Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ১০ ফাল্গুন ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.8/5 (4 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ১১-০৬-২০১২

মারমুখো জামায়াত, ১৮ জেলায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ


	মারমুখো জামায়াত, ১৮ জেলায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

ঢাকা, ০৭ নভেম্বর- ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পুলিশসহ দলীয় নেতাকর্মীরা আহত হয়েছেন। নাশকতা ঠেকাতে দেশজুড়ে গ্রেপ্তার অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। গতকাল বিকাল পর্যন্ত বিভিন্ন জেলায় দলটির শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ চলাকালে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা ভাঙচুর ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করে। চড়াও হয় পুলিশের ওপর। সংঘর্ষের পর রংপুর এবং বগুড়ায় জামায়াতের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়। রংপুরে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন কোতোয়ালি থানার ওসি আলতাফ হোসেন। দলটির কর্মীরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে ঢাকা, রংপুর, চট্টগ্রাম, বগুড়া, সিলেট, রাজশাহী, দিনাজপুর, হবিগঞ্জ, বরিশাল, গাইবান্ধা, মাদারীপুরসহ ১৮ জেলায়। দলের কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে মিছিল-সমাবেশের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। 

মালিবাগে জামায়াত-পুলিশ সংঘর্ষ: রাজধানীর মালিবাগে জামায়াত-শিবির ও পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। গতকাল বিকাল ৪টার দিকে মালিবাগ রেলগেইটে দেড় শতাধিক নেতাকর্মী মিছিল বের করলে পুলিশ বাধা দেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা ও ইটপাটকেল নিয়ে পুলিশের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। মহিলা পুলিশ সদস্যদের পেটাতে থাকে। এতে অন্ততপক্ষে ৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রাণ বাঁচাতে পুলিশের মহিলা সদস্যরা রাস্তা ছেড়ে ফুটপাথের বিভিন্ন দোকানে আশ্রয় নেন। কিন্তু ক্ষুব্ধ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা তাদের ওপরও হামলা চালায়। রাস্তায় ঝোলানো বিভিন্ন ব্যানার ছিঁড়ে আগুন ধরিয়ে  বন্ধ করে দেয়া হয় রাস্তায় যান চলাচল। এর কিছুক্ষণ পরে অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়ে বেধড়ক লাঠিচার্জ শুরু করে। একই সঙ্গে টিয়ারশেল ছুড়ে মারলে পালিয়ে যায় জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা। রাজারবাগ পুলিশ লাইনের এসআই জিয়াউল হোসেন বলেন, জামায়াত-শিবিরের প্রায় ১৫০ নেতাকর্মী অতর্কিত হামলা চালায় পুলিশের ওপর। কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা লাঠিসোটা নিয়ে আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। একপর্যায়ে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রমনা থানার ওসি মো. শাহ আলম বলেন, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৩৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি হামলাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হয়েছে। 
স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর থেকে জানান, রংপুরে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে গতকাল পুলিশ ও জনতার ত্রিমুখী সংঘর্ষসহ অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন, সাব-ইন্সপেক্টর রাশেদ, পুলিশ ভ্যানচালক মালেকসহ প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ৩০ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষ চলাকালে গোটা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মনিরুজ্জামান, এরশাদুল, আনিছুল, মেহেদী, বাবু, সাইফুলসহ ১০ জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীকে আটক করেছে। এদিকে পুলিশসহ আহতদেরকে রংপুর মেডিকেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ও এলাকাবাসীসহ প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকাল পৌনে ১২টার দিকে জামায়াত-শিবিরের সশস্ত্র নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে সমবেত হয়ে লাঠি নিয়ে মিছিল বের করার চেষ্টা করে। এ সময় সেখানে অবস্থানরত পুলিশ তাদের বাধা দেয়। ফলে দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক হট্টগোল দেখা দিলে একপর্যায়ে পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। ফলে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় দলের কর্মীরা কয়েকটি দোকান, মোটরসাইকেল, অটোরিকশায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। মুহূর্তের মধ্যে দোকানপাট, রিকশা-গাড়ি, ব্যাংক-বীমা বন্ধ হয়ে যায়। আতঙ্কিত মানুষজন প্রাণের ভয়ে আত্মরক্ষার জন্য ছোটাছুটি শুরু করে। উত্তেজিত জনতা শাপলা চত্বর এলাকায় জামায়াতের অফিস ও কামারপাড়া এলাকায় শিবিরের অফিসে পুড়িয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। প্রায় ২ ঘণ্টা সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের ওসিসহ ৫০ জন আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয় ২০ জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীকে। 
সিলেট অফিস জানায়, পুলিশ ও শিবির কর্মীদের সংঘর্ষে গতকাল বিকালে সিলেট নগরীর জিন্দাবাজার এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন। বিক্ষুব্ধ শিবির কর্মীরা নগরীর পুরান লেন, গার্লস স্কুলের সামনে, জিন্দাবাজার ও বারুতখানা এলাকায় কমপক্ষে ৫টি যানবাহন ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রায় ২০ রাউন্ড টিয়ারশেল ছুড়েছে। এ ঘটনায় সিলেটে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ জামায়াত-শিবির কর্মীদের ধরতে নগরজুড়ে অভিযান চালায়। বেলা আড়াইটায় সিলেট নগরীতে অঝোর ধারায় বৃষ্টি ঝরছিল। এমন সময় সিলেট নগরীর পুরান লেনের মুখ থেকে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে মিছিল শুরু করে শিবির কর্মীরা। তাদের মিছিলে থাকা শতাধিক নেতাকর্মী ২০-২৫ গজ দূরে মিছিল নিয়ে আসার পরপরই পুলিশের বাধার মুখে। প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন পুলিশ সদস্য প্রথমে ওই মিছিলটি বাধা দেয়। কিন্তু পুলিশি বাধা অতিক্রম করে মিছিলটি জিন্দাবাজার অভিমুখে আসতে থাকে। এ সময় পুলিশ পেছন থেকে ফের মিছিলে বাধা দিলে শিবির কর্মীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বেধে যায়। পুলিশ পেছন থেকে লাঠিচার্জ করলে পাল্টা আক্রমণ চালায় শিবির কর্মীরা। এ সময় তারা পুলিশকে উদ্দেশ্য করে ইটপাটকেট ছোড়ে। এতে কোতোয়ালি থানার এসআই আশরাফ ও মনির গুরুতর আহত হন। এ সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে মারধর করা হয়। শিবির কর্মীদের লাঠিচার্জ করে নিবৃত করতে না পেরে পুলিশ একপর্যায়ে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এভাবে প্রায় ১০ মিনিট অতিক্রম করার পর শিবির কর্মীরা নগরীর জিন্দাবাজার এলাকায় অবস্থান নিয়ে জল্লারপাড় অভিমুখে একপক্ষ ও বারুতখানা অভিমুখে আরেকপক্ষ চলে যায়। অপর অংশটি চৌহাট্টার দিকে চলে যায়। এ ঘটনার পরপরই জিন্দাবাজার এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এবং বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া শিবির কর্মীদের ধাওয়া করা হয়। পুলিশের ধাওয়ার মুখে পালিয়ে যাওয়ার সময় শিবির কর্মীরা পুরানলেন গলির মুখে একটি, গালর্স স্কুলের সামনে আরও একটি এবং জিন্দাবাজার এলাকায় দু’টি ও বারুতখানা এলাকায় আরও একটি যানবাহন ভাঙচুর করে। এ সময় তিনজন চালক আহত হন। জিন্দাবাজার থেকে লাঠিসোটা নিয়ে শিবির কর্মীদের অপর দলটি বারুতখানা এলাকায় পৌঁছলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় তারা বিক্ষুব্ধ হয়ে পুলিশের সামনেই একটি লেগুনা গাড়ি ভাঙচুর করে। বারুতখানা পয়েন্টে ৭-৮ জন পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকলেও শিবির কর্মীদের তারা কোন বাধা দেয়নি। পুলিশের সামনেই তারা লেগুনার চালককে বেধড়ক মারধর করে। এতে রক্তাক্ত হয় ওই লেগুনা চালক। একপর্যায়ে কর্মীরা হাওয়াপাড়া ও বারুতখানা গলির দিকে পালিয়ে যায়। এদিকে, ঘটনার প্রায় আধা ঘণ্টা পর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নগরীর জিন্দাবাজার এলাকার ব্যাংকের সামনে এসে বিভিন্ন মার্কেটের আটকে থাকা শিবির কর্মীদের ধরপাকড়ের চেষ্টা চালায়। সোনালী ব্যাংকের নিচতলার একটি কক্ষে আটকে থাকা এক শিবির কর্মীকে পুলিশ আটক করে। এ সময় আহত পুলিশ সদস্যদের সেখান থেকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষকালে প্রায় ২০ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল্লাহ আল আজাদ চৌধুরী গতকাল বিকালে মানবজমিনকে জানিয়েছেন, পুলিশ জামায়াত-শিবির কর্মীদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালাচ্ছে। তবে সঠিক কত জনকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা জানাতে পারেননি তিনি। তবে, সিলেট মহানগর জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল মো, ফখরুল ইসলাম গতকাল বিকালে জানান, পুলিশের হামালায় শিবিরের প্রায় ১৫ জন কর্মী আহত হয়েছে। আরও প্রায় ১০ জনের মতো আটক করা হয়েছে। এদিকে, সোমবার ঢাকায় সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকে সিলেটে জামায়াত-শিবির কর্মীদের আটক করতে অভিযানে রয়েছে পুলিশ। সোমবার রাতভর অভিযানে ২১ জন নেতাকর্মীকে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল তাদের আদলে সোপর্দ করা হয়েছে। গতকালের ঘটনার পর থেকে পুলিশ নগরীর আল-হামরা মার্কেট, আলীয়া মাদ্রাসা ছাত্রাবাস সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালিয়েছে। অভিযানকালে বেশ কয়েকজন আটক করা হয় বলে জানায় পুলিশ।
স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে জানান, চট্টগ্রামেও ‘ঝটিকা কর্মসূচি’ পালন করেছে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। এই সময় তাদের সঙ্গে পুলিশের কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শিবির কর্মীরা নগরীর বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে ছোট-বড় অন্তত ৫টি গাড়ি ভাঙচুর করেছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত পুলিশ শিবির নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ১৪ জনকে আটক করে। আটককৃতদের বেশির ভাগই চট্টগ্রামের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে হঠাৎ করেই চট্টগ্রাম শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে জড়ো হতে থাকেন জামায়াতের অন্তত ৪০০ নেতা-কর্মী। তবে এই সময় মিছিল বের করতে চাইলে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়। সংর্ঘষের প্রথম ঘটনাটি শুরু হয় নগরীর কাজীর দেউড়ির বিএনপি কার্যালয়ের সামনে। সেখানে শিবিরের কর্মীরা স্লোগান দিতে শুরু করে। মিছিল নিয়ে জামালখান প্রেস ক্লাবের সামনে যাওয়ার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে নগর পুলিশের কয়েক প্লাটুন পুলিশ এসে ঘটনাস্থলে হাজির হয়। এর পরপরই শুরু হয় সংর্ঘষ। পুলিশ তাদের প্রথমে বাধা দেয়ার চেষ্টা করে। এই নিয়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে একপর্যায়ে তা ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়ায় রূপ নেয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জামায়াত-শিবির কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। ঘটনার সময় কাজীর দেওড়ির পশ্চিম পাশের শিশুপার্ক এলাকার কাছে দু’টি সিএনজি একা পেয়ে সেখানে ভাঙচুর চালানো হয়। অন্যদিকে স্টেডিয়াম এলাকায় রাস্তার পাশে দাঁড়ানো একটি ট্রাকে ভাঙচুর করার পর তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়। পুলিশ সদস্যরা দৌড়ে গেলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। জানতে চাইলে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শহিদুল্লাহ মোবাইলে মানবজমিনকে বলেন, শিবির কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। এই সময় তাদের শান্ত করতে গিয়ে আমাদের লোকজনকে হামলার শিকার হতে হয়েছে। তারা দলবদ্ধভাবে হামলা চালিয়েছে। কোতোয়ালি থানার ওসি মহিউদ্দিন সেলিম মানবজমিনকে বলেন, বিভিন্ন স্থান থেকে শিবিরের ১৩-১৪ জনকে ধরা হয়েছে। তারা নাশকতা করার পরিকল্পনা করছিল। অন্যদিকে শিবিরের চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর শাখার সভাপতি মো. ইসমাঈল বলেন, কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আমরা আজকে (গতকাল) রাজপথে নেমেছিলাম। কিন্তু পুলিশ এসে হঠাৎ করেই আমাদের লাঠিপেটা শুরু করে। এরপর  বেধড়ক পিটুনি দেয়।
স্টাফ রিপোর্টার, নোয়াখালী থেকে জানান, নোয়াখালীতে গতকাল দ্বিতীয় দিনের মতো পুলিশের সঙ্গে শিবিরের সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় শিবিরের কর্মীরা সুধারাম থানার অফিসার ইনচার্জ মীর জাহেদুর রহমান রনি ও ওসি (তদন্ত) নিজাম উদ্দিন, এসআই মো. সিরাজ উদ্দিন, উপ-পুলিশ পরিদর্শক বাদল মিয়া, কনস্টেবল সত্যপ্রিয় চাকমা, কং সিরাজুল ইসলাম, কং সাজেদুল ইসলামসহ ৭ পুলিশ সদস্যকে পৌরবাজার সংলগ্ন খালের পানিতে ফেলে দফায় দফায় পিটিয়ে কুপিয়ে জখম করে ১টি শর্টগান ও ২টি ওয়্যারলেস সেট ছিনতাই করে নিয়ে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহত পুলিশ সদস্যদের নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিবিরের ৪৩ নেতাকর্মী আহত হন। পুলিশ জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবদুল মুনায়েম (৬০) ও শহর নায়েবে আমীর মাওলানা রুহুল আমিন (৬৫), লক্ষ্মীপুরের নিজাম উদ্দিন (২৮), হুমায়ুন কবির (২০), চরজব্বর থানার একেএম আবদুর রহমান (২১), সুধারামের মো. সেলিম (২৬), হাতিয়ার আতিকুর রহমান (২২), চরমটুয়ার মো. রাশেদ (২৩), বেগমগঞ্জের মো. ইয়াছিন (১৯), লক্ষ্মীপুরের রামগতি থানার মো. তামজীদ (২৫), বেগমগঞ্জের দেলোয়ার হোসেন (২০), সুবর্ণচর উপজেলার মো. হাসান (১৪), সুধারাম থানার হাফেজ নাজিম উদ্দিন (২৯), লক্ষ্মীপুর জেলার হাফেজ সামছুল ইসলাম (৩০), ওদারহাটের মো. জাহাঙ্গীর আলম (২৬), লক্ষ্মীপুর জেলার আবদুর রহমান (১৮), হাতিয়া উপজেলার তারিকুল মাওলা (২৮), জুনায়েদ বুখদাদ (২৭), জাহেদুর রহমান (২৫) সহ ১৯ জনকে আটক করে। আটকৃতদের মধ্যে- বেশির ভাগ পুলিশ পিটুনিতে আহত বলে জানা গেছে। এ ঘটনার জের ধরে শহরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এছাড়া আহত শিবির কর্মীদের বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলে দলীয় সূত্র জানায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল দুপুর ২টার দিকে শিবির কর্মীরা শহরের পৌর কল্যাণ স্কুলের কাছ থেকে কয়েকশ’ নেতাকর্মী একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহরের দিকে আসে। মিছিলটি পৌর বাজার সংলগ্ন এলাকায় এলে একটি পিকআপ ভ্যান থেকে কয়েকজন পুলিশ নেমে মিছিলের পিছু নেয়। মিছিলটি পৌর বাজারের সামনের দিক থেকে পুলিশের আরেকটি দল আসতে দেখে বিপরীত দিকে ফিরে যায়। এ সময় সামনে থাকা থানার ওসিসহ অন্য ৬ পুলিশ সদস্যকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করে। মিছিলকারীরা এ সময় এক পুলিশ কনস্টেবলের কাছ থেকে শর্টগান ছিনিয়ে নিয়ে পার্শ্বের খালে ফেলে দেয়। এ সময় শিবির কর্মীরা লাঠি-সোঁটা হাতে নিয়ে শহরের রাস্তায় রাস্তায় মহড়া দেয় এবং সিএনজি, অটোরিকশা, বাস, মোটরসাইকেল, ইজিবাইক ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ৩টি অপরাধ মামলা দায়ের করে।
স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া থেকে জানান, বগুড়ায় আজ মঙ্গলবার আবারও পুলিশের সঙ্গে জামাত-শিবিরের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় পুলিশ ৪ জনকে  গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়াও বিক্ষুদ্ধ একদল যুবক নবাববাড়ী সড়কের শহর জামায়াত কার্যালয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। এনিয়ে ২দিনে পুলিশ বগুড়ায় জামায়াত-শিবিরের ৬৪জন নেতা কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। এদিকে জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এছাড়াও শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনসহ র‌্যাব ও পুলিশের টিম শহরে টহল দিতে দেখা গেছে। সকাল সাড়ে ১০টায় শহরের গোহাইল রোডের টিটু মিলনায়তনের সামনে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা মিছিল শুরু করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশের ধাওয়ার মুখে তারা পালিয়ে যায়। পরে সাড়ে ১১টায় শহরের সেউজগাড়ী মোড়ে আরেকটি মিছিল বের করার চেষ্টা করলে পুলিশের ধাওয়ার মুখে তারাও পালিয়ে যায়। এ সময় ৪জনকে আটক করা হয়। 
নবাববাড়ী সড়কের বগুড়া শহর জামায়াত কার্যালয়ের পাশের দোকানদার মানিক জানান, বেলা ২টায় একদল যুবক হঠাৎ করে জামায়াত অফিসে ঢুকে চেয়ার ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। পরে তারা আগুন লাগিয়ে দিয়ে চলে গেলে আশপাশের লোকজন এসে আগুন নিভিয়ে ফেলে। বগুড়া শহর জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মাজেদুর রহমান জুয়েল জানান, আজ মঙ্গলবার শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ হামলা করে গোহাইল রোড ও সেউজগাড়ী থেকে পুলিশ শাহাদৎ, আজিজসহ ১২ জন নেতাকর্মীকে আটক করে। এছাড়াও আওয়ামী লীগের কর্মীরা শহর জামায়াত অফিসে ভাঙচুর করে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। 
স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী থেকে জানান, রাজশাহীতে সোমবার মধ্যরাত থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের ৩৫ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা চোরাগোপ্তা হামলা চালাতে পারে- এমন আশঙ্কা থেকে তাদের আটক করা হয়েছে। অপরদিকে নগরীতে পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছে বিজিবি। আটককৃতদের মধ্যে নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় ৮ জন, রাজপাড়া থানায় ৮ জন, মতিহার থানায় ৭ জন রয়েছেন। এছাড়া মহানগর গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পুলিশ সদস্যরা ১২ জনকে আটক করেছে।
এ ব্যাপারে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) এসএম মনির-উজ-জামান জানান, জামায়াত ও শিবিরের  নেতাকর্মীরা দেশব্যাপী চোরাগোপ্তা হামলা চালাচ্ছে। এ অবস্থায় রাজশাহীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গতকাল সকাল থেকে মহানগরীতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পুলিশের সহায়তায় বিজিবি সদস্যরা কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।
উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি জানান, জামায়াত ও শিবির নেতাকর্মীদের সঙ্গে গাইবান্ধায় সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে পুলিশের ১ এসআই ২ কনস্টেবলসহ তিন পুলিশ ও ১২ শিবির কর্মীসহ ১৫ জন আহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয় জনতার সহায়তায় পুলিশ ৬ শিবির কর্মীকে গ্রেপ্তার করে। জামায়াত ও শিবিরের গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহরের রেলগেট থেকে ছাত্রশিবির একটি মিছিল বের করে। মিছিলটি পলাশপাড়া মোড়ে পৌঁছলে পুলিশ পিছন থেকে তাদের ধাওয়া করে। মিছিলকারীরা এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ও বাটুল মারতে থাকে। এতে এসআই রায়হান গুরুতর আহত হয়। পরে মিছিলকারীরা পলাশপাড়ায় কয়েকটি বাড়িতে ঢিল ছুড়তে থাকলে এলাকার লোকজন ও পুলিশ মিছিল কারীদের ধাওয়া করে । এ সময় পুলিশ শিবিরের ৬ কর্মীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। 
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, মিছিল করার সময় সিরাজগঞ্জে আরও ৬ নেতাকর্মীকে পুলিশ আটক করেছে। এ নিয়ে আটকের সংখ্যা দাঁড়ালো ১০ জনে। সিরাজগঞ্জ সদর থানার উপ-পরিদর্শক মনির হোসেন জানান, দুপুরে শহরের বাজার স্টেশন ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও রেলগেইট এলাকায় জমায়েত হয়ে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা মিছিল বের করার চেষ্টা করে। নাশকতার আশঙ্কায় ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হলে মিছিলকারীরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এদের থানা হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। 
চাঁপাই নবাবগঞ্জ থেকে সংবাদদাতা জানান, নাশকতা সৃষ্টির অভিযোগে চাঁপাই নবাবগঞ্জে ২০ জামায়াত-শিবির কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।  গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে জেলা সদরে ৬ জন, শিবগঞ্জে ৪ জন, গোমস্তাপুরে ৬ জন, নাচোলে ২ জন এবং ভোলাহাট উপজেলায় ১ জন রয়েছেন। সোমবার রাতে পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে এমন আশঙ্কায় পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 
স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর থেকে জানান, দিনাজপুরে জামায়াত-শিবির কর্মীদের হাতে পুলিশ আহত হওয়ার ঘটনায় ৫’শতাধিক জামায়াত-শিবির  নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। এ মামলার ৫৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা এবং পুলিশের হামলা ও মারধরের ঘটনায় কোতোয়ালি থানার এসআই আব্দুল আজিজ সোমবার রাত সাড়ে ১১টায় এ মামলা দায়ের করেন।  সোমবার বিকালে জামায়াত-শিবিরের একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। এ সময় মিছিল থেকে পুলিশের উপর হামলা করে বিক্ষোভকারীরা। এএস আই হামিদুর, কনস্টেবল আনোয়ারসহ ৫ পুলিশ আহত হন। 
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি জানান, ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশ-জামায়াত কর্মী সংঘর্ষের ঘটনায় ৩ জামায়াত কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার দিবাগত রাতভর অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, জামায়াত কর্মী আব্দুল কুদ্দুস, আফরাজুল ও নঈমুল ইসলাম।
মঙ্গলবার দুপুর ১টায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে হাজির করার পর জেল হাজতে পাঠানো হয়। ঠাকুরগাঁও থানার ওসি জাহিদুর রহমান চৌধুরী জানান, সোমবার বিকালে জামায়াতের মিছিলে বাধা দিলে পুলিশের ওপর ইপ-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় এএসআই আব্দুল হালিম, কনস্টেবল এমরোজ রায়হান সম্রাটসহ ৪জন আহত হন। 
স্টাফ রিপোর্টার, হবিগঞ্জ থেকে জানান, হবিগঞ্জে পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে শহরে ইসলামী ছাত্রশিবির মিছিল করেছে। এ সময় শহরের চৌধুরী বাজার এলাকায় পুলিশ মিছিলে লাঠিচার্জ করে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়। ছত্রভঙ্গ মিছিল থেকে পুলিশ ৪ শিবির কর্মীকে গ্রেপ্তার করে। শহরের আশরাফ জাহান কমপ্লেক্স এলাকা থেকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। ইসলামী ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি খলিলুর রহমান, সেক্রেটারি আতিকুর রহমান সোহাগের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিলে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। মিছিলটি শহরের চৌধুরী বাজার এলাকায় পৌঁছলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-  কামাল হোসেন ও মনির হোসেন, সালেহ আহমেদ তালুকদার ও মাহমুদুর রহমান নামে ৪ শিবির কর্মী। 
হবিগঞ্জ সদর থানার ওসি মোজাম্মেল হোসেন ৪ জনকে গ্রেপ্তারের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, হবিগঞ্জে নাশকতার আশঙ্কায় জামায়াত শিবিরের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 
মাদারীপুর প্রতিনিধি জানান, বেলা ৩টার দিকে সড়ক অবরোধ ও ভাঙচুরের অভিযোগে মাদারীপুর শহরের পুরানবাজার এলাকা থেকে দুই শিবির কর্মীকে আটক করে সদর থানা পুলিশ। মাদারীপুর থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, পুরানবাজার এলাকার মেলবোর্ন প্লাজার সামনে কিছু শিবির কর্মী সড়ক অবরোধ করে মিছিল করার চেষ্টা করে। পরে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে শিবিরের কর্মী আবুল হাসান ও আনোয়ার হোসেন যানবাহন ভাঙচুরের চেষ্টা করে। পরে পুলিশ তাদেরকে আটক করে সদর থানায় নিয়ে আসে। 
ফেনী  প্রতিনিধি জানান, ফেনীতে সোমবার পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ৪৭ জনের নাম উল্লেখ করে ৭০০ জনকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ । সোমবার রাতে ফেনী মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এস,আই) গোলাম হাক্কানী বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। ওসি মাঈনুল আবসার মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মামলার পর থেকে আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে । 
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গোপালগঞ্জ জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মো. ফজলুল হকসহ ৬ জন জামায়াত কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার মধ্যে রাতে পুলিশ এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে শহরের রোকনউদ্দিন ট্রাস্ট থেকে তাদেরকে আটক করে। 
স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল থেকে জানান, নগরীতে ছাত্রশিবিরের মিছিল পণ্ড করে দিয়েছে র‌্যাব ও পুলিশ। এ সময় পুলিশ দুই শিবির কর্মীকে আটক করেছে। র‌্যাব আটক করেছে অপর এক শিবির কর্মীকে। মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর চকবাজার (ফলপট্টি) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী কমিশনার (এসি) অশোক কুমার নন্দী জানান, কোন অনুমতি ছাড়াই নগরীতে আকস্মিক মিছিল বের করে শিবির কর্মীরা। তারা নগরীতে নাশকতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ইট-পাটকেল, কেরোসিনসহ বিভিন্ন সামগ্রী বহন করছিল। পুলিশ এ খবর পেয়ে মিছিলে বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে শিবির কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় ধাওয়া করে শিবিরের দুই কর্মীকে আটক করা হয়। 
স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা থেকে জানান, খুলনায় জামায়াত-শিবির সংঘর্ষে পুলিশ আহত হওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ৬৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১১শ’ জনের বিরুদ্ধে খুলনা সদর ও সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার গভীর রাতে খুলনা সদর থানার এসআই ফকরুল আলম ও সোনাডাঙ্গা মডেল থানার এসআই আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে দ্রুত বিচার আইনে ও পুলিশ আহত, সরকারি কাজে বাধা দানের অভিযোগে এ মামলা দু’টি দায়ের করেন। পুলিশ নগরীর খুলনা সদর থানা ও সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় এলাকায় অভিযান চালিয়ে গত দু’দিনে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গতকাল মঙ্গলবার পুলিশ তাদেরকে রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে প্রেরণ করেছে।
জয়পুরহাট প্রতিনিধি জানান, জামায়াত নেতা কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় মঙ্গলবার জয়পুরহাট সদর থানায় ৬৪ জনের নাম দিয়ে অজ্ঞাত ৪শ’ জনকে আসামি করে মামলা করেছে সেই সঙ্গে এবং ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জয়পুরহাট সদর থানার ভারপাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রশিদ জানান, সোমবার জামায়াত-শিবিরের মিছিল থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট- পাটকেল নিক্ষেপে সাব-ইন্সপেক্টর আসাদুজ্জামান আসাদসহ ২ পুলিশ সদস্য মারাত্মক আহত হয়। পুলিশের কাজে বাধা দান ও পুলিশের ওপর হামলা চালানোর ঘটনায় সাব-ইন্সপেক্টর আসাদুজ্জামান আসাদ বাদী হয়ে মামলা করেছেন। 
নড়াইল প্রতিনিধি জানান, নড়াইলে পুলিশের সঙ্গে জামায়াত নেতা কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় জেলা জামায়াতের আমীর, সেক্রেটারিসহ ২৮ জনের নামসহ অজ্ঞাত ২০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। নড়াইল সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমির হোসেন বাদী হয়ে সোমবার রাতে মামলাটি দায়ের করেন ২৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২০০ জনকে আসামি করে। সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক ১৪ জন গতকাল (মঙ্গলবার) জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে