Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২০ , ১৬ চৈত্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.1/5 (7 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ১১-০৯-২০১২

আহার, বাসস্থান ফ্রি মালয়েশিয়ায় শ্রমিকের সর্বনিম্ন বেতন ২৫ হাজার টাকা


	আহার, বাসস্থান ফ্রি মালয়েশিয়ায় শ্রমিকের সর্বনিম্ন বেতন ২৫ হাজার টাকা

 প্ল্যান্টেশন, নির্মাণ শ্রমিক, কৃষি শ্রমিক আর সেবাখাতের জনশক্তিই হোক, বাংলাদেশ থেকে সরকারিভাবে চাকরি নিয়ে যারা মালয়েশিয়া যাবেন তাদের প্রত্যেকের সর্বনিম্ন বেতন হবে মাসিক ২৫ হাজার টাকা। দৈনিক শ্রম দিতে হবে আট ঘণ্টা। একদিন সাপ্তাহিক ছুটি। আহার ও আবাসিক ব্যবস্থা করবে নিয়োগকর্তা। চুক্তি একসঙ্গে পাঁচ বছরের হবে না। চুক্তি হবে প্রথমে দুই বছরের। মেয়াদ শেষে দুই বছর এবং পরে আরও এক বছর মেয়াদ নবায়ন করা হবে। নিয়োগকর্তার সম্মতি সাপেক্ষেই কোন শ্রমিক কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবে।
এসব ব্যবস্থা থাকছে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে জনশক্তি রপ্তানি সংক্রান্ত চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকে। এতে বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে জনশক্তি রপ্তানির কোন ব্যবস্থা থাকছে না। তবে এক বছর পর বেসরকারি পর্যায়ে জনশক্তি রপ্তানির ব্যবস্থা করতে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ সম্মত হয়েছে। সেক্ষেত্রে দুই সরকারের সম্মতিতে নির্ধারিত রেটের বেশি অর্থ না নেয়ার নিশ্চয়তা দিতে হবে আমদানি ও রপ্তানিকারকদের। তাদের সার্ভিস চার্জও যুক্তিসঙ্গত হারে বেঁধে দেয়া হবে। বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব খবর জানা গেছে।
মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানির ব্যাপারে এ মাসের শেষের দিকে কিংবা ডিসেম্বরের প্রথম দিকে দু’ দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে। চারটি এ্যানেক্সারের একটি হবে এমপ্লয়মেন্ট কন্ট্রাক্ট। জানুয়ারি থেকে জনশক্তি রপ্তানি শুরু হবে। প্রথম বছরে ১ লাখ এবং পাঁচ বছরে ৫ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে। জনপ্রতি যে ৪০ হাজার টাকা খরচ নির্ধারিত হয়েছে এর মধ্যে বিমানের টিকিট বাবদই যাবে ৩০ হাজার টাকা। বাকিটা খরচ হবে ভিসা ফি, কল্যাণ ফি, প্রশিক্ষণ ফি, মেডিকেল টেস্ট ও পাসপোর্ট ফি বাবদ। ডিসেম্বর থেকে ইন্টারনেটে আগ্রহীদের রেজিস্ট্রেশন শুরু হবে। যেসব দরিদ্র মানুষ ৪০ হাজার টাকা সংস্থান করতে পারবে না প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে তাদের সহজশর্তে ঋণ দেয়া হবে। নিয়োগকর্তার মাধ্যমে বেতন থেকে কিস্তিতে তা কেটে নেবে ব্যাংক। ঋণ গৃহীতা বা তার পক্ষেও কেউ নির্ধারিত কিস্তিতে অর্থ ফেরত দিতে পারবে। নিয়োগকর্তা বিমান ভাড়া দিতে সম্মত থাকলে তাও বেতন থেকে সমন্বয় করে নেয়ার ব্যবস্থা রাখা হবে চুক্তিতে। মেয়াদ শেষে দেশে ফেরার জন্য বিমান ভাড়া দেবেন নিয়োগকর্তা। প্রত্যেকের জন্য জীবন বীমা, স্বাস্থ্য বীমা, দুর্ঘটনার জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা থাকছে।
মালয়েশিয়ার চাহিদা অনুযায়ী বিপুল সংখ্যক জনশক্তি সরকারি পর্যায়ে পাঠানো সম্ভব নয়। এতে বাংলাদেশ মালয়েশিয়ায় প্রতিষ্ঠিত বাজার হারাবে, এমনই আশঙ্কা করছেন বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকেরা। তবে সরকার তা অযৌক্তিক, অবাস্তব বলে আমলে নিচ্ছে না। বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ সচিব ড. জাফর আহমদ খান মানবজমিনকে বলেন, বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিকে আমরা এ পর্যায়েই অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিলাম। মালয়েশিয়া আমাদের প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। এমনকি সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি না করার কথাও বলে। তারা মনে করেন মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে লোক প্রেরণ, বৈধ প্রক্রিয়ায় তাদের কাছ থেকে অস্বাভাবিক রকম বেশি অর্থ নেয়ার জন্য বাংলাদেশের বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি ও মালয়েশিয়ার বেসরকারি আমদানিকারকরা দায়ী। যে কারণে বাংলাদেশীদের মালয়েশিয়ায় চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ এ কারণে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের বেসরকারি খাতকে জনশক্তি আমদানি রপ্তানি প্রক্রিয়া বহির্ভূত রাখার কঠিন শর্ত দিয়েছে। তবে নতুন ব্যবস্থায় লোক পাঠানো শুরু হওয়ার বছরখানেকের মধ্যে বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে সম্পৃক্ত করার ব্যাপারে মালয়েশিয়া সরকারকে রাজি করানো যাবে বলে সচিব আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মালয়েশিয়ার বেসরকারি জনশক্তি আমদানিকারক কোম্পানিগুলোর কারণেই প্রধানত বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে বায়রা’র কিছু সংখ্যক সদস্যের অতি মুনাফা শিকারি মনোভাব ও মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণে তাদের ও সরকারের ব্যর্থতা। সরকার জনশক্তি রপ্তানি কার্যক্রম চালু হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিকে সম্পৃক্ত করার আলোচনা শুরু করবে। দু’পক্ষ সম্মত হয়েছে যে, পরবর্তীতে দুই সরকারের আলোচনা ও সম্মতির ভিত্তিতেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে সেক্ষেত্রেও সরকারি পর্যায়ে নির্ধারিত রেটে লোক পাঠানো অব্যাহত রাখা হবে। বেসরকারি খাত যাতে সার্ভিস চার্জের অতিরিক্ত অর্থ নিতে না পারে সেজন্য কার্যকর চাপ রাখাই এর উদ্দেশ্য। সরকারি পর্যায়ে বিপুল সংখ্যক মানুষ পাঠানোর ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব কিনা এবং এখানেও দুর্নীতির আশ্রয় নেয়া হতে পারে- এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব ড. জাফর বলেন, একটি স্বচ্ছ, সুষ্ঠু প্রক্রিয়া চালু হওয়ার পর অবশ্যই সরকারিভাবেই লোক পাঠানো সম্ভব। এতে বাণিজ্য করা সরকারের উদ্দেশ্য নয়। বেসরকারি খাতকে এখনই সম্পৃক্ত করার ব্যাপারটি আমাদের ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল নয়। আমরা চেষ্টা করবো যত দ্রুত সম্ভব তাদেরকে সম্পৃক্ত করা যায়। যে কোন ইন্টারনেট থেকে এন্ট্রি করার যে ব্যবস্থা করা হচ্ছে তাতে দুর্নীতির কোন সুযোগই নেই।
 

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে