Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২০ , ১৭ চৈত্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ১১-১৬-২০১২

চলচ্চিত্র নির্মাতা সুভাষ দত্ত আর নেই


	চলচ্চিত্র নির্মাতা সুভাষ দত্ত আর নেই

দেশীয় চলচ্চিত্রের জীবন্ত কিংবদন্তী নির্মাতা ও অভিনেতা সুভাষ দত্ত আর নেই। আজ সকাল ৭ টা১০ মিনিটে তিনি ঢাকার টিকাটুলিস্থ নিজ বাসভবনে পরলোক গমন করেছেন। বার্ধক্যজনিত কারণেই তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন বলে জানিয়েছেন তার ছেলে শিবাজী দত্ত। মৃত্যুকালে সুভাষ দত্তের বয়স হয়েছিলো প্রায় ৮৩ বছর। সুভাষ দত্তের জন্ম দিনাজপুরে। সময়কাল ব্রিটিশ-ভারত। ১৯৩০ সালের ৯ই ফেব্র“য়ারি তার জন্ম।  দিনাজপুরে ছিলো তার মামার বাড়ি। বাবা মায়ের বাড়ি ছিলো বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে।  আঁতুড় ঘর থেকে পরবর্তী শৈশব-কৈশর কেটেছে তার মামা বাড়িতে। সে অর্থে বাবার বাড়ি ছিলো তার  কাছে অনেকটাই অচেনা। মূলত লেখাপড়ার জন্যই তাকে মামার বাড়িতে রাখা হয়। সুভাষ দত্তের ডাক নাম পটলা। ভালো নাম সুভাষ চন্দ্র দত্ত। ছোটবেলা থেকেই ভীষণ দুষ্ট ছিলেন সুভাষ দত্ত।  কিন্তু পড়াশোনায় বরাবরই ভালো ছিলেন তিনি। তার বাবা স্বর্গীয় প্রভাস চন্দ্র দত্ত ছিলেন একজন নাটক পাগল মানুষ। তিনি নাটকে অভিনয় করতেন এবং স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় ছিলেন বেশ। মামারাও নাটক করতেন। মামাদের দেখে ৮/১০ বছর বয়সে নিজেই নির্দেশনা দিয়ে ছোটদের নিয়ে নাটক করলেন। নাটকটির নাম ছিল ‘ পরাজয়’। এই নাটকটি করার পর চারিদিকে তার খুব নাম হয়।  দিনাজুপরের নাট্য সমিতির লোকজন বিষয়টি জানতে পারে। সমিতির লোকজন তাকে একদিন ডেকে সিরাজউদ্দৌলার মেয়ে উম্মে জোহরার চরিত্রে তাকে অভিনয় করতে বলেন। তিনি অভিনয় করলেন। সবাই খুব বাহবা দিয়েছিলো সেদিন। কিন্তু স্কুলের সবাই মেয়ে চরিত্রে অভিনয় করার কারণে ঠাট্টা করলো। এরপর আর মেয়ে চরিত্রে অভিনয়  করেননি। কলকাতা আর্ট কলেজে পড়ার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু পরিবার থেকে সে সময় কেউ তাকে সহযোগিতা করেনি। তাই হয়ে উঠেনি। কিন্তু তিনি নিজেই টাকা যোগাড় করে তখন বোম্বে চলে যান। কারণ তার ইচ্ছে ছিলো বোম্বে গিয়ে সিনেমা পাবলিসিটির কাজ করার। কিন্তু সেখানে গিয়ে কোথাও কিছু করা হয়ে উঠলো না। একদিন ফুটপাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন হতাশ মনে। কে একজন পিছন থেকে বলে উঠলো ‘ আব্বে সুভাষ তুই এইহানে! তিনি বললেন আরে বিশ্বনাথ তুই এখানে! বিশ্বনাথ ছিল সেখানকার আর্ট কলেজের ছাত্র। কিছুদিন বিশ্বনাথের পরিচয়ের সুত্র ধরে একটি কমার্শিয়াল আর্টের কারখানায় চাকরি করে কিছুদিন পর ঘরের ছেলে ঘরেই ফিরে আসেন। আর বোম্বে যাওয়া হয়নি তার। এরপর ঢাকায়  এলেন ১৯৫৩ সালের নভেম্বরে। ঢাকায় এসে একটি পাবলিসিটি ফার্মে চাকরী নিলেন। বেতন ধরা হলো ১১০ টাকা। তার কাজ দেখে সবাই ব্যাপক খুশি তখন। চারিদিকে ফার্মের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। মালিক খুশি হয়ে বেতন বাড়িয়ে করলেন ২০০ টাকা। পরের বছরই বিয়ে হলো সীমা দত্তের সঙ্গে।  চিত্রালীর এসএম পারভেজ সাহেব তাকে একদিন ডাকলেন। তিনি বললেন- আমি ‘মাটির পাহাড়’ নামের একটি সিনেমা করছি। এর টাইটেল এবং পোস্টারের কাজ আপনি করে দিবেন। পারভেজ সাহেবের সাথে চিত্রালী পত্রিকার লোগো-এর কাজ করতে গিয়ে সুভাষ দত্তের আগেই পরিচয় ছিলো। তিনি তাকে তার ছবির শুটিং-এ থাকারও অনুমতি দিলেন। ১৯৫৫ তে সত্যজিৎ রায়ের পথের পাঁচালী মুক্তি পেলা। সে বছর পথের পাঁচালী দেখলেন। এবং যথারীতি তার মাথা ঘুরে গেলো। মাথায় তখন ছবি নির্মাণের পোকা ঢুকে গেলো। যাই হোক এহতেশামের ‘এ দেশ তোমার আমার’ ছবিটিতে প্রথম কমেডিয়ান হিসেবে অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি। এভাবে ১৯৬০,৬১ ও ৬২ প্রায় শেষ। তখন হঠাৎ তার মনে হলো তিনিতো অভিনয় করতে আসেননি। শচীন ভৌমিকের একটি গল্পের চিত্রনাট্য সৈয়দ শামসুল হককে দেখালেন। তিনি বললেন - সব ঠিক আছে। অতঃপর সত্য সাহার সাথে তার কথা হলো। তিনিই চট্টগ্রামের একটি মেয়ের কথা বললেন। নায়িকা নির্বাচিত হলো। ছবিও শেষ। মুক্তি পেলা ‘সুতরাং’ ১৯৬৪ সালের ২৩শে   এপ্রিল। ঢাকা, খূলনা, রাজশাহী আর চট্টগ্রামে চারটি প্রিন্ট দিলেন। ছবি সুপারহিট। হিট এই ছবির নায়িকা কবরীও। সুভাষ দত্ত অভিনীত উলেখযোগ্য ছবিগুলো হচ্ছে রাজধানীর বুকে, চান্দা, তালাশ, নতুন সুর, রূপবান, মিলন, নদী ও নারী, ভাইয়া, ফির মিলেঙ্গে হাম দোনো, ক্যায়সে কাহু, আখেরি স্টেশন, সোনার কাজল, দুই দিগন্ত, সমাধান। তার নির্দেশিত ছবিগুলোর মধ্যে উলেখযোগ্য হচ্ছে- সুতরাং, কাগজের নৌকা, আয়না ও অবশিষ্ট, আবির্ভাব, বলাকা মন, সবুজ সাথী, পালাবদল, আলিঙ্গন, বিনিময়, আকাঙ্খা, বসুন্ধরা, সকাল সন্ধ্যা, ডুমুরের ফুল, নাজমা, স্বামী স্ত্রী, আবদার, আগমন, শর্ত, সহধর্মিনী, অরুনোদয়ের অগ্নিসাী ইত্যাদি। তিনি চলতি বছরের মার্চ মাসে কিউট চ্যানেল আই আয়োজিত চলচ্চিত্র মেলায় আজীবন সম্মাননা লাভ করেন। তার হাত ধরেই চলচ্চিত্রে আগমন ঘটে কবরী, সুচন্দা, উজ্জ্বল, ইলিয়াস কাঞ্চন, আহমেদ শরীফ ও মন্দিরার। সুভাষ দত্তের নির্দেশনায় সর্বশেষ ‘ ও আমার ছেলে ’ ছবিটি নির্মিত হয়েছে। ছবিটি খুব বেশি ভালো না চললেও ছবিটির গল্প নিয়ে তিনি নিজে তৃপ্ত ছিলেন বেশ।১৯৭৭ সালে বসুন্ধরা ছবিটির জন্য পরিচালক হিসেবে  জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান সুভাষ দত্ত। এরপর একুশে পদকও অর্জন করেন তিনি। এছাড়া দেশে বিদেশ থেকে আরও অনেক সম্মাননা পুরস্কার অর্জন করেছেন তিনি।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে