Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২০ , ১৭ চৈত্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ১১-১৬-২০১২

দুই হাতে গুলি চালিয়ে পরাগকে ছোঁ মেরে তুলে নেয় আমির


	দুই হাতে গুলি চালিয়ে পরাগকে ছোঁ মেরে তুলে নেয় আমির

দুই হাতে দুই পিস্তল চালিয়ে কমান্ডো স্টাইলে পরাগকে ছোঁ মেরে তুলে নিয়ে যায় শীর্ষ সন্ত্রাসী আমির। চোখের পলকে তাকে নিয়ে উধাও হয়। র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তারকৃত অপহরণকারী জাহিদুল ইসলাম (১৮) গতকাল র‌্যাব সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের কাছে এমন তথ্য জানিয়েছে। বুধবার রাতে জুরাইনের ১/২ নম্বর মেডিকেল রোডের একটি বাড়ি থেকে জাহিদসহ আরও ৫জনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এছাড়া অপহরণকাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।  গ্রেপ্তারকৃত অন্যরা হচ্ছে ঘটনার নেতৃত্বদানকারী আমিরের ভগ্নিপতি আবুল কাশেম (৩৬), দনিয়া কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র জাহিদুল হাসান, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ভাড়াটিয়া কালাচান মৃধা (৩৫), উত্তরার এরোনটিক্যাল ইন্সটিটিউটের ছাত্র  মোহাম্মদ আলী ওরফে রিফাত (১৯), তার বন্ধু রিজভী আহমেদ অনিক (১৯), আলফাজ হোসেন ও এক রেস্তরাঁর বেয়ারা মাসুদ (২৩)। গতকাল র‌্যাব সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করার পর জাহিদুল বলে, মুক্তিপণের  ৫০ লাখ টাকা আদায় করলেও তারা এক টাকাও পায়নি। এমনকি অপহরণের পর আমিরের সঙ্গে তাদের দেখাও হয়নি। সে কেরানীগঞ্জের একটি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। অপহরণের দিন সে নিজে এবং মোহাম্মদ আলী ওরফে রিফাত ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। জমি কেনাবেচার টাকা উদ্ধারের জন্য আমির মোটরসাইকেল নিয়ে ঘটনাস্থলে যেতে বলে। তার কথায় রিফাতকে নিয়ে সেখানে হাজির হই। পরে পরাগের বোন, মা ও গাড়ির চালককে গুলি করে পরাগকে তুলে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। একটি মোটরসাইকেল চালাচ্ছিল রিফাত। তার পেছনে বসা ছিল আমির। তারা বাচ্চাটাকে মাঝখানে বসিয়ে ওই এলাকা থেকে চলে যায়। এরপর তারা আর আমিরের সঙ্গে না গিয়ে বাসায় ফিরে যায়। জাহিদ আরও বলে, পরের দিন আমার পরীক্ষা ছিল। কিন্তু ভয়ে পরীক্ষা দেইনি। পরে মঙ্গলবার রাতে পালিয়ে আমিরের দুলাভাইয়ের বাসায় আত্মগোপন করে থাকি। এর পরের দিন সেখান থেকে জুরাইনে চলে যাই। সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার এম সোহায়েল বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আবুল কাশেমের স্ত্রীর বড় ভাই আমির। সে-ই পরাগ অপহরণের মূল হোতা। গ্রেপ্তারকৃত ৬ জনের মধ্যে তিনজনই সরাসরি অপহরণে অংশ নেয়। এরা হলো- জাহিদুল, রিফাত ও কালাচান। কালাচান বলে, প্রায় এক মাস আগে পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে একটি সিএনজি অটোরিকশা কিনে দেয়ার লোভ দেখিয়েছিল আমির। বিনিময়ে বিমল মণ্ডল, তার স্ত্রী ও সন্তানেরা কখন বাসা থেকে বের হয়, কখন বাসায় যায়- এসব তথ্য জানাতে বলে। তার কথামতো অপহরণের এক সপ্তাহ আগে থেকে বিমলের পরিবারের ওপর নজরদারি শুরু করি। ঘটনার দিন সকাল পৌনে ৭টায় বিমলের বাড়ির আশপাশে অবস্থান নেই এবং মোবাইল ফোনে বিমল ও তার পরিবারের সদস্যদের গতিবিধি সম্পর্কে আমিরকে জানান। আমার কাছ থেকে তথ্য পেয়েই আমির ও তার সহযোগীরা দুই মোটরসাইকেলে এসে কমান্ডো স্টাইলে গুলি করে পরাগকে তুলে নিয়ে যায়। পরে আমি বাড়ি চলে যাই।
জাহিদসহ তিনজন ঘটনার রাতে কাশেমের বাসায় গিয়েছিল। এ বিষয়ে কাশেম বলে, অপহরণের ঘটনা তার জানা নেই। জাহিদ আগেও কয়েকবার আমিরের সঙ্গে বাসায় এসেছে। ওই পরিচয়ের সূত্র ধরেই তারা আমার বাসায় রাত কাটিয়েছে। পরে বুধবার সকালে নাশতা খেয়ে চলে যায়। র‌্যাবের কমান্ডার এম সোহায়েল বলেন, অপহরণ রহস্যের জট খুলবে আমির গ্রেপ্তার হওয়ার পর। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই জানা যাবে এ অপহরণে জড়িত আরও কোন গডফাদার আছে কিনা। তিনি আরও বলেন, অপহরণের মূল পরিকল্পনাকারী কেরানীগঞ্জের দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী আমির। তাকে ধরতে পারলে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণের বিষয়টিও পরিষ্কার হবে। র‌্যাবের গোয়েন্দা ইউনিটের পরিচালক লে. কর্নেল জিয়াউল আহসান বলেন, এ অপহরণের নেপথ্যে যুবলীগ কিংবা যে কোন রাজনৈতিক দলের যারাই জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। র‌্যাব জানায়, অপহরণের মূল পরিকল্পনাকারী আমির এক মাস আগে জেল থেকে জামিনে ছাড়া পায়। সে এক সময় জুরাইন এলাকায় ছাত্রলীগ নেতা সাজুর সঙ্গে ওঠাবসা করতো। গত বছর সাজু ক্রসফায়ারে নিহত হওয়ার পর ওই এলাকায় আমিরের চলাফেরা বেড়ে যায়। কেরানীগঞ্জের একটি জমির টাকা লেনদেনের ঘটনার জন্য জুরাইন এলাকার কলেজছাত্র জাহিদ ও রিফাতসহ কয়েকজনকে ঘটনার দিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে আসতে বলে। ঘটনার দিন আমির ও আলামিন একটি মোটরসাইকেলে এবং আরেকটি মোটরসাইকেলে জাহিদ ও রিফাত ছিল। গুলি করে পরাগ মণ্ডলকে অপহরণ করে আমিরের মোটরসাইকেলে উঠিয়ে নেয়। তারা শুভাঢ্যা ব্রিজ অতিক্রম করার পর আমির ও আলামিন কোনাখালের দিকে চলে যায়। জাহিদ ও রিফাত জুরাইন চলে আসে। এরপর আমির জাহিদ, রিফাত ও আলামিনকে তিনটি সিমকার্ডসহ তিনটি মোবাইলফোন সেট দেয়। এই মোবাইল ফোন দিয়ে আমিরের সঙ্গে যোগাযোগ হতো। গত মঙ্গলবার রাতে বছিলার বেড়িবাঁধ সংলগ্ন আওয়াল মার্কেটের কাছে অপহরণকারীদের সঙ্গে পরাগ মণ্ডলের পিতা বিমল মণ্ডলের যোগাযোগ হয়। এরপর রাত সাড়ে ১২টার দিকে অপহরণকারীরা বছিলা ব্রিজ অতিক্রম করে কেরানীগঞ্জে আমিরের বড় বোনের বাসায় চলে যায়। সেখানে  অপহরণকারীরা রাতের খাবার খায়। এ ব্যাপারে অপহরণকারীদের সহায়তা করার অভিযোগে আমিরের ভগ্নিপতি আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তার করা হয়। আবুল কাশেমের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে কালাচানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেয়া তথ্য নিয়ে বুধবার গভীর রাতে জুরাইনের মেডিকেল রোডের ১/২ নম্বর বাড়ির তেতলা থেকে রিফাত ও মাসুদ এবং ওই বাড়ির ছাদ থেকে জাহিদ, অনিক ও আলফাজ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মাসুদ গ্রেপ্তারকৃতদের অপহরণের ঘটনা চেপে যাওয়ার জন্য তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেয়ার পরামর্শ দেয়। এ কারণে মাসুদকে র‌্যাব গ্রেপ্তার করে। এদিকে, সংবাদ সম্মেলনে এই অপহরণের পিছনে শুভাঢ্যা ইউনিয়নের এক যুবলীগ নেতার জড়িত থাকার ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে র‌্যাবের মিডিয়া এ্যান্ড লিগ্যাল শাখার পরিচালক এর উত্তর এড়িয়ে যান।
দুই গড ফাদারকে খোঁজা হচ্ছে: পরাগ অপহরণের দুই শীর্ষ কুচক্রী শুভাঢ্যা ইউনিয়নের যুবলীগ নেতা ও শীর্ষ সন্ত্রাসী আমিরকে খুঁজছে র‌্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দারা। ঘটনার পরপরই তারা পলাতক। র‌্যাব ও গোয়েন্দারা জানান, এই দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হলে পরাগ অপহরণ রহস্যের জট খুলবে। একইসঙ্গে মুক্তিপণ আদায় নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের অবসান হবে। এদিকে পরাগকে অপহরণের ঘটনায় বুধবার মামুন (৪০) নামের একজনকে মুন্সীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গতকাল তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া  জাহিদুল বলে, তার বাবা ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চাকরি করেন। ঘটনার কয়েক বছর আগে থেকেই জুরাইনের ছাত্রলীগ নেতা সাজুর মাধ্যমে আমিরের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ওই সূত্রে তার সার্কেলের বন্ধুরা আমিরকে বড় ভাই হিসাবে মান্য করতো। অপহরণের কয়েক দিন আগে জমিজমা নিয়ে এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার বিরোধ আছে বলে সে জানায়। এ কারণে ঘটনার দিন সকালে আমির তাকে বিমল মণ্ডলের বাড়ির সামনে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে তার হাতের মোবাইলটি নিয়ে তাকে অন্য একটি মোবাইল ফোন ধরিয়ে দেয়। সকাল সোয়া ৭টার দিকে আমির ও আলামীন পরাগের মা, বড় বোন ও তাদের গাড়ির ড্রাইভারকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে পরাগকে তার মায়ের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়। ওই রাতে সে এবং তার আরেক সহযোগী রিফাত সাভারের ভাকুর্তা এলাকার চরমাসি গ্রামে আমিরের ভগ্নিপতি আবুল কাশেমের বাড়িতে চলে যায়।
পরাগের পরিবারকে নিরাপত্তা দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ: কেরানীগঞ্জ থেকে অপহরণের পর উদ্ধার হওয়া শিশু পরাগ মণ্ডল এবং তার পরিবারকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি ফরিদ আহমেদের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল এ আদেশ দেয়। একই সঙ্গে পরাগ মণ্ডলের পরিবারকে নিরাপত্তা দেয়ার কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করা হয়েছে। সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্টদের ১২ দিনের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। রোববার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসার সামনে থেকে মা ও বোনকে গুলি করে পরাগকে অপহরণ করে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। পরে মঙ্গলবার রাতে তাকে পাওয়া যায়। ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণের বিনিময়ে পরাগকে সন্ত্রাসীরা ফেরত দেয়। শিশুটি এবং তার পরিবারের নিরাপত্তার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন সাংবাদিক নাজিম উদ্দিন আহমেদ। আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ড. মুহাম্মদ ইউনূস আলী আকন্দ। তিনি বলেন, শিশুটির পিতা মুক্তিপণ দেয়ার পরও তা অস্বীকার করছে। মূলত ভয় পাওয়ার কারণেই তিনি তা অস্বীকার করছেন। এ অবস্থায় শিশু এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার। তিনি বলেন, শিশুটির পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এরই মধ্যে সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। শুনানি শেষে আদেশ দেয় আদালত।
৭ দিনের রিমান্ডে মামুন: স্কুলছাত্র পরাগ অপহরণে জড়িত অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া মামুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ। গতকাল মহানগর মুখ্য হকিম মো. তাজুল ইসলাম এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের ইন্সপেক্টর আসাদুজ্জামান বলেন, পরাগকে অপহরণ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনির হোসেন আদালতে মামুনের ১০ দিনের রিমান্ড চাইলে বিচারক ৭দিনের দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মনির হোসেন বলেন, পরাগের অপহরণের পেছনে মামুন জড়িত।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে