Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২০ , ১৭ চৈত্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.2/5 (14 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১১-২১-২০১২

পরাগ অপহরণকারী আমির গ্রেফতার

সাহাদাত হোসেন পরশ



	পরাগ অপহরণকারী আমির গ্রেফতার

শিশু পরাগ মণ্ডল অপহরণের মূল হোতা আমির আলীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি টিম তাকে গ্রেফতার করে। রাত সোয়া ১০টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি কোন এলাকা থেকে আমিরকে গ্রেফতার করা হয়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তাকে গ্রেফতারের ব্যাপারটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। এর আগে পরাগ মণ্ডল অপহরণের ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে র‌্যাব ৬ জন ও ডিবি একজনকে গ্রেফতার করে। এদের মধ্যে চারজনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী আশা করছে, আমিরকে গ্রেফতারের মাধ্যমে পরাগ মণ্ডল অপহরণের মূল রহস্য বেরিয়ে আসবে। 

এ ঘটনায় অপহরণের মূল হোতা হিসেবে আমিরের নাম আসার পর জনমনে প্রশ্ন ছিল, কে এই আমির? তার পরিচয় কী? আমির ল্যাংড়া আমির বলে কেরানীঞ্জবাসীর কাছে পরিচিত। দীর্ঘদিন কেরানীগঞ্জ থেকে দূরে থাকায় আবার আলোচনায় আসে আমির। পরাগ মণ্ডল অপহরণের প্রধান নায়ক আমির। হঠাৎ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় আমিরের নাম প্রকাশ হলেও কেরানীগঞ্জবাসী প্রথমে বুঝতে পারেনি। পরাগ মণ্ডল অপহরণে জড়িত সন্দেহে সাতজন গ্রেফতারের পর আমিরের আসল পরিচয় বেরিয়ে আসতে থাকে। 
আমির আলী ওরফে ল্যাংড়া আমির। তার বাবার নাম মৃত আব্বাস আলী। বাড়ি মুন্সীগঞ্জ সদর কাঠপট্টি রামগোপালপুর গ্রামে। আমিরের জন্ম দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার হাসনাবাদ এলাকায় নানার বাড়িতে। তার নানির কাছে বড় হয় আমির। ছোট বেলা থেকেই অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। তার বড় ভাই মনির আলীও সন্ত্রাসী ছিল। ১৯৮৫ সালে রাজধানীতে মনির আলী সন্ত্রাসী গ্রুপ তৈরি করে। আমির তার ভাইয়ের গ্রুপের সদস্য ছিল। নিজ দলের সদস্যদের হাতে মনির আলী খুন হয়। ওই সময় থেকে আমির আলী রাজধানী থেকে কেরানীগঞ্জে নিজস্ব একটি সন্ত্রাসী বাহিনী তৈরি করে। ১৯৮৭ সালে আমির আলী কেরানীগঞ্জে আমির বাহিনী গঠন করে। ওই সময় আমির আতঙ্কে ছিল কেরানীগঞ্জবাসী। আমির বাহিনীর ঘাঁটি ছিল শুভাঢ্যা কৈর্ত্যপাড়া ও গোলামবাজার। তার বাহিনীর তাণ্ডবে পুলিশ অতিষ্ঠ ছিল। তাকে ধরতে পুলিশ মরিয়া হয়ে ওঠে। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ২০০০ সালের ৩০ জানুয়ারি আমিরের সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন। পুলিশ ওই সময় পাল্টা গুলি চালালে আমির পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়। ওই সময় তাকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করে পুলিশ। আমির জেলহাজতে গেলে তার নিজ দলের সদস্য গোলামবাজার এলাকার জলিল নতুন একটি বাহিনী তৈরি করে। আমির জেলহাজত থেকে ছাড়া পেয়ে আবার কেরানীগঞ্জে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে থাকে। প্রায়দিনই গোলামবাজারে আমির ও জলিল গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলি হতো। প্রায় এক যুগ কেরানীগঞ্জ ও রাজধানীতে বসবাস করছে সে। এখনও তার ঠিকানা পুলিশ খুঁজে বের করতে পারেনি। কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় ১৯৯৩-২০০০ সাল পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে ৪টি হত্যা, ৫টি অস্ত্র আইনে মামলা রয়েছে। পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ায় ২টি মামলা আছে। আমির সুঠাম দেহের অধিকারী। 
সূত্র জানায়, আমিরের সঙ্গে কেরানীগঞ্জের স্থানীয় একাধিক রাজনৈতিক নেতার সখ্য ছিল। তাদের কেউ আমিরকে ব্যবহার করেছে কি-না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এমনকি আমিরের সঙ্গে কার কার ভালো যোগাযোগ ছিল, তাদেরও শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে