Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২০ , ২১ চৈত্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.1/5 (23 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ১১-২২-২০১২

আমার বিশ্বাস ব্যবসায়ীরা ভুল করবেন না: আনিসুল হক


	আমার বিশ্বাস ব্যবসায়ীরা ভুল করবেন না: আনিসুল হক

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই)-এ ব্যবসায়ীরা সরাসরি সভাপতি নির্বাচন করতে চান। এবারের নির্বাচনে বিজয়ী হলে সেই পদ্ধতি নিশ্চিত করা হবে বলে কথা দিয়েছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ীনেতা এফবিসিসিআই‘র সাবেক সভাপতি আনিসুল হক।
আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে বুধবার দুপুরে একান্ত সাক্ষাৎকারে আনিসুল হক বলেন, “আমরা সাধারণ ব্যবসায়ীদের অধিকার ও ভোটাধিকারকে সম্মান করি। নির্বাচনে বিজয়ী হলে সভাপতি পদে সরাসরি নির্বাচনের ব্যবস্থা করা আমাদের অঙ্গীকার।”
আনিসুল হক বলেন, “এফবিসিসিআইতে এমন লোকেরই নেতা হওয়া উচিত যারা ব্যবসায়ীদের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে কথা বলবেন। নির্বাচনে দুই হাজার ব্যবসায়ীনেতা তাদের নেতা পছন্দ করে নিতে ভুল করবেন না বলেই আমার বিশ্বাস।”
ব্যবসায়ীরা সরাসরি তাদের নেতা নির্বাচন করলে তাদের মতামতের প্রতিফলন ঘটবে--এই অভিমত আনিসুল হকের।  
তিনি বলেন, “আসন্ন এফবিসিসিআই নির্বাচনে ব্যক্তিস্বার্থ থেকে সমষ্টি এবং সমষ্টির চেয়ে সংগঠনের স্বার্থকে বড় করে দেখা হবে। যাবতীয় সংকীর্ণতা ও প্রলোভনের উর্ধ্বে থেকে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে শিল্প ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে জাতীয় ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে বাস্তবমূখী তৎপরতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থাকে বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা উল্লেখ করে আনিসুল হক বলেন, “গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখতে দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের ন্যায়পরায়ণতা প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরি। শিল্প-বাণিজ্য একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি। তাই এ ব্যপারে সবাইকে সচেতন হতে হবে।”   
গণতান্ত্রিক পরিষদ প্যানেলকে সমর্থন জানিয়ে বিজয়ী করতে ব্যবসায়ীদের প্রতি অহ্বান জানান আনিসুল হক। তিনি বলেন, “ব্যবসায়ীদের জন্য এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থে আমরা সরকারের বিরোধিতা নয়, বরং সরকারকে বোঝানোর মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের দাবি আদায়ের চেষ্টা করব।”
মোহাম্মদী গ্রুপের চেয়ারম্যান, তৈরি পোশাক খাতের এই বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আরও বলেন, এফবিসিসিআই কোনো রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান নয় এটি ব্যবসায়ীদের সংগঠন তাই এখানে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ বড় কথা নয়। ব্যবসায়ীরা সভাপতি পদে সরাসরি নির্বাচন চান, আমরা এটা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।
সমঝোতার নামে যারা এফবিসিসিআইকে কুক্ষিগত করতে চায়, তাদের হাত থেকে এফবিসিসিআইকে রক্ষা করতে হবে, বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আনিসুল হক বলেন, ‘‘আমরা ব্যবসায়ীদের জানিয়েছি যে, আমরা সাধারণ সদস্যদের সরাসরি ভোটে সভাপতিসহ সকল পদে নির্বাচন, শেয়ারবাজার চাঙ্গা ও স্থিতিশীল করতে বিগত সময়ে কারসাজি ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবি জোরালো করা, ব্যাংক সুদের হার কমানো, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সঙ্কট সমাধানে কাজ করতে চাই।’’
তিনি বলেন, ‘‘সেইসাথে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ব্যাংকঋণের ব্যবস্থা করা, জেলায় চেম্বার ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা করা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বিকাশে মফস্বল ও জেলা পর্যায়ে এক কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণের সুদহার ৫ শতাংশের মধ্যে সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া ব্যাংকের টাকা লুটপাটকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যও কাজ করবে এই পরিষদ।’’
আনিসুল হক বলেন,‘‘এসব দৃষ্টিভঙ্গীর কারণেই অনেক ব্যবসায়ী আমাদের সমর্থন জানিয়েছেন।’’   
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: আনিসুল হক সিআইপি মর্যাদাপ্রাপ্ত দেশের একজন শীর্ষস্থানীয় শিল্প-উদ্যোক্তা এবং মোহাম্মদী গ্রুপের চেয়ারম্যান। ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই) এবং সার্ক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ’র (এসসিসিআই) সভাপতি ও  ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশের একজন পরিচালক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
এই ব্যবসায়ী দু`মেয়াদে বাংলাদেশ পোশাক শিল্প প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি ১২ বছর ধরে বিজিএমইএর কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন।
সামাজিক কর্মকাণ্ডে আনিসুল হক শরীফ রওশন মেমোরিয়াল ট্রাস্ট ও ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের সভাপতি এবং রোকেয়া লুৎফুল হক মেমোরিয়াল ট্রাস্ট ও মাইমুনা রশীদ জহুরুল হক মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সহ-সভাপতি। ব্যবসার বাইরে আনিসুল হক একজন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব হিসেবেও সুপরিচিত।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার রাজধানীর রূপসী বাংলা হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে গণতান্ত্রিক পরিষদের প্যানেল ঘোষণা করা হয়। এই প্যানেল থেকে কাউকে সভাপতি প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি। গণতান্ত্রিক পরিষদের প্যানেলে অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে ১৫ জন্য এবং চেম্বার গ্রুপ থেকে ১৮ জন প্রার্থী রয়েছেন।
এফবিসিসিআইয়ের পরিচালনা পরিষদে মোট ৪৮টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে দুই গ্রুপ থেকে ১৮টি পরিচালক পদে ভোট ছাড়াই নির্বাচিত হন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনের মনোনীত প্রতিনিধিরা। বাকি ৩০টি পদে ভোটের মাধ্যমে পরিচালক নির্বাচন করা হয়। এই পদগুলোর ১৫টি চেম্বার ও ১৫টি অ্যাসোসিয়েশন থেকে নির্বাচিত হবেন।
আগামী ২৪ নভেম্বর পরিচালক পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ২৬ নভেম্বর সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণের পর ২৯ নভেম্বর চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করবে নির্বাচন বোর্ড।
উল্লেখ্য, ব্যবসায়ী কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে আরেকটি প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে। আকরাম উদ্দিন আহমেদ ওই প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে