Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ১১-১৯-২০১২

আরেকবার সুযোগ দিন, দেশের চেহারা পাল্টে দেব-খালেদা


	আরেকবার সুযোগ দিন, দেশের চেহারা পাল্টে দেব-খালেদা

বরিশাল, নভেম্বর ১৯- দেশ পরিচালনায় আরেকবার তাকে সুযোগ দেওয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া। 

সোমবার বিকালে বঙ্গবন্ধু উদ্যানে (বেলস পার্ক) এক জনসভায় তিনি বলেন, “আরেকবার জনগণের সমর্থন ও সুযোগ চাই। আমি এদেশের চেহারা পাল্টে দেব। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে একটি মডেল দেশ হিসেবে উপহার দেবো।’’ 
 
সেইসঙ্গে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে 
তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন খালেদা। 
 
নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে ১৮ দলীয় জোট এই জনসভার আয়োজন করে। 
 
বরিশাল ছাড়াও ভোলা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বরগুনা ও ঝালকাঠি থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী লঞ্চ,বাস, ট্রাকে করে এসে এতে যোগ দেন। বিকাল সাড়ে তিনটার মধ্যে বঙ্গবন্ধু উদ্যান জনসমুদ্রে পরিণত হয়। 
 
জনগণের উদ্দেশে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, “জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আমার আর চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। জনগণের জন্য কিছু করতে চাই। দেশের চেহারা যদি পরির্তন করতে না পারি, আপনারা যে শাস্তি দেবেন, তা মেনে নিতে রাজি আছি।” 
 
ক্ষমতাসীন মহাজোটের শরিকদের জোট থেকে বেরিয়ে আসার আহবানও জানান তিনি। 
 
সর্বশেষ ২০১০ সালের ১২ মে এই মাঠে বিএনপির এক মহাসমাবেশে বক্তব্য দেন খালেদা জিয়া। 
 
খালেদা জিয়া ৪০ মিনিটের বক্তব্যে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, সরকারের কথিত ব্যর্থতা, অপশাসন ও ছাত্রলীগের ‘সন্ত্রাসের’ চিত্র তুলে ধরেন। পাশাপাশি আগামীতে ক্ষমতায় গেলে নিজ দলের করণীয় বিষয়গুলো জনগণের সামনে তুলে ধরেন। 
 
নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে বিএনপি চেয়ারপারসন সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সরকার যতই চেষ্টা করুক, তারা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। দলীয় সরকারের অধীনে সংবিধান সংশোধন করে নির্বাচন করার চিন্তা থাকলেও তাদের অধীনে এদেশে কোনো নির্বাচন হবে না, হতে দেয়া হবে না। 
 
খালেদা বলেন, এই জনসমুদ্র প্রমাণ করে সরকারের ওপর জনগণের আস্থা নেই। তাদের অধীনে কোনো নির্বাচন দেশের মানুষ মেনে নেবে না। 
 
“সরকারকে বলব, দেখে যান- জনগণ কী চায়। তাদের আওয়াজ ও আহ্বান শুনুন।’’ 
 
বিএনপিকে ‘মুক্তিযুদ্ধের দল’ অভিহিত করে তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে দেশবাসীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। 
 
সেইসঙ্গে খালেদা প্রতিশ্রুতি দেন যে, তিনি ক্ষমতায় গেলে গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত উন্নয়নের মাধ্যমে দেশে পরিবর্তন আনবেন। 
 
“আমরা কোনো দল ও ধর্মের মধ্যে ভেদাভেদ সৃষ্টি করবো না। বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, গ্যাস, বিদ্যুৎসহ সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেয়া হবে।’’ 
 
বরিশালে গত চার বছরে কোনো উন্নয়ন হয়নি দাবি করে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী অঙ্গীকার করেন, আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বরিশালে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, পটুয়াখালী ও কক্সবাজারে পূর্ণাঙ্গ পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। এই অঞ্চলের নদী ভাঙ্গন সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হবে। 
 
স্নাতক ডিগ্রি পর্যন্ত মেয়েদের বিনা বেতনে অধ্যয়নের সুযোগ সৃষ্টির প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। 
 
পদ্মা সেতু প্রকল্পে ‘দুর্নীতি’ 
 
পদ্মা সেতু প্রকল্পে কথিত দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে খালেদা দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রীর পরিবার এই দুর্নীতিতে জড়িত। 
 
“দুর্নীতি দমন কমিশন আগে বলেছিলো- এই প্রকল্পে কোনো দুর্নীতি হয়নি। এখন সরকারের সময় শেষ বলে তারা (দুদক) স্বীকার করছে, একটু একটু দুর্নীতির গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। 
 
“কেন দুর্নীতি দমন কমিশন নিরপেক্ষ তদন্ত করেনি, একদিন তাদেরও জবাবদিহি করতে হবে।’’ 
 
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে মাওয়া ও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় দুটি সেতু নির্মাণ করবে বলে জানান তিনি। 
 
ছাত্রলীগ প্রসঙ্গে 
 
সরকারি দল সমর্থক ছাত্রলীগকে ‘জঙ্গি’ আখ্যায়িত করে বিরোধী দলীয় নেতা অভিযোগ করেন, “আজ তাদের (ছাত্রলীগ) হাতে অস্ত্র তুলে দেয়া হচ্ছে। তারা প্রতিনিয়ত মানুষ হত্যা করছে।” 
 
কেরানীগঞ্জে শিশু পরাগ ম-লকে ছাত্রলীগের লোকজন অপহরণ করেছিল বলেও তিনি দাবি করেন। 
 
“অপহরণকারীরা ছাত্রলীগের বলে তাদের ধরা হচ্ছে না।” 
 
পরাগ ম-লকে অপহরণের ঘটনায় একজন মন্ত্রীর ভাগ্নে জড়িত বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। 
 
এ প্রসঙ্গে তিনি আরো দাবি করেন, ছাত্রলীগ মানুষের জমি-জমা, বাড়ি-ঘর, মন্দিরসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান দখল করছে। আওয়ামী লীগের ঘরে ঘরে আজ জঙ্গি। বিশেষ করে ছাত্রলীগ জঙ্গিরূপ ধারণ করছে। তারা দানবে পরিণত হয়েছে। শিক্ষকদের ওপর হাত উঠাতেও ছাত্রলীগের কর্মীরা দ্বিধাবোধ করছে না। 
 
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার ঘটনার নিন্দাও জানান তিনি। 
 
বিএনপির বিরুদ্ধে সরকারি দলের ‘জঙ্গিবাদের’ অভিযোগ নাকচ করে খালেদা জিয়া বলেন, “দাঁড়ি টুপিওয়ালা মুসলমানদের দেখলে সরকার তাদের জামায়াত-শিবির-হরকাতুল জিহাদ বলেজঙ্গি বানিয়ে নির্যাতন চালাচ্ছে। এভাবে মুসলমানদের ওপর নির্যাতন করে তারা নিজেরাই সন্ত্রাস করছে।’’ 
 
দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর সভাপতি মজিবুর রহমান সারওয়ারের সভাপতিত্বে জনসভায় বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আ স ম হান্নান শাহ, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, সহসভাপতি আবদুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সাদেক হোসেন খোকা, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, খন্দকার মাহবুব হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা নুরুল ইসলাম মনজুর, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, বিরোধী দলীয় প্রধান হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলম, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম রাজন, সাবেক সাংসদ হাফিজ ইব্রাহিম, মহিলা দলের সভাপতি নুরী আরা সাফা, সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নিরব, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল, বরিশাল জেলা সভাপতি আহসান হাবিব কামাল, সাধারণ সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, উত্তররের সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ, সাধারণ সম্পাদক আখন্দ কুদ্দুসুর রহমান, কামরুল হাসান শাহিন, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, মাহবুবুল হক নান্নু , ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব আহসান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। 
 
১৮ দলীয় জোটের নেতাদের মধ্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি অলি আহমেদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যন আন্দালিব রহমান পার্থ, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মজিবুর রহমান, খেলাফত মজলিশের চেয়ারম্যান মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আবদুল লতিফ নেজামী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নিলু, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক লীগের সভাপতি খন্দকার গোলাম মূর্তজা, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব আবদুল হক কাউসারী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। 

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে