Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২০ , ২০ চৈত্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (19 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১০-২২-২০১২

নাফিসের হিযবুত কানেকশন খুঁজছে এফবিআই

নূরুজ্জামান



	নাফিসের হিযবুত কানেকশন খুঁজছে এফবিআই

বাংলাদেশী শিক্ষার্থী রেজওয়ানুল আহসান নাফিসের সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত হিযবুত তাহরির সংগঠনের কানেকশন খুঁজে বেড়াচ্ছে এফবিআই। এ সংক্রান্তে তথ্য সংগ্রহের জন্য গতকাল গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল রাজধানীর বেসরকারি ইউনিভার্সিটি নর্থ সাউথের ক্যাম্পাসে গিয়েছিল। সেখানে গিয়ে ইউনিভার্সিটির শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তারা কথা বলেছেন। তার সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত হিযবুত তাহরির সম্পর্ক ছিল কিনা সে বিষয়ে জানতে তাদের নানা কৌশলে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। ওদিকে নিউ ইয়র্কে বোমা হামলার পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করেছে গ্রেপ্তারকৃত নাফিস। এ তথ্য দিয়েছেন নাফিসের বড় মামা আবুল বাশার। তিনি মানবজমিনকে বলেন, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় আইনজীবীর কাছে নাফিস তার বিরুদ্ধে আনীত এফবিআই-এর সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এ সংক্রান্তে শনিবার রাতে আমেরিকার নিউ ইয়র্কের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের ডিফেন্স এটর্নি ও ফেডারেল ডিফেন্ডার ও ব্রুকলিন এটর্নি হেইডি ক্লেয়ার সিজেয়ার বাংলাদেশে নাফিসের পিতার ঠিকানায় একটি মেইল করেছেন। পুলিশ ও গোয়েন্দারা জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে নাফিসের বিরুদ্ধে কোন জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পাওয়া যায়নি। এরপর এফবিআই অধিকতর তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু করে। তাদের তদন্তে সহায়তা করার জন্য মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক টিম মাঠে রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা সদস্যরা নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে যান। অবশ্য বাংলাদেশের এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন- র‌্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল জিয়াউল আহসান বলেছেন, মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই-এর হাতে গ্রেপ্তারকৃত নাফিসের নাম এদেশের নিষিদ্ধ ঘোষিত কোন জঙ্গি সংগঠনের তালিকায় নেই, এমনকি তাদের সঙ্গে কোন সম্পর্কের তথ্যও পাওয়া যায়নি। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে নাফিসের পিতা-মাতাসহ ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে নাফিসের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। আমেরিকা যাওয়ার আগে নাফিস যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করেছে তার সব জায়গায় গোয়েন্দারা গিয়েছে। বিভিন্ন কৌশলে তথ্য নিয়েছে। নাফিসের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে কেউই তার জঙ্গি কানেকশনের বিষয়ে তথ্য দিতে পারেননি। ঢাকা মহানগর পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশে অবস্থানরত এফবিআই-এর একজন এজেন্ট (লিগ্যাল অ্যাটাচে) নাফিসের জঙ্গি কানেকশন খুঁজতে মতিঝিল আইডিয়াল হাই স্কুলের পাঠ্যসূচি সংগ্রহ করেছেন। একই সঙ্গে তাদের সহপাঠদান শিক্ষা কার্যক্রমে অতিরিক্ত ধর্মপরায়ণতার বৈশিষ্ট্য খুঁজে বেড়াচ্ছেন। এছাড়া নাফিসের বাংলাদেশী বন্ধুদের তালিকা সংগ্রহে নেমেছেন। আমেরিকা যাওয়ার পর স্বজনদের বাইরে আর কারও সঙ্গে যোগাযোগ করেছে কিনা কিংবা করে থাকলে তাদের রাজনৈতিক মতাদর্শ কি ছিল সে বিষয়ে তথ্যানুসন্ধান করছেন। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়নকালে কাদের সঙ্গে নাফিস বেশি মিশতো, কোন শিক্ষকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এবং তাদের আলোচনা কিংবা আড্ডার বিষয়বস্তু হাতড়ে বেড়াচ্ছেন এফবিআই-এর ওই এজেন্ট। সূত্র মতে, নিউ ইয়র্কে গ্রেপ্তারের পরপরই এফবিআই সদর দপ্তর থেকে বাংলাদেশে অবস্থানরত এজেন্টের কাছে নাফিসের যাবতীয় তথ্য চাওয়া হয়। এর পরপরই তিনি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাদের সহায়তায় নাফিসের পিতা কাজী মোহাম্মদ আহসান উল্যাহ ও মাতা রোকেয়া সিদ্দিকাকে গোয়েন্দা হেফাজতে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। তবে এফবিআই-এর ওই এজেন্ট নাফিসের পিতা-মাতার কাছে তাদের ছেলের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের কোন সত্যতা খুঁজে পাননি। এমনকি বাংলাদেশী গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও নাফিসের বিরুদ্ধে জঙ্গি কানেকশনের তথ্য খুঁজে পাননি। এরপর এফবিআই অধিকতর তদন্তে নামার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে গতকাল পর্যন্ত নাফিসের বিরুদ্ধে ইসলামী কট্টরপন্থি কোন জঙ্গি সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা মেলাতে পারেনি। নাফিসের মামা আবুল বাশার বলেন, নিউ ইয়র্কের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের ডিফেন্স এটর্নি ও ফেডারেল ডিফেন্ডার ও ব্রুকলিন এটর্নি হেইডি ক্লেয়ার সিজেয়ার তার ই-মেইল বার্তায় বলেছেন, নাফিস ব্রুকলিন মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি আছেন। তিনি কথা বলেছেন তার সঙ্গে। তার কাছে নাফিস দাবি করেছে, এফবিআই-এর অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
নাফিসের ভাগ্য গ্র্যান্ড জুরির হাতে: নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ উড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত নাফিসের বিরুদ্ধে মামলা চলবে কিনা সে সিদ্ধান্ত দিতে অভিযোগপত্র গ্র্যান্ড জুরিতে পাঠানো হয়েছে। ওই জুরি বোর্ডের সিদ্ধান্তের ওপরই তার ভাগ্য নির্ভর করছে। নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিন ফেডারেল কোর্টের মুখপাত্র রবার্ট নারডোজা বলেন, নাফিস দোষী না নির্দোষ- তা বলার পর্যায় এখনও আসেনি। গ্র্যান্ড জুরি যদি নাফিসের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অভিযোগ গঠনের পক্ষে মতামত দেয়, তাহলে মামলার শুনানি শুরু হবে এবং নাফিসের বক্তব্য গ্রহণ করা হবে। সে সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি অথবা দোষ স্বীকার করতে পারেন। নিউ ইয়র্কের মানবাধিকার আইনজীবী অশোক কর্মকার সাংবাদিকদের বলেন, সাধারণত চাঞ্চল্যকর মামলাগুলোই ১২ সদস্যের গ্র্যান্ড জুরিতে পাঠানো হয়। নাফিসের বিরুদ্ধে মামলাটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর। তিনি আরও বলেন, গ্র্যান্ড জুরি বোর্ড কেবল তদন্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য শুনবেন এবং তার দেয়া নথিপত্রই দেখবেন। এর ভিত্তিতে তারা জানাবেন, এই মামলা চালানো হবে কিনা। এক্ষেত্রে আসামির বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ না থাকলেও একটি মামলার ন্যায় বিচারের ক্ষেত্রে গ্র্যান্ড জুরি বড় ভূমিকা রাখতে পারে। গত ১৭ই অক্টোবর কথিত ‘স্টিং অপারেশনে’র ফাঁদে ফেলে এফবিআই গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশী শিক্ষার্থী কাজী রেজওয়ানুল আহসান নাফিসকে। নাফিস নিউ ইয়র্কের এএসএ ইনস্টিটিউটে সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ে পড়াশোনা করছিল। পাশাপাশি সেখানকার একটি পিৎজা শপে পার্টটাইম চাকরি করছিল। কিন্তু এফবিআই দাবি করেছে, এই বাংলাদেশী যুবক ফেডারেল রিজার্ভ ভবন বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তার ভ্যানে সত্যিকারের বিস্ফোরক না থাকায় সেটি আর ফাটেনি। ২১ বছর বয়সী নাফিসের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্রের ব্যবহার ও জঙ্গি সংগঠন আল কায়েদাকে সহযোগিতা করার অভিযোগ আনা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে