logo

ঘরোয়াভাবেই প্রতিকার করুন অ্যাংজাইটি

সাবেরা খাতুন


ঘরোয়াভাবেই প্রতিকার করুন অ্যাংজাইটি

বর্তমান ব্যস্ত ও প্রতিযোগিতামূলক জীবনে টেনশন, অ্যাংজাইটি, স্ট্রেস অনিবার্য। এছাড়াও কিছু মানুষের নার্ভাসনেস ও অ্যাংজাইটির প্রবণতা অন্যদের চেয়ে বেশি থাকে। ডিপ্রেশন, ঘুমের সমস্যা, পুষ্টির ঘাটতি, নিকোটিন, এড্রেনাল ডিজঅর্ডার, থাইরয়েড সমস্যা ও ঔষধের কারণেও হতে পারে অ্যাংজাইটি।

অ্যাংজাইটির সাধারণ লক্ষণগুলো হচ্ছে ভয়, আশংকা, অস্থিরতা, বুক ধড়ফড় করা, শ্বাসকষ্ট, পেটের সমস্যা, শুষ্ক মুখ, বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা ও ক্লান্তি। দীর্ঘ দিন অ্যাংজাইটি বা স্ট্রেসের মধ্যে থাকলে অনেক বড় সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। তাই অ্যাংজাইটির থেকে মুক্ত হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং ঘরোয়া কিছু উপায়ের মাধ্যমে সেটি করা সম্ভব। চলুন তাহলে অ্যাংজাইটির ঘরোয়া প্রতিকার সম্পর্কে জেনে নিই।

১। কমলা
কমলার সুগন্ধ স্নায়ু শান্ত করতে পারে। সাইট্রাস ফলের সৌরভ ডিপ্রেশনের বিরুদ্ধে কাজ করে এবং ইমিউনিটিকে জোরদার করে। কমলা থেকে খোসা ছাড়িয়ে নিয়ে খোসার সুঘ্রাণটুকু প্রশ্বাসের সাথে গ্রহণ করুন। এটি আপনার মেজাজ ভালো করে দিবে খুব সহজেই। ভালো ফল পেতে চাইলে একটি পানিপূর্ণ পাত্রে কয়েকটি কমলার খোসা দিয়ে কিছুক্ষণ ফুটিয়ে নিন। এর ফলে যে সুঘ্রাণ তৈরি হবে তা আপনার অ্যাংজাইটি দূর করবে সহজেই। এছাড়াও ১ কাপ তাজা কমলার রস পান করতে পারেন এর সাথে ১ টেবিলচামচ মধু ও ১ চিমটি জায়ফল গুঁড়া মিশিয়ে। অ্যাংজাইটি দূর করার জন্য নিয়মিত কয়েকদিন বা কয়েক সপ্তাহ পান করুন কমলার জুস।

২। জায়ফল
জায়ফল একটি সুগন্ধি মসলা যা শিথিলায়নকে উৎসাহিত করে, ডিপ্রেশনের বিরুদ্ধে কাজ করে এবং পেশীকে শিথিল হতে সাহায্য করে। তাই এটি অ্যাংজাইটি, স্ট্রেস ও ডিপ্রেশন নিরাময়ে চমৎকার কাজ করে। ভালো ঘুম হতে সাহায্য করে জায়ফল। মস্তিস্কের অবসাদ দূর করতে ও মেজাজ ভালো করতে জায়ফলের তেলের ঘ্রাণ নিন। তাছাড়া ১ চামচের চার ভাগের এক ভাগ পরিমাণ জায়ফল গুঁড়া আপনার প্রতিদিনের খাবারের সাথে যুক্ত করতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে খুব বেশি পরিমাণে জায়ফল গ্রহণ করা ঠিক নয় বিশেষ করে যাদের মানসিক সমস্যা আছে।

৩। ক্যামোমিল
ক্যামোমিল উদ্বিগ্নতা থেকে মুক্ত হতে ও শান্ত হতে সাহায্য করে। ক্লিনিক্যাল সাইকোফার্মাকোলজি নামক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে জানা যায় যে, হালকা ও মধ্যমমানের অ্যাংজাইটিতে যারা ভুগছেন তাদের লক্ষণগুলো কমতে সাহায্য করে ক্যামোমিল। এর প্রশান্তিদায়ক প্রভাব শিথিলিকরনকে উৎসাহিত করে এবং তন্দ্রাচ্ছন্নতা সৃষ্টি করে। ক্যামোমিল চায়ের সাথে মধু ও দারুচিনি গুঁড়া মিশিয়ে পান করুন।

এছাড়াও গান শোনা, ইয়োগা প্র্যাকটিস করা, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম করা, গভীরভাবে দম নেয়া ও দম ছাড়া, প্রাণ খুলে হাসা, সমস্যা নিয়ে কারো সাথে কথা বলা, ভয়কে মোকাবিলা করা  ইত্যাদি কাজ গুলো অ্যাংজাইটি হতে মুক্ত হতে সাহায্য করবে। অ্যালকোহল ও ক্যাফেইন অ্যাংজাইটির সমস্যাকে বাড়িয়ে দিতে পারে, তাই এগুলো থেকে দূরে থাকুন। ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করুন। সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করুন।