সিলেটে দুই ল্যাবে ৪৬০টি নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত ৩৩২

সিলেট, ১০ জুলাই – সময়ে সময়ে করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে সীমান্তবর্তী জেলা সিলেট। চলতি মাসের শুরু থেকে প্রায় প্রতিদিনই হচ্ছে শনাক্তের রেকর্ড। এর মধ্যে মৃত্যুর রেকর্ডও হচ্ছে দিনদুয়েক পরপর। এরই ধারাবাহিকতায় সিলেটের দুই ল্যাবে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৩৩২ জনের করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছে। যেখানে শনাক্তের হার ৭৩ শতাংশ।
সিলেটের সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের ৬টা উপজেলা, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলা ও হবিগঞ্জের কিছু অংশের মানুষের করোনার নমুনা পরীক্ষা হয় সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। এছাড়া সিলেটের বাকি ৭ উপজেলা, করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল, সিভিল সার্জন অফিস, বেসরকারি হাসপাতাল ও ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের নমুনা পরীক্ষা হয় ওসমানী মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে।
পাশাপাশি বক্ষব্যাধি হাসপাতালের আর পিসিআর ল্যাবে ওসমানী হাসপাতাল বা শামসুদ্দিন হাসপাতালে আশঙ্কাজনক রোগীদের নমুনা পরীক্ষা করা হয়।
কিন্তু সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সিলেটের এই দুই ল্যাবে ৪৬০ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩৩২ জনেরই করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। দুই ল্যাবে করোনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার প্রায় ৭৩ শতাংশ।
এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের। এ নিয়ে বিভাগে ৫১৭ জন করোনা মারা গেলেন।
আর শুক্রবার হওয়ায় বক্ষব্যাধি হাসপাতালের আর পিসিআর ল্যাব বন্ধ ছিল। ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের উপ-পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সর্বশেষ ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের পিসিআর ল্যাবে ২৭২ নমুনা পরীক্ষায় ২৪০ জনের করোনা পজিটিভ আসে। যেখানে শনাক্তের হার প্রায় ৮৬ শতাংশ।
এছাড়া শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের করোনা পরীক্ষার ল্যাব ইনচার্জ নাজমুল হাসান জানান, তাদের পিসিআর ল্যাবে ১৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে প্রায় অর্ধেকেরই করোনা পজিটিভ এসেছে। এই ল্যাবে ৯২ জনের করোনা পজিটিভ আসে।
এদিকে সিলেটে হঠাৎ করে এতো বেশি পজিটিভ আসার কারণ হিসেবে মানুষের অসচেতনতাকেই দায়ি করেছেন সহকারি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্ত।
তিনি বলেন, ওসমানী বা শাবিপ্রবির ল্যাবে যে বেশি পজিটিভ শনাক্ত হচ্ছে তা নয়। এখন বেশিরভাগ মানুষই করোনার লক্ষণ নিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে এবং বেশিরভাগেরই পজিটিভ ধরা পড়ছে। একেবারে উপজেলা পর্যায়ে এন্টিজেন পরীক্ষাতেও একই অবস্থা। এই অবস্থা থেকে ফিরে আসতে সচেতনতা এবং সঠিকভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ছাড়া বিকল্প নেই।
সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এন এইচ, ১০ জুলাই









