Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২০ , ১৪ চৈত্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.4/5 (10 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ১১-২১-২০১২

বিশিষ্টজনের অভিমত : এমপিদের প্রস্তাব অগণতান্ত্রিক


	বিশিষ্টজনের অভিমত : এমপিদের প্রস্তাব অগণতান্ত্রিক

ঢাকা, ২০ নভেম্বর- ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল অব বাংলাদেশ (টিআইবি) বন্ধ করে দেওয়ার ব্যাপারে জাতীয় সংসদে এমপিদের দাবিকে অগণতান্ত্রিক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা। তাদের মতে, রিপোর্টের ভিত্তি ও বিভিন্ন দিক নিয়ে তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া যেতে পারে। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা জাতীয় সংসদের সদস্যদের আরও বেশি সহনশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতার পাশাপাশি দ্বিমত প্রকাশের সুযোগ সমাজে চালু রাখতে হবে। অন্যথায় গণতন্ত্রই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। 

দেশের অর্ধেক সংসদীয় আসনের সদস্যদের ওপর গবেষণা চালিয়ে টিআইবি গত ১৪ অক্টোবর এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। যাতে বলা হয়, সংসদ সদস্যদের 
শতকরা ৯৭ ভাগই নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। সোমবার জাতীয় সংসদের সদস্যরা একযোগে টিআইবির ওই রিপোর্টে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। এমনকি প্রতিষ্ঠানটির কর্তাব্যক্তিদের সংসদে তলবসহ প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ারও দাবি ওঠে।
সংসদের এমন প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রবীণ আইন বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার রফিক-উল হক সমকালকে বলেন, এমপিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ অন্যান্য অভিযোগ যদি সত্য হয়, তাহলে সেটা মারাত্মক। আবার যদি মিথ্যা হয়, তাহলে সেটা আরও গুরুতর অভিযোগ; একটি দেশের উন্নয়নের পথে তা হবে অন্তরায় এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এ ক্ষেত্রে দু'পক্ষের উচিত আলোচনায় বসে অভিযোগের ভিত্তি খতিয়ে দেখা। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজন অনুসারে ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু তার আগে একতরফা টিআইবিকে বন্ধ করতে এমপিদের প্রস্তাব অগণতান্ত্রিক ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এমপিদের আরও ধৈর্যশীল হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আইন বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, 'টিআইবি বন্ধ করে দেওয়া উচিত'_ সংসদে এমপিদের এই প্রস্তাব সাংঘাতিক অবিবেচনাপ্রসূত। টিআইবি বন্ধ করলে যদি দেশ দুর্নীতিমুক্ত হয়, তাহলে এমপিদের ওই প্রস্তাবের একটি গ্রহণযোগ্যতা থাকত। কিন্তু বাস্তবতা হলো_ 'টিআইবির প্রতিবেদনে দুর্নীতির সঙ্গে এমপিদের যোগসূত্র রয়েছে' বলে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তার উত্তর না দিয়ে এমপিরা এখন টিআইবি বন্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছেন। আগে সরকার টিআইবির সমালোচনা করত। কারণ তারা পুলিশ ও বিচার বিভাগ সম্পর্কে নেতিবাচক প্রতিবেদন দিয়েছিল। আর এখন টিআইবি এমপিদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রতিবেদন দেওয়ায় সংসদ সে ভুমিকা নিয়েছে। এটা কোনো সঠিক পথ নয়। কেননা টিআইবির প্রতিবেদন জনগণের প্রতিক্রিয়ারই প্রতিফলন। বরং এখন এমপিদের উচিত জনগণের কাছে তাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার জন্য ইতিবাচক কাজ নিয়ে সর্তক পথে এগিয়ে যাওয়া।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, জাতীয় সংসদের সদস্যরা যেসব মন্তব্য করেছেন, তা দেখে মনে হচ্ছে তারা টিআইবির রিপোর্ট ভালোভাবে পড়েননি। সংসদ সদস্যরা দাবি করেছেন, গবেষণায় ত্রুটি রয়েছে। কী ত্রুটি সেটা বলেননি। বললে টিআইবি ব্যাখ্যা দিতে পারত। তার মতে, সামাজিক গবেষণায় ত্রুটি থাকতে পারে। তবে দেখতে হবে সেই ত্রুটি কতটা মারাত্মক। একই সঙ্গে ওই রিপোর্টের সারাংশ তৈরিতে 'কথিত' ত্রুটি কতটুকু প্রভাব ফেলছে। জাতীয় সংসদের মতো একটা স্থানে দাঁড়িয়ে এভাবে মন্তব্য করা দুর্ভাগ্যজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আরেক সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সংগঠনের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকতে হবে। সেখান থেকে দেখলে টিআইবি এ ধরনের রিপোর্ট প্রকাশের অধিকার রাখে। তিনি বলেন, জনগণের দিক থেকে আমরা আরও স্পষ্ট রিপোর্ট টিআইবির কাছে আশা করি। 
তিনি জাতীয় সংসদে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের আরও বেশি সহনশীল ও পরমতসহিষ্ণু হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তথ্যের বিভ্রাট অথবা পরিবেশনায় অস্পষ্টতার কারণে ব্যাখ্যা চাওয়া যেতে পারে। সার্বভৌম সংসদের ভাবমূর্তি রক্ষায় সংসদ সদস্যরা সোচ্চার হবেন সেটা যেমন ঠিক, তেমনি যাদের বিরুদ্ধে বলবেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা থাকতে হবে। টিআইবির মতো একটি বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান অবস্তুনিষ্ঠতা ও অস্পষ্টতার মাধ্যমে কিছু করবে না বলেই জনগণ বিশ্বাস করে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যেমন থাকবে তেমনি দ্বিমত প্রকাশের অধিকারও থাকবে। তাই বলে কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হতে পারে না। গণতন্ত্রের জন্য এ ধরনের পদক্ষেপ হবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। 
সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, একটা গণতান্ত্রিক সমাজে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া কোনো ভালো পদক্ষেপ হতে পারে না। টিআইবি একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশ চ্যাপ্টার। এ ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার মতো উদ্যোগ সরকার নেবে না বলেই তিনি বিশ্বাস করেন। তার মতে, টিআইবির রিপোর্ট নিয়ে জাতীয় সংসদ যে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে, সেটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তিনি বলেন, ওই রিপোর্টে শুধু সরকারি দলের নয়, বিরোধী দলের এমপিদের কথাও বলা হয়েছে। তাই সরকারের উচিত হবে ওই রিপোর্ট সম্পর্কে বিস্তারিত জানা। তিনি বলেন, বাংলাদেশে সবকিছুই রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত হয়ে আছে। তাই কেউ যদি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে কিছু করে সেটা খতিয়ে দেখা উচিত। এমনকি টিআইবি কোন উপায়ে রিপোর্ট তৈরি করেছে, তাও জনগণের সামনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরতে হবে। শুধু শতকরা ৯৭ ভাগ সংসদ সদস্য নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত_ এতটুকু বলেই শেষ করা ঠিক নয়। বাকি তিন ভাগ কারা সেটাও জনগণকে জানতে হবে। কোন উপায়ে এ ধরনের সূচক পাওয়া গেছে, তাও সুনির্দিষ্ট করতে হবে। 
সরকার বাড়াবাড়ি করছে : মওদুদ
বিবিসি জানায়, বর্তমান সংসদের ৯৭ শতাংশ সদস্য কোনো না কোনো নেতিবাচক কাজে জড়িত_ ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এ প্রতিবেদন নিয়ে সরকার বাড়াবাড়ি করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তিনি বলেন, প্রতিবেদন নিয়ে সরকারের এত উত্তেজনা দেখানো ঠিক হয়নি। গতকাল মঙ্গলবার বিবিসি বাংলাকে তিনি এসব কথা বলেন।
মওদুদ বলেন, প্রতিবেদনটি নিয়ে সরকার ওভার রিঅ্যাক্ট করেছে। টিআইবি বলেনি যে, সব সংসদ সদস্যের ওপর সমীক্ষা করেছে। তারা একটা অংশের ওপর সমীক্ষা করেছে। এর ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। সরকার ইচ্ছা করলে এটা গ্রহণ করতে পারে। আবার বর্জনও করতে পারে। তারা (সরকার) বলতে পারে_ প্রতিবেদনটি তথ্যভিত্তিক হয়নি। টিআইবি বন্ধ করে দিতে হবে, দেশ ত্যাগ করাতে হবে_ এটা ওভার রিঅ্যাক্ট। সরকারের উচিত ছিল, এ বিষয়ে একটি কমিটি বা কমিশন গঠন করা। তদন্ত করতে পারত সরকার। তদন্তে যেসব মন্ত্রী-এমপির বিরুদ্ধে অনৈতিক কাজের প্রমাণ মিলত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া ছিল উত্তম। 
এক প্রশ্নের জবাবে মওদুদ বলেন, প্রতিবেদনটির অনেক তথ্য সঠিক। আমরা একেবারে শুদ্ধ মানুষ, আমাদের ত্রুটি নেই_ এটা ভাবা ঠিক হবে না।
বিএনপির সময়ও টিআইবির সমালোচনা করা হয়েছে_ এ প্রশ্নের জবাবে মওদুদ বলেন, সমালোচনা হয়েছে এটা ঠিক। তবে এত রিঅ্যাক্ট হয়নি। বিষয়টি সংসদ পর্যন্ত গড়ায়নি।
 
এদিকে, সংসদে টিআইবি নিয়ে দেওয়া বক্তব্যকে বাড়াবাড়ি বলে মন্তব্য করেছেন বাম রাজনীতিক হায়দার আকবর খান রনো। তিনি বলেন, যখনই যে সরকার ক্ষমতায় থাকে, তারা টিআইবির ওপর ক্ষিপ্ত হয়। টিআইবিকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে যে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়েছে, তা বাড়াবাড়ি।
রে

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে