logo

তামিমদের আত্মসমর্পণের সুযোগ দেয়া হয়েছিল: আইজিপি

তামিমদের আত্মসমর্পণের সুযোগ দেয়া হয়েছিল: আইজিপি

নারায়ণগঞ্জ, ২৭ আগষ্ট- নারায়ণগঞ্জে জঙ্গি আস্তানায় থাকা জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের সুযোগ দেয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন পুলিশ প্রধান (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক। কিন্তু জঙ্গিরা সে সুযোগ না নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করে। এরপর পাল্টা হামলায় মারা যায় তিনজন। নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়া এলাকায় পুলিশের জঙ্গিবিরোধী অভিযান ‘হিট স্ট্রং টোয়েন্টি সেভেন’ শেষে ঘটনাস্থলে গিয়ে এ কথা বলেন শহীদুল হক।

এই তিনজনের মধ্যে একজন গুলশান ও শোলাকিয়া হামলায় মূল হোতা হিসেবে শনাক্ত তামিম চৌধুরী বলেও নিশ্চিত করেছেন পুলিশ প্রধান। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে তামিম চৌধুরীর যে ছবি আছে নিহত তিনজনের একজনের সঙ্গে তার হুবহু মিল আছে। এ থেকেই আমরা ধারণা করছি তিনি তামিম চৌধুরী।’

গত ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান এবং ৭ জুলাই কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলায় মূল হোতা হিসেবে তামিম চৌধুরীর নাম জানিয়েছিল পুলিশ। তিনি জঙ্গি সংগঠন নিউ জেএমবিকে সংগঠিত করছিলেন বলেও জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশ প্রধান বলেন, ‘নিউ জেএমবির ঢাকার নেতৃত্ব দিয়েছিল তামিম চৌধুরী। তিনি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক। তিনি নিউ জেএমবির নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। দেশে যতগুলো ঘটনা ঘটিয়েছে সবগুলোই এই তামিম চৌধুরীর নেতৃত্বে হয়েছে।... আমরা দীর্ঘদিন ধরে তাকে খুঁজছিলাম। পরে তথ্য পেয়েছি তিনি নারায়ণগঞ্জ আছেন। আর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম, সিটি ইউনিট, সোয়াত ও লোকাল পুলিশকে নিয়ে আমরা অভিযানে নামি।’

পুলিশ তামিম চৌধুরীকে নিউ জেএমবি বললেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি বাংলাদেশে জঙ্গি সংগঠন আইএসের প্রধান হতে পারেন। গত এপ্রিলে আইএসের মুখপাত্র ‘দাবিক’ এর ১৪ তম সংস্করণে বাংলাদেশে আইএস প্রধান হিসেবে শেখ আবু ইব্রাহিম আল-হানিফ নামে একজনের সাক্ষাৎতার প্রচার হয়। পরে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম তাকে তামিম চৌধুরী বলে শনাক্ত করে। তার বাড়ি সিলেট হলেও পরে তিনি কানাডায় পাড়ি জমান এবং সেখান থেকেই আইএসে যোগ দেন। পরে জঙ্গি তৎপরতা চালাতে তিনি বাংলাদেশে আসেন।

আত্মসমর্পণের আহ্বান না মেনে পুলিশের ওপর হামলা
২৬ জুলাই কল্যাণপুরে আস্তানায় সন্দেহভাজন জঙ্গিরা পুলিশকে প্রতিহত করার চেষ্টা করেছিল। নারায়ণগঞ্জে এমন কিছু হয়েছে কি না- জানতে চাইলে আইজিপি বলেন, ‘এখানেও তারা রেজিস্ট করেছে। আমি বলেছিলাম, তোমরা (পুলিশ কর্মকর্তাদেরকে) ওদের সাথে কথা বলো। সারেন্ডার করতে বলো। তারা যেন হাত উঁচিয়ে বের হয়ে আসে। কিন্তু তারা (সন্দেহভাজন জঙ্গিরা) এ কথা শোনেনি। গ্রেনেড মেরেছে, একে টোয়েন্টি টু দিয়ে গুলি করেছে। পরে পাশের ভবন থেকে স্নাইপার (দূর থেকে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত করা যায় এমন বিশেষ ধরনের রাইফেল) মেরে তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে।’

শহীদুল হক বলেন, ‘এই অভিযানে এক ঘণ্টা সময় লাগে। অভিযান শেষে ভেতরে ঢুকে দেখা যায় তিনজন নিহত পড়ে আছে। সেখানে একটি একে টোয়েন্টি টু রাইফেল, একটি পিস্তল, দুই তিনটি লাইভ গ্রেনেড পড়ে থাকতে দেখা যায়। আমাদের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করছে। তাদের কাজ শেষ হলে তাদের সবার ছবি পাবো।’

ওই আস্তানায় নিহত তিনজন ছাড়া আর কেউ ছিল কি না- জানতে চাইলে আইজিপি বলেন, ‘অভিযানের আগেই আমরা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করেছিলাম জঙ্গি ছাড়া এখানে আর কেউ আছে কি না। কোনো মহিলা বা বাচ্চা আছে কি না। সেটা কনফার্ম করেই এখানে আমরা অভিযান চালিয়েছি। আরেক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, গত ঈদের পর ব্যবসায়ী পরিচয়ে এই বাড়িটি ভাড়া নেয় জঙ্গিরা।

এফ/২০:২০/০১আগষ্ট