করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি উপেক্ষা করে সিলেট-৩ আসনে জমজমাট প্রচারণা

সিলেট, ১৮ জুলাই – সিলেটে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে প্রাণনাশী ভাইরাস করোনা। প্রতিদিন নিচ্ছে প্রাণ, আক্রান্ত করছে শত শত লোক। কিন্তু এরই মাঝে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি উপেক্ষা করে সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচন ঘিরে প্রার্থীদের পক্ষে চলছে জমজমাট প্রচারণা।
সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ) আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৮ জুলাই। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে করোনা মহামারির মাঝেও ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন তারা।
দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জের একাংশ নিয়ে গঠিত সিলেট-৩ আসন। যার সংসদীয় আসন নং ২৩১। আসনটিতে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫২ হাজার ও ভোটকেন্দ্র ১৪৯টি। চলতি বছরের ১১ মার্চ করোনায় সংক্রমিত অবস্থায় সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ এ আসনের সাংসদ আওয়ামী লীগ নেতা মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী মারা যান।
এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী মৃত্যুর পর ১৫ মার্চ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১২৩ এর দফা (৪) অনুযায়ী উক্ত শূন্য আসনে ৮ জুনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও করোনার কারণে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় শূন্য আসনটিতে ৮ জুন পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তফসিল ঘোষণা করে ইসি।
সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ এ আসনে উপনির্বাচনে অংশ নিতে গত ১৫ জুন মনোনয়ন জমা দেন মোট ৬ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব, জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান আতিক, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য শফি আহমেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী জুনায়েদ মুহাম্মদ মিয়া এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ফাহমিদা হোসেন লুমা ও শেখ জাহেদুর রহমান মাসুম।
এর মধ্যে ফাহমিদা ও মাসুম ছাড়া সবার মনোনয়নপত্র ১৭ জুন বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন অফিস। দাখিলকৃত মনোনয়নে ভোটারদের তথ্য যথাযথ না পাওয়ায় ফাহমিদা ও মাসুমের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। পরে তারা আপিল করলেও আগের রায় বহাল রাখে নির্বাচন কমিশন। ফলে তারা দুজন ঝরে পড়েন নির্বাচন থেকে।
বহাল থাকা ৪ প্রার্থীর প্রার্থীর মধ্যে ২৫ জুন প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রার্থীদের মধ্যে আওয়ামী লীগের হাবিবুর রহমান হাবিব নৌকা, জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমান আতিক লাঙ্গল, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক বিএনপি নেতা শফি আহমদ চৌধুরী মোটরগাড়ি (কার) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের জুনায়েদ মোহাম্মদ মিয়া ডাব প্রতীক পান। এর মধ্যে শফি আহমদ চৌধুরী ছাড়া বাকি ৩ জন পান দলীয় প্রতীক।
তপশিল ঘোষণার পর থেকেই উত্তাপ ছড়াচ্ছিলো সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচন। প্রার্থীদের কথার লড়াই প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে গড়ায় মাঠে।
আসনজুড়ে প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দেখা দেয় বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা। চলে মিছিল-মিটিং-শোডাউন। সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও শুরু হয় নির্বাচনকেন্দ্রীক আলোচনা-সমালোচনা। কিন্তু কিন্তু চলতি মাসের শুরুতে করোনার ঢেউ থামিয়ে দেয় সবকিছু।
করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার নির্দেশিত কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে সিলেট-৩ আসনে ১ জুলাই থেকে নিষিদ্ধ করা হয় গণজমায়েত করে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। এতে দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জে গত এক সপ্তাহ ধরে মাঠে মারা যায় নির্বাচনী আমেজ। কিন্তু সাধারণ জনগণের মাঝে করোনা আতঙ্ক থাকলেও বিধিনিষেধ অমান্য করে প্রথম থেকেই ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাচ্ছেন প্রার্থীরা। চলছে সভা ও মোটরসাইকেল শোডাউন। সিলেটে করোনার এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে প্রচারে প্রার্থী ও সমর্থকদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রচারণা চালানোর কথা থাকলেও কেউই তা মানছেন না। জনসমাগম করে করছেন সভা, বৈঠক ও গণসংযোগ।
এদিকে আগামী ২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ৫ আগস্ট রাত ১২টা পর্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধ ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ২৮ জুলাই ভোটগ্রহণ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন ভোটাররা। কঠোর বিধিনিষেধ চলাকালীন ভোটগ্রহণ হবে কি হবে না, এ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ ভোটারদের মনে।
তবে সংবিধানের বাধ্যবাধকতা থাকায় উপনির্বাচনের বিষয়ে আগের সিদ্ধান্তই বহাল থাকবে বলে জানা গেছে। নতুন করে পেছানোর কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।
সূত্র : সিলেটভিউ
এন এইচ, ১৮ জুলাই









