Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.3/5 (34 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ১০-২৩-২০১২

মুক্তিযোদ্ধা সংসদে যায়নি সৈয়দ আশরাফকে দেওয়া সোনার চাবি


	মুক্তিযোদ্ধা সংসদে যায়নি সৈয়দ আশরাফকে দেওয়া সোনার চাবি

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে উপহার দেওয়া ৩ ভরি ওজনের সোনার চাবি নিয়ে রীতিমতো ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে।
মাসপাঁচেক আগে ত্রিশাল পৌরসভার মেয়র ও স্থানীয় যুবলীগ সভাপতি এ.বি.এম আনিসুজ্জামান ওই চাবিটি উপহার দেন।  
সৈয়দ আশরাফ চাবিটি গ্রহণ করলেও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের চাবিটি দিয়ে দিতে বলেন। কিন্তু ৫ মাস পরেও মুক্তিযোদ্ধারা সেই সোনার চাবিটি পায়নি।
ত্রিশাল পৌরসভার মেয়র এ.বি.এম.আনিসুজ্জামান প্রথম দিকে চাবিটি তার নিজের কাছেই রেখেছেন বলে জানালেও প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, “ভুল করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর বডিগার্ড সোনার চাবিটি নিয়ে গেছেন। সেটি এখন মন্ত্রীর ড্রয়িং রুমেই আছে।”
৫ মাস আগের বক্তব্যের সঙ্গে তার সাম্প্রতিক বক্তব্যের এই বৈপরীত্য জনমনে সন্দেহ-সংশয় তৈরি করেছে।
ত্রিশাল পৌরসভার একটি দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ মে দুপুরে ত্রিশাল পৌরসভার নব-নির্মিত ভবন উদ্বোধন উপলক্ষে এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথি হয়ে আসেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।
ওই সুধী সমাবেশের শুরুর দিকে ত্রিশাল পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা যুবলীগ সভাপতি এ.বি.এম.আনিসুজ্জামান মন্ত্রীকে ৩ ভরি ওজনের সোনার চাবি উপহার দেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত বেশ কয়েকজন জানান, প্রথাবিরোধী রাজনীতিক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম নিজের বক্তব্যের সময় সোনার চাবিটি স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদকে উৎসর্গ করেন।
ফলশ্রুতিতে নিজে চাবিটি না নিয়ে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদে পৌছে দিতে পৌর মেয়র আনিসকে অনুরোধও জানান তিনি।
ওই সুধী সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-৭-ত্রিশাল আসনের সংসদ সদস্য রেজা আলী, জেলা প্রশাসক মো. লোকমান হোসেন মিয়া, জেলা পুলিশ সুপার মো. গোলাম কিবরিয়া, ময়মনসিংহ পৌরসভার মেয়র মো. ইকরামুল হক টিটু, ভালুকা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজিম উদ্দিন ধনু।
সূত্র জানায়, সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রীর উপহার প্রত্যাখ্যানের ঘটনার পর গোটা ত্রিশালে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ওই সময় সাংবাদিকদের পৌর মেয়র এ.বি.এম.আনিসুজ্জামান জানিয়েছিলেন চাবিটি তার কাছেই আছে। মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে যে কোন সময় পৌছে দেওয়া হবে।
রোববার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে এ বিষয়ে ত্রিশাল পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা যুবলীগ সভাপতি এ.বি.এম.আনিসুজ্জামান বলেন, “চাবিটি মিনিস্টার সাহেবের বাসায় আছে। তার বডিগার্ড ভুলে চাবিটি নিয়ে গিয়েছিলেন। আমি দু’দিন তার বাসায় গিয়েছি চাবিটি আনার জন্য। বর্তমানে চাবিটি মিনিস্টার সাহেবের ড্রয়িং রুমেই আছে।”
আলোচিত সেই সোনার চাবির বিষয়ে ত্রিশাল উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নাজিম উদ্দিন সরকারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “চাবিটি আমরা এখনো পাইনি। সৈয়দ আশরাফ সাহেব ঘোষণা দিলেও ভুলে তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) চাবিটি নিয়ে গেছেন।”
তিনি বলেন, “পৌর মেয়র দু’বার তার বাসা থেকে ঘুরে এসেছেন। চাবি আনতে পারেন নি। আপনারা লেখালেখি করলে হয়তো আমরা চাবিটি পাবো।”
সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রীকে ‘গিফট’ দেওয়ার জন্য এ বছরের মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বাইরে থেকে অর্ডার দিয়ে ৩ ভরি ওজনের সোনার চাবিটি তৈরি করেন পৌর মেয়র এ.বি.এম.আনিসুজ্জামান। সাধারণত উপহার সংস্কৃতির ঘোর বিরোধী সৈয়দ আশরাফকে এ ধরনের উপহার দেয়ার কেউ সাহসও করে না।
কিন্তু সেইদিন অনেকটা চমক দেখিয়েই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের হাতে চাবিটি তুলে দেন মেয়র আনিস। তিনিও সেটা গ্রহণ করেন। কিন্তু ত্রিশাল পৌরসভার সেই সুধী সমাবেশে নিজের বক্তৃতার সময় চাবিটি তিনি মুক্তিযোদ্ধা সংসদকে উৎসর্গও করেন। কিন্তু ৫ মাস পরেও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা চাবিটি পায়নি।
সূত্রমতে, আলোচিত ওই সোনার চাবি নিয়ে রীতিমতো গোলকধাঁধার সৃষ্টি হয়েছে। প্রথম দিকে মেয়র বলেছিলেন, চাবিটি তার কাছেই আছে। এখন বলছেন চাবিটি স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর ড্রয়িং রুমে। এ কারণে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে।
চাবি রহস্যের কিনার বিষয়ে সেই সুধী সমাবেশের বিশেষ অতিথি ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের সংসদ সদস্য রেজা আলীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

ময়মনসিংহ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে