logo

নীলফামারীতে আদার আবাদ করে লাভবান কৃষক : গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন জরুরী


	নীলফামারীতে আদার আবাদ করে লাভবান কৃষক : গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন জরুরী

নীলফামারী, ১৬ সেপ্টেম্বর- এক সময় যারা আদা আবাদ করতো, সেই সকল কৃষকেরা পানির দরে বিক্রি করতো তাদের উৎপাদিত আদা। আর যারা আদা নিয়ে কারবার করতো তাদেরকে ব্যঙ্গ করে বলা হতো ‘আদার ব্যাপারী জাহাজের খবর কিংবা আদা আবাদ করে গাধা’ ইত্যাদি। কিন্তু সেইদিন পাল্টে গেছে। এবারে যারা আদা আবাদ করেছে তাদের পোয়াবারো। আর যারা আদার ব্যবসা করছেন, তারা সত্যি সত্যিই একটি জাহাজ কেনার দুঃসাহস দেখাতে পারেন। বর্তমানে এই মসলা জাতীয় পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া। এক লাফে আদা ১শ টাকা থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। হঠাৎ করে গোটা জেলার হাটবাজারে এমনি বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে আদা।
অবহেলিত জনপদ নীলফামারী। দেশের উত্তর সীমান্তের সর্বশেষ জেলা। এ জেলার বুক চিরে বয়ে গেছে তিস্তা, বুড়ি তিস্তা, চাড়ালকাটা, দেওনাই, যমুনেশ্বরী ও বুড়িখোরা নদী। দেশের বৃহত্তম তিস্তা ব্যারেজ এ জেলার সীমান্ত লালমনিরহাট জেলার দোয়ানীতে অবস্থি'ত। ধান, পাট, গম, আদা এ অঞ্চলের অর্থকরি ফসল হওয়া সত্বেও এ জেলায় কৃষি ভিত্তিক কোন শিল্প কারখানা গড়ে উঠেনি। এই জেলা অবহেলিত থেকে গেছে বছরের পর বছর। দেশের নীলফামারী, রংপুর, দিনাজপুর ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে আদা উৎপন্ন হয়ে থাকে। এর মধ্যে নীলফামারী জেলায় বেশি আদা উৎপন্ন হয়। এ কারণে গুণ ও মানের দিক দিয়ে উত্তরের নীলফামারী জেলার আদা উৎকৃষ্ট মানের। দেশের শতকরা ৮০ ভাগই উৎপন্ন হয় এ জেলায়। প্রকৃতি যেন আদা চাষের উপযোগি করেই তৈরি করেছে এ অঞ্চলকে। দেশে ধান, পাট, তামাক, চা, তুলা, গম প্রভৃতি চাষের জন্য গবেষনা কেন্দ্র থাকলেও আদা চাষ ও উন্নয়নের জন্য কোন গবেষনা কেন্দ্র নেই। অথচ আধুনিক পদ্ধতিতে আদা চাষাবাদ করলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে আদা রপ্তানি করে কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। এ জেলার আদা আন্তর্জাতিক বাজারে বিশেষ করে সিঙ্গাপুর, জাপান, কানাডা, জার্মানি ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে বলে জানা গেছে। এক পরিসংখ্যানে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ আদা উৎপন্ন হয় তা দেশের চাহিদা মিটিয়েও ৩ থেকে ৪ লাখ মন উদ্বৃত্ত্ব থাকে। স্বাধীনতা পূর্বকালে এদেশের উৎপাদিত আদা কাঁচা অবস্থায় তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে রপ্তানি করা হতো এবং আদাকে প্রক্রিয়াজাত করে আরব দেশগুলোসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার জন্য উন্নতমানের আদা এবং আদা উৎপাদনের ব্যয় কমানো দরকার। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে এখনো মান্ধাতা আমলের পদ্ধতিতে কাঁচা আদাকে শুকিয়ে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। যা ক্রটিমুক্ত নয়। আদা রপ্তানি ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য প্রক্রিয়াজাত করণে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানি করে এ জেলায় স্থাপন করা দরকার- মন্তÍব্য সচেতন মহলের।