Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৯ , ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.3/5 (45 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-১৮-২০১৭

ইসলামপন্থীরা বারবার কি ভুল করেই যাবে?

আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন


ইসলামপন্থীরা বারবার কি ভুল করেই যাবে?

দীর্ঘদিনেরই পাকভারতেই ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায় – ইসলামের নামে রাজনীতি করার নেতুত্ব বারবার ভুল করেছে। কোন কোন সময় ভুল নেতার পিছনে বা কখনও ভুল রাস্তায় হেঁটেছে। ফলে যে পাকভারত উপমহাদেশ একসময় মুসলিমরা শাসন করতো তারা এখন কোথায় সংখ্যালঘু হয়ে অন্যের করুনা ভিক্ষা করছে – নতুবা মতাদর্শে ভাগ হয়ে নিজেদের মাঝে মারামারি করে দূর্বল এবং পরনির্ভশীল একটা গোষ্ঠীতে পরিনত হয়েছে। 

যেমন একময় ইসলামের সাথে সামান্যই সম্পর্ক থাকা জিন্নাহকে নেতা মেনেছে – মাওলানা আবুল কালাম আযাদকে বাদ দিয়ে ইংরেজী শিক্ষায় শিক্ষিত জিন্নাহর কুটচালকে ইসলামের পক্ষে বিবেচনা করেছে – ফলাফল একসময় বাংলাভাষীরা ভোগ করেছে – লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন আর মা-বোনের সম্ভ্রম ত্যাগ করে সেই ভুলের মাসুল গুনেছে। আজও বেলুচরা সেই ভুলের মাসুল দিযে যাচ্ছে। যাই হোক ইতিহাসের দিকে বেশী না হেঁটে দেখি এরশাদের মতো বিশ্ববেহায়া আর লুচ্চার পিছনে ইসলামপন্থীরা হেঁটেছে – তারপর একসময় বিএনপির ঘনিষ্ট মিত্র হয়ে সকল অপকর্মের বিষয়ে চুপ থেকেছে – আর ভেবেছে উনারা ইসলাম রক্ষা করবে। ইসলাম তো রক্ষা করেন আল্লাহ – কোন রাজনৈতিক দল না বা কোন নেতা না – এই শিক্ষা পেতে আরো সময় লাগবে মনে হচ্ছে।

আধুনা ইসলামের সোল-এজেন্ট হেফাযত (স্বঘোষিত ইসলামের হেফাযতকারী) তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক আদর্শিক গুরু হিসাবে এমন একজনের পিছনে হাঁটে যার ইতিহাস আরো জঘন্য। আমি ফরহাদ মযহারের কথাই বলছি। সাম্প্রতিক উনার অন্তর্ধান মতান্তরে গুম হয়ে যাওয়ার ঘটনা আবারো ইসলামপন্থীদের দেউলিয়াত্বের প্রকাশ প্রবলভাবে ফুটে উঠেছে। ঘটনার বিবরন এবং পরষ্পরবিরোধী ভাষ্য থেকে প্রচুর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছেন জনাব মযহার সাহেব – এইটাই উনার চরিত্র। ঘটনার জন্ম দিয়ে লাইম লাইটে থাকার একটা প্রবনতা উনার মাঢ়ে প্রবল।

একসময়ের বামচরমপন্থী খুনীদের একজন এই ফরহাদ মযহার যার নামে নিজদলের হুমায়ুন কবির নামক একজনের হত্যা অভিযোগ উঠেছিলো – তার থেকে রক্ষা পেতে প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপের পালিয়ে আমেরিকা চলে যান। সেখানে খৃষ্টান মিশনারীর সাথে সখ্যতার গড়ে উঠে – একসময় চলে আসেন দেশে – এরশাদের গুনগান করে ক্ষমতাশীনদের কাছে সুবিধা পাওয়া শুরু করেন সাথে সাথে খৃষ্টান মিশনারীদের সহায়তায় এনজিও গড়ে তুলেন। সেই সময় উনি ভক্তিবাদের প্রচার শুরু করেন। কীর্তন করা উনার হবি ছিলো। পরে চরিত্র অনুসারে আবারো বিরোধী জড়িয়ে পড়েন ১৯৯২ সালে আনসার বিদ্রোহের উস্কানীদাতা হিসাবে উনাকে জেলে পাঠায় বিএনপি সরকার। আবারো কবি হিসাবে সুশীলদের প্রভাবে জেলমুক্ত হয়ে কিছুদিন নিরব থাকেন। ৯৬ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এলে উনি শেখ হাসিনার প্রশংসা করে বইপত্র প্রকাশ করে আবারো বিশিষ্ট জন হিসাবে আলোচনায় চলে আসেন। উনাকে প্রায় সব সরকারের সময়কালে সরকারী সুযোগ সুবিধা নিতে দেখা গেছে – দেখা গেছে প্রধানমস্ত্রীর সফর সংগী হিসাবে বিদেশ ভ্রমন করতেও।

উনি প্রথম ভুল করে বসেন ফকরুদ্দিন সরকারের সময়কালে – আর্মিদের বিরুদ্ধে কিছু বক্তব্য দিয়ে সরকারী সুবিধাভোগীদের তালিকা থেকে বাদ পড়ে যান – পরে নানান বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে লাইমলাইটে থাকার চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকেন। তারমধ্যে একটা ছিলো – বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিপক্ষে বক্তব্য – উনি বিচার বিভাগে স্বাধীনতা জনগনের জন্যে ক্ষতিকর বলে সেমিনার করেন।

(২)
যাই হোক এক সময়ের বামবিপ্লবের চরমপন্থা থেকে হতাশ হয়ে উনি ইসলামী বিপ্লবের থিয়োরী নিয়ে আসেন – যা চরিত্র অনুসারে প্রচার করে তা একদল সহজসরল মানুষকে বোকা বানিয়ে ফেলেছে বলেই মনে হচ্ছে। হেফাযতের ঢাকা অবরোধ – মাহমুদুর রহমান কাবার ছবি নিয়ে মিথ্যাচার ইত্যাদি সকল সময়ই উনি মাহমুদুর রহমানের পাশেই থাকেন। উনি এক সময় হেফাযতের দার্শনিক হযে উঠেন। এইটাই উনার পেশা – বিপ্লব দীর্ঘজীবি করারই উনার জীবনের লক্ষ্য।

মজা বিষয় হলো ব্যক্তিজীবনে উনি ইসলাম শুধু মানেই না – ঘোষনা দিয়ে এর বিরুদ্ধে জীবন যাপন করেছে। বিয়ে নামক প্রথাকে উনি অস্বীকার করে একজন নারীর সাথে জীবন যাপন করছেন – যা সাদামাঠা ভাষা বলা যায় -জ্বেনা – যা হেফাযতের সমর্থকদের মতে মৃত্যুদন্ডই না – পাথর মেরে হত্যার মতো অপরাধ। তা ছাড়া কবিতার নামে শিরক আর কুফর প্রচার – উম্মুল মুমেনিন খাদিজার নামে কুৎসিত কবিতা লেখা ইত্যাদির বিষয়ে কোন রকম অনুতাপ বা পরিত্যাগের ঘোষনা না দিয়েই উনি হয়ে গেলেন হেফাযতের নেতা।

বিষযটা আসলে ভাবায় – ইসলামের নামে রাজনীতি করা মানুষগুলো কি বোকা নাকি অন্ধ। তারা কিভাবে একজন সুবিধাবাদী এবং ইসলাম বিরোধী লোককে তাদের ‘ওলী” বানিয়ে নিলো। অন্যদিকে কোরানে আল্লাহ সুষ্পষ্টভাবে মুসলিম ছাড়া অন্যদের অনুসরন করতে নিষেধ করেছে।

(৩)
অবশেষ হেফাযের এক নেতার একটা ফেইসবুকের স্ট্যাটাস দেখে আরো অবাক -উনি ফরহাদ মযহারকে “আবু তালিব” এর সাথে তুলনা করেছে। আল্লাহ আমাদের গোমারাহ থেকে রক্ষা করুন। আল্লাহ রসুল (সঃ) কে আবু তালিব কোন পরামর্শ দিয়েছিলো ইসলাম রক্ষার তা হয়তো হেফাযতের নেতারা বাতেনি উপায়ে জানেন – কিন্তু বাস্তবতা হলো শুধুমাত্র কর্তব্য আর স্নেহের বশবর্তী হয়ে আবু তালিব মুহাম্মদ (সঃ) এর পক্ষে ছিলেন – মতাদর্শে কখনই এক ছিলেন না – অন্যদিকে ফরহাদ মযহার হেফাযতকে পথ দেখাচ্ছে – ইসলামী বিপ্লবের জন্যে হেফাযতের দার্শনিক হিসাবে কাজ করছে। কি অবাক কথা – শরিয়া আইন চালু হলে সবচেয়ে প্রথমই যে বক্তি জ্বেনার অভিযোগ অভিযুক্ত হব এসে হলো ইসলামী বিপ্লবে দার্শনিক।

(৪)
যারা ফরহাদ মযহারের বিষয়ে এখনও আবেগ তাড়িত তারা একটা বিষয় খেয়াল করেননি মনে হয় – অন্তর্ধান নাটকরে শেষে উনি ফিরে এসে এক বাক্য বিএনপির ঘোলাপানিতে মাছ শিকারের রাস্তা বন্ধ করেছেন – এতে সরকার উনাকে আর বেশী ঘাটাবে না বলেই আমার বিশ্বাস। উনি বলেছেন – সরকারকে বিব্রত করতেই উনাকে অপহরন করা হয়েছে। প্রশ্ন কে সরকারকে বিব্রত করতে চায়? বিএনপির মতে সরকার তো আর সরকারে বিব্রত করার জন্যে জন্যে উনাকে অপহরন করবে না – বা ভারতের র সরকারকে বিব্রত করার জন্যে এই কাজ করবে না। তাহলে প্রশ্নটা অপেন থেকে যাচ্ছে। মুলত মাহমুদুর রহমান মান্নার এই ঘটনা থেকে বিএনপির কিছু না করতে পারার ব্যর্থতা নিয়ে আক্ষেপ আরো বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। হয়তো বা হয়তোবা না – এইপ্রশ্নগুলোর উত্তর জানার পরই বলা যাবে কে বা কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। হয়তো নিজেই উনি শেষ বয়সটা আরামে কাটানোর জন্যে সরকারের সাথে একটা খেলা খেললো। আমরা আসলেই জানি না।

তবে নিশ্চিত জানি – উনি ইসলামের পক্ষের মানুষ না – শুধুমাত্র নিজের স্বার্থে ইসলামপক্ষীদের নিয়ে খেলছেন – যিনি ব্যক্তিজীবনে ইসলামকে অপ্রয়োজনীয় মনে করেন – তার পক্ষে হঠাৎ করে ইসলামের নেতা হযে উঠার আর কোন কারন থাকে না – শুধুমাত্র বিপ্লব বিপ্লব খেলার মাধ্যমে নিজেরের অবস্থান শক্ত করার ছাড়া।

প্রসংগত আরেকজনের নাম এসে যায় – মাত্র কিছুদিন আগেও ঘোষনা দিয়ে নাস্তিকতার প্রচারকারী পিনাকী হঠাৎ করে ইসলামের পক্ষের কলম সৈনিক হযে উঠাও একই ধরনের সন্দেহের জন্ম দেয়। উনি বস্তুত চলমান রাজনীতিকে বিরোধীশক্তি হিসাবে হেফাযতের মুখে কুলুপ পড়ানোর দায়িত্ব নিয়ে নিজেই হেফাযতের মুখপাত্র সেজে বসেছে। যেমনটা গয়েশ্বর রায় বিএনপির সকল নেতার থেকে বেশী ভারত বিরোধী বক্তব্যগুলো্ বহু প্রশ্নের জন্ম দেয়।

আফশোষ – ইসলামপন্থীরা বারবার ভুল মানুষকে অনুসরন করে বাংলাদেশের ইসলামকে একটা বিতর্কিত বিষয়ে পরিনত করেছে। ৭১ এর গনহত্যা থেকে স্বৈরশাসকের সমর্থন দিয়ে এখন বিতর্কিত ইসলাম বিরোধী শক্তির কুটচালে পা দিয়ে বসে আছেন। আল্লাহ এই মহা কুটচাল থেকে বাংলাদেশের মুসলিমদের ঈমান এবং আমলে হেফাযত করুন।

সূত্র: সদালাপ ব্লগ

এমএ/ ০৪:৩৯/ ১৮ ‍জুলাই

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে