটা হ‌ুমায়ূনের মধ্যেও ছিল।

যে কারণে সবার হ‌ুমায়ূন আহমেদকে মনে রাখা উচিত?

আমরা বাংলাদেশিরা এখন যে জোছনা বিলাস করি। একটা বড় চাঁদ উঠলে সেটার ছবি তুলে দুই লাইন কবিতা লিখে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিই। এই যে জ্যোৎস্নাকে ভালোবাসার ব্যাপারটা, এটা আমাদের মধ্যে ঢুকিয়েছেন হ‌ুমায়ূন আহমেদ। আবার একইভাবে বৃষ্টিকে ভালোবাসতে শিখিয়েছেন তিনি। এর যেকোনো একটির জন্যই তো সারা জীবন মনে রাখা যায় তাঁকে।

এমএ/ ১০:০০/ ২০ জুলাই

সাক্ষাতকার

আরও লেখা

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে