Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২০ , ২৭ আষাঢ় ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.6/5 (42 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ১০-২৫-২০১২

পথে পথে চরম ভোগান্তি


	পথে পথে চরম ভোগান্তি

ঈদ ও পুজোকে সামনে রেখে সড়ক, রেল ও নদীপথে নেমেছে ঘরমুখো মানুষের ঢল। ধর্মীয় উৎসবের আনন্দ প্রিয়জনদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে দিতে বাস-ট্রেন-লঞ্চে লাখো মানুষ ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে। তবে রাস্তাঘাটের বেহাল দশা ও পথে পথে যানজটের কারণে ভোগান্তি চরমে পেঁৗছেছে। অধিকাংশ সড়কেই আধাঘণ্টা গাড়ি চলছে তো একঘণ্টা যানজটে আটকা পড়ে থাকতে হচ্ছে। ফলে সড়ক পথের যাত্রীদের ভ্রমণের আনন্দ তিক্ততায় পরিণত হয়েছে। পরিবহন মালিক ও চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-আরিচা, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-সিলেট রুটের স্থানে স্থানে এবার যানজট বেড়েছে। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলাগামী বাসগুলোকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বুধবার সকাল থেকেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে ভয়ঙ্কর যানজট সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার, কালিয়াকৈর, ইপিজেড ও চন্দ্রায়ও যানজট প্রকট। যাত্রী দুর্ভোগ কমাতে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, জেলা ও পুলিশ প্রশাসন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ ও মালিক সমিতি ছয়টি আলাদা কমিটি গঠন করেছে। যানজট নিরসনে আগেভাগেই হাইওয়ে পুলিশকে সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু এত কিছুর পরও বাসে যাত্রা শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই পথে পথে মহাজটে পড়ে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, বুধবার ভোর থেকেই রাজধানীর সায়েদাবাদ, মহাখালী, গাবতলী টার্মিনাল ও বিভিন্ন এলাকার কাউন্টারের সামনে অগ্রিম টিকিট কাটা যাত্রীদের ভিড়। অধিকাংশ গাড়িই নির্ধারিত সময়ে এসে টার্মিনালে পেঁৗছায়নি। বেশ কয়েকটি পরিবহনের সিডিউল পরিবর্তন করা হয়েছে। পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে যানজটে গাড়ি আটকা পড়েছে। নির্ধারিত সময়ের তিন-চার ঘণ্টা পরও অনেক গাড়ি টার্মিনালে না পেঁৗছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে পরিবহন মালিকরা বাধ্য হয়েই বেশকিছু ট্রিপ বাতিল করেছে। কেউ কেউ সিডিউল পরিবর্তন করে যাত্রীদের সামাল দিচ্ছেন। রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংস্থার সাধারণ সম্পাদক জানান, এ টার্মিনালে দূরপাল্লার হাজারখানেক পরিবহন এবার ঈদ যাত্রী পরিবহন করবে। শনিবার থেকেই যাত্রীরা ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন। পুজো ও ঈদ কাছাকাছি সময়ে হওয়ায় পরিবহন সঙ্কট কাটাতে গাড়ির ট্রিপ বাড়ানো দরকার। কিন্তু যানজটের কারণে সময় নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ট্রিপ বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা সুমাইয়া নাসরিন বলেন, 'বছরের এই একটা সময় বাড়িতে যাই। আত্মীয়-স্বজন সবার জন্যে গিফট নিয়ে যাব। তাই একটু ভালো পরিবহনের টিকিট না পেলে বাড়ি যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে এ আশঙ্কায় আগাম টিকিট কিনেছি। নির্ধারিত সময়ের আধাঘণ্টা আগেই টার্মিনালে পৌছে দু'ঘণ্টা ধরে ওয়েটিং রুমে বসে আছি, গাড়ির দেখা নেই। কখন গাড়ি কাউন্টার পেঁৗছবে পরিবহন শ্রমিকরা তা জানাতে পারছেন না। সাবরিনা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, যশোর শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে তার গ্রামের বাড়ি। রাত বেশি হলে পথে ছিনতাই-ডাকাতির ভয় রয়েছে। কিন্তু কখন যশোর গাড়ি পেঁৗছবে কেউই এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারছে না। হানিফ এন্টারপ্রাইজের টিকিট ম্যানেজার বাবুল জানান, তাদের কোম্পানির চার শতাধিক বাস রাজধানী ঢাকা থেকে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলাচল করছে। যানজটের কারণে গত দু'দিনে এর এক তৃতীয়াংশ গাড়ি নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পেঁৗছতে পারেনি। বুধবার থেকে ঘরমুখো মানুষের ঢল নামলে পদে পদে যানজট আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। পরিবহন শ্রমিকরা জানান, মুন্সিগঞ্জের মাওয়ায় তিনটি ফেরিঘাট বন্ধ হওয়ার কারণে দক্ষিণের ১৭ জেলার সড়ক যোগাযোগ বিঘি্নত হচ্ছে। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটও প্রায় ২০টি (দক্ষিণের ১৭ টিসহ) জেলার যানবাহনের চাপে প্রায় স্থবির। স্বাভাবিক সময়ে ফেরিতে দুই থেকে আড়াই হাজার যানবাহন পারাপার করলেও ঘাট-সঙ্কটের কারণে তা অর্ধেকে নেমে এসেছে। এছাড়াও মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে কোরবানির পশুর হাট বসায় মারাত্মক যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই জায়গায় আটকা পড়ে থাকতে হচ্ছে। বেহাল সড়কে মুখোমুখি সংঘর্ষ ও যানবাহন উল্টে গিয়েও সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। এদিকে যানবাহনের চাপ অস্বাভাবিক মাত্রায় বেড়ে যাওয়ায় বুধবার সকালে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে যানজট তিন কিলোমিটার ছাড়িয়ে যায়। হাইওয়ে পুলিশের হস্তক্ষেপে দুপুরের পর জট কিছুটা ছাড়লেও সিরিয়াল ভেঙে বেশকিছু যাত্রীবাহী বাস ও প্রাইভেট কার ফেরিতে ওঠার প্রতিযোগিতায় নামতেই সন্ধ্যায় নতুন করে আবারো ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হয়। বুধবার বিকালেও গোয়ালন্দ ফেরিঘাট থেকে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত তিন কিলোমিটার পর্যন্ত যাত্রীবাহী বাসের জট দেখা গেছে। পশুবাহী অনেক ট্রাক দুইদিন ধরে ফেরি পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। পাটুরিয়া দৌলতদিয়া পথে ১১টি ফেরির মধ্যে মঙ্গলবার সকালে ২ নাম্বার ঘাটে আমানত শাহ ফেরির র‌্যাম্প ভেঙে গেলে তিন ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। এনায়েতপুরীও সোমবার বিকাল থেকে বন্ধ। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডবিস্নউটিসি) আরিচা কার্যালয় সূত্র জানায়, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে নয়টি রো-রো (বড়) ও তিনটি কে-টাইপ (মাঝারি) ফেরি যানবাহন ও যাত্রী পারাপারে নিয়োজিত রয়েছে। ঘরমুখী মানুষের ভোগান্তি কমাতে বুধবার থেকে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে তিন দিন ট্রাক পারাপার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে কোরবানির পশু, পচনশীল পণ্য ও জরুরি পণ্যবাহী ট্রাক এর আওতামুক্ত থাকবে। এতে চাপ কিছুটা কমলেও তা কোনোভাবেই সহনীয় পর্যায়ে আনা যাচ্ছে না। এদিকে বুধবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্নস্থানে ছোট বড় বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনার কারণে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে ময়নামতি সেনানিবাস পর্যন্ত প্রায় ৩৫ কিলোমিটার এলাকায় গাড়ির জট লেগেছে। এছাড়াও মহাসড়কটি চার লেন করার কাজের কারণেও যানজট হচ্ছে। ইডেন কলেজের ছাত্রী গীতিআরা নাসরিন জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ৭টায় ঢাকার সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে গাড়িতে চড়ে কুমিল্লায় এসে পেঁৗছাতে সাড়ে ৫ ঘণ্টা সময় লেগেছে। অথচ স্বাভাবিক সময়ে এই পথ যেতে সময় লাগে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা। চার লেনের কাজের জন্য এ সড়কে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে বলে পরিবহন শ্রমিকরা দাবি করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের ভাষ্য, চার লেনের কাজের জন্য যাতে ঈদযাত্রা বিঘি্নত না হয় সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। ট্রাফিক অব্যবস্থাপনা ও সড়ক দুর্ঘটনাই যানজটের মূল কারণ বলে তারা দাবি করেছে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোটখাটো একাধিক সড়ক দুর্ঘটনা, ভাঙাচোরা রাস্তায় যানবাহন বিকল ও মহাসড়কের গা ঘেঁষে কোরবানির পশুর হাট বসায় বুধবার সকাল থেকেই মারাত্মক যানজট সৃষ্টি হয়। দুপুর না গড়াতেই আটকে পড়া গাড়ির সারি কালিয়াকৈর থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। ঈদ ও পুজোকে সামনে রেখে যাত্রাপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগাম ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে সরকারের শীর্ষ মহল দাবি করলেও এর সঙ্গে বাস্তবতার যে এতটুকুও মিল নেই তা পথে নেমেই ঘরমুখো মানুষ টের পাচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন। এ প্রসঙ্গে নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, ঈদে ৫০ থেকে ৬০ লাখ লোক ঢাকা ছেড়ে যায়। এত মানুষের চাপ নেয়ার মতো সক্ষমতা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো দেশে নেই। তার পরও সীমিত ব্যবস্থার মধ্যে সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার চেষ্টা চলছে। যোগাযোগ, রেল, নৌপরিবহন, স্বরাষ্ট্র ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে। পথে কিছুটা ভোগান্তি হলেও মানুষ প্রিয়জনদের সঙ্গে মিলেমিশে পুজো ও ঈদের ছুটি কাটাতে পারবে বলে আশ্বস্ত করেন শাজাহান খান। তবে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মহাসড়কের যে বেহাল দশা এবং পদে পদে যেভাবে যানজট লেগে আছে তাতে মন্ত্রীর আশ্বাস কতটা পূরণ হবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তাদের ভাষ্য, কাঁচপুর সেতু, মাওয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট, বঙ্গবন্ধু সেতু ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট গত রোববার থেকে যানজটে অচল হয়ে পড়েছে। অথচ এ চারটি পয়েন্টই সড়কপথে ঢাকা থেকে বের হওয়ার এবং ঢাকায় প্রবেশের মূল পথ। এ অবস্থায় পুজো ও ঈদযাত্রা যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্ন করা দুষ্কর হবে। এদিকে যানজটের ঝুঁকি না থাকলেও রেলপথেও পুজো ও ঈদযাত্রা সুখকর হচ্ছে না ঘরমুখো মানুষের। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের প্রায় অধিকাংশ স্টেশন থেকেই ট্রেন ছাড়ছে এক থেকে দেড় ঘণ্টা বিলম্বে। কোনো কোনো স্টেশনে যাত্রা বিলম্বের সময় তিন থেকে চারঘণ্টাতে গিয়েও ঠেকেছে। ফলে যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রেলওয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন, ঈদের ছুটিতে যারা বাড়ি যাবে, তাদের এই দেরিটুকু সয়ে নিতে হবে। আরো বিলম্বেরও ইঙ্গিত দিয়েছেন তারা। বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মো. শাহজাহান বলেন, ঈদের সময় ট্রেনের দরজা-জানালা-ছাদ কানায় কানায় পূর্ণ থাকে। এ সময় ট্রেন যদি স্বাভাবিক গতিতে চলে, তাহলে প্রাণহানি ঘটার আশঙ্কা থাকে। এ সময় তারা সময়ানুবর্তিতার চেয়ে নিরাপত্তাকে বেশি গুরুত্ব দেন। এ কারণেই সিডিউল বিপর্যয় ঘটে। ঈদের সরকারি ছুটি শুরু হলে ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয় চরমে পেঁৗছতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন খোদ রেলওয়ের কর্মকর্তারা। তাদের ভাষ্য, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেটসহ বিভিন্ন রুটে ট্রেনের নির্ধারিত সিটের প্রায় দেড়গুণ টিকিট বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়াও ভিড়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক মানুষ বিনা টিকিটে ভ্রমণ করবে। এতে ট্রেনের গতি স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক কমবে। এদিকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে বুধবার ভোর থেকেই ছিল উপচেপড়া মানুষের ভিড়। দুপুর নাগাদ ধীরে ধীরে তা আরও বাড়তে শুরু করে। সন্ধ্যার পর যাত্রীদের ভিড়ে গোটা লঞ্চ টার্মিনালে তিল ধারণের জায়গা মেলেনি। টার্মিনাল থেকে প্রতিটি লঞ্চই ছেড়ে গেছে ধারণ ক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি যাত্রী নিয়ে। তবে বিআইডবিস্নউটিএ কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের বিষয়টি তারা কঠোরভাবে মনিটরিং করছে। কিন্তু তাদের এসব কথার ফুলঝুরির সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল পাওয়া যায়নি। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ও মাঝনদীতে নোঙর করা সব ক'টি লঞ্চের ছাদে শত শত যাত্রী বসে থাকতে দেখা গেছে। শুক্রবার থেকে সরকারি ছুটি থাকায় লঞ্চে ভিড় ছিল অনেক বেশি। তাই নির্ধারিত সময়ের আগেই অনেক লঞ্চ ছাড়তে বাধ্য করা হয়। এর মধ্যে পটুয়াখালীর বেশ কয়েকটি লঞ্চ সন্ধ্যা ৬টায় ছাড়ার নির্ধারিত সময় থাকলেও যাত্রী অতিরিক্ত হওয়ায় বিআইডবিস্নউটিএ কর্তৃপক্ষ তা আগেভাগেই ছাড়তে বাধ্য করে। একইভাবে বিকালে ছাড়ার কথা থাকলেও রাঙ্গাবালী রুটের শ্রীনগর, হাতিয়া রুটের পানাম, ঘোষেরহাট রুটের তরিকা (৭), শরিয়তপুর রুটের শরিয়তপুর (২), কালী, সুরেশ্বর, লেতরা রুটের কোকো (৩), ভোলা রুটের স্বর্ণদীপ (৪ ও ৮), লালী, বালিয়া, সম্পদ, পূবালী, ,চাঁদপুর রুটের ঈগল, ইমাম হোসেন, সোনারতরী, বোগদাদীয়া, মিতা (২) দুপুরেই ছেড়ে যায়। ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া চাঁদপুর, ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, হাতিয়াসহ সব রুটের কেবিন বিক্রি হয়ে যায় ১৫ অক্টোবরের আগেই। যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, সাধারণ ভাড়ার কয়েকগুণ বেশি টাকা দিয়ে তাদের টিকিট কিনতে হয়েছে। বরিশালগামী লঞ্চের যাত্রী জহিরুল হক জানান, দেড় হাজার টাকার ডাবল কেবিন ভাড়া করেছেন ৪ হাজার টাকায়। তবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল যাত্রী পরিবহন সংস্থা নেতারা এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কারো কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে না। তবে আগে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কেউ কেউ কম নিত। এখন সরকার নির্ধারিত ভাড়া নেওয়ায় বেশি মনে হতে পারে। গত বছরের চেয়ে এবার যাত্রীদের চাপ একটু বেশি। এজন্য নিয়মিত লঞ্চের বাইরে ঢাকা থেকে অতিরিক্ত ট্রিপ দেয়া হবে বলে জানান তিনি।
 
 

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে