
উত্তর আমেরিকার কত রকমের গবেষণা চলছে তার ইয়ত্তা নেই। কে কতটুকু খবর রাখতে পারে? সম্প্রতি একটি গবেষণার রিপোর্টের প্রতি আমার দৃষ্টি আকর্ষণ হয়েছে। গবেষণাটি টেলিভিশন দেখা নিয়ে। অরেগন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞানী অ্যালেক্সিস ওয়ার্কারের এ বিষয়ক একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে ‘জার্ণাল অব মেরেজ এ- দ্য ফ্যামিলি’ ম্যাগাজিনে। নিবন্ধে বলা হয়েছে, পুরুষরা টেলিভিশন দেখার সময় রিমোট কন্ট্রোল নিয়ন্ত্রণ করেন। বিবরণে বলা হয়, স্বামী-স্ত্রী একসাথে যখন টেলিভিশন দেখেন তখন বেশির ভাগ স্বামী রিমোর্ট কন্ট্রোল হাতে রেখে ইচ্ছেমতো চ্যানেল বদলাতে থাকেন।
উত্তর আমেরিকার কত রকমের গবেষণা চলছে তার ইয়ত্তা নেই। কে কতটুকু খবর রাখতে পারে? সম্প্রতি একটি গবেষণার রিপোর্টের প্রতি আমার দৃষ্টি আকর্ষণ হয়েছে। গবেষণাটি টেলিভিশন দেখা নিয়ে। অরেগন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞানী অ্যালেক্সিস ওয়ার্কারের এ বিষয়ক একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে ‘জার্ণাল অব মেরেজ এ- দ্য ফ্যামিলি’ ম্যাগাজিনে। নিবন্ধে বলা হয়েছে, পুরুষরা টেলিভিশন দেখার সময় রিমোট কন্ট্রোল নিয়ন্ত্রণ করেন। বিবরণে বলা হয়, স্বামী-স্ত্রী একসাথে যখন টেলিভিশন দেখেন তখন বেশির ভাগ স্বামী রিমোর্ট কন্ট্রোল হাতে রেখে ইচ্ছেমতো চ্যানেল বদলাতে থাকেন।
জরীপে দেখা গেছে দুই তৃতীয়াংশ মহিলা এবং এক পঞ্চমাংশ পুরুষ বলেছেন যে, একসাথে বসে টেলিভিশন দেখা তাদের জন্য হতাশাব্যঞ্জক। মহিলারা অভিযোগ করেছেন, যখন একসাথে তারা টেলিভিশন দেখেন তখন স্বামী রিমোর্ট কন্ট্রোল হাতে নিয়ে, যখন খুশী চ্যানেল বদলাতে থাকেন এবং ভিডিও দেখার সময় ইচ্ছেমতো ফাষ্ট ফরোয়ার্ড করে দেন।
পুরুষরা বলেছেন, বিজ্ঞাপন শুরু হলে তারা এ কাজ করেন এবং এ সুযোগে অন্য কোন চ্যানেলে ভাল কিছু আছে কি না তা দেখে নেন। কেউ কেউ একই সাথে অনেকগুলো প্রোগ্রাম দেখে থাকেন বলে জানিয়েছেন।
জরীপে দেখা গেছে, টেলিভিশন দেখার সময় পুরুষরা রিমোর্ট কন্ট্রোলের যন্ত্রটি সর্বক্ষণ তাদের হাতে রাখেন, কেউ কেউ পকেটে রাখেন।
একজন মহিলা জানিয়েছেন, ১৭ বছর ধরে তিনি স্বামীর সাথে বসবাস করছেন কিন্তু মন ভরে আজ পর্যন্ত টেলিভিশন দেখতে পারেননি। যখনই কোন অনুষ্ঠান আগ্রহ নিয়ে দেখার চেষ্টা করেন তখন তার স্বামী চ্যানেল বদলিয়ে অন্য অনুষ্ঠান দেখার শুরু করেন। তার পর সে অনুষ্ঠানে মনোনিবেশ করলে স্বামীবর আবার অন্য চ্যানেলে চলে যান। তিনি এ বিষয়ে খুবই হতাশ। ওয়াকার জানিয়েছেন পুরুষরা এ বিষয়ে মোটেই চিন্তিত নন যে, মহিলারা কি পছন্দ করলো বা না করলো।
জিজ্ঞেস করা হয়েছিল কয়েকজন মহিলাদের যে, তারা তাদের পছন্দের অনুষ্ঠান তাহলে কিভাবে দেখেন? উত্তরে তারা জানিয়েছেন, একদিন আগে নোটিশ দেওয়া হয়। কেউ কেউ বলেছেন তারা রেকর্ড করে অনুষ্ঠান রেখে দেন এবং পরে সময় সুযোগ মতো দেখেন। মহিলারা আরও বলেছেন, সংসারে কত রকমের ঝামেলা আছে, ওগুলো সমাধান করতেই হিমসিম অবস্থা, যে জন্যে এটাকে কোন ইস্যু বলে তারা মনে করেন না।
সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে, স্বামীর অনুপস্থিতিতে সে দায়িত্ব পালন করে ঘরের বড় ছেলেটি। দেখা গেছে, বালক বালিকাদের মধ্যে বালকরাও পুরুষের ভূমিকা পালন করছে। আর এটা শিখছে তার পিতার কাছ থেকে। এ সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে অনেক পরিবারে তাই টেলিভিশনের দ্বিতীয় সেট কেনা হয়। ওয়াকার বলেছেন, তাঁর মাতা, তাঁর পিতার সাথে টেলিভিশন দেখবেন না বলে প্রতিজ্ঞা করেছেন। পিতা ইতিমধ্যে বড় একটা টেলিভিশন এনে ‘ডেন’ এ বসে একা একা দেখেন।
টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম এ- উইমেন ষ্টাডিজের প্রফেসর কে আরমাটেজও একই কথা বলেন। তিনি জানান যে, পুরুষরা সিনেমা হলে ছবি দেখতে গেলেও মহিলাদের চাইতে তাদের পছন্দকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। মহিলা যে ছবি পছন্দ করে পুরুষরা সে ছবি দেখতে আগ্রহ দেখায় না। কিন্তু পুরুষরা যে ছবি পছন্দ করে মহিলাদের সে ছবি দেখাতে বাধ্য করে।
কে কত ঘুমায়?
অতি সম্প্রতি লেজার মার্কেটিং সার্ভে নামে একটি প্রতিষ্ঠান ক্যানাডাব্যাপী এক জরীপ চালিয়ে তাদের রিপোর্ট প্রকাশ করে। রিপোর্টে দেখা যায়, ক্যুইবেকের লোকেরা কাজ করে কম এবং ঘুমায় বেশি। একই সাথে এও বলা হয় এ অঞ্চলের লোকেরা পড়াশোনা করে কম এবং শরীর গঠনে ক্যানাডার অন্যান্য অঞ্চলের চাইতে পেছনে পড়ে আছে। সার্ভে প্রতিষ্ঠানটি হিসাব দিয়েছে ক্যুইবেকের লোকেরা কাজ করে সপ্তাহে গড়ে ৩৮.৩ ঘন্টা যেখানে আটলান্টিকবাসীরা কাজ করে সপ্তাহে গড়ে ৪২.৭ ঘন্টা এবং অন্টারিওবাসীরা কাজ করে সপ্তাহে গড়ে ৪১.৭ ঘন্টা। ক্যুইবেকের লোকেরা গড়ে দৈনিক ৭.৩ ঘন্টা ঘুমিয়ে কাটায় যেখানে অন্টারিওবাসী ঘুমায় মাত্র ৬.৮ ঘন্টা। আর আটলান্টিকবাসীরা ঘুমায় ৭.১ ঘন্টা।
রিপোর্টে জানা যায়, ক্যুইবেকবাসীরা সপ্তাহে মাত্র ৭.৩ ঘন্টা পড়াশোনার পেছনে ব্যয় করে যেখানে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার লোকেরা ব্যয় করে ১১.৩ ঘন্টা। আর অন্টারিওবাসী ১০.৩ ঘন্টা এবং আটলান্টিকবাসীরা ৯ ঘন্টা ব্যয় করে। জরীপে আরও জানা যায়, ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার লোকেরা টিভি দেখে সবচে’ বেশি। তারা সপ্তাহে ১৪.২ ঘন্টা টিভির সামনে বসে থাকে। আর ক্যুইবেকের লোকেরা বসে থাকে ১৩.২ ঘন্টা। ১৫০০ লোকের উপর জরীপ চালিয়ে এ তথ্য পাওয়া যায়।
লটারীর দেশ ক্যানাডা। কত রকমের লটারী। লটারীর সংক্ষিপ্তকরণ হয়ে এখানে ‘লটো’। টরন্টোতে একমাত্র রোববার ছাড়া প্রতিদিনই লটারীর ড্র অনুষ্ঠিত হয়। বাঙালিদের মধ্যে খুব কম লোকই আছেন যারা লটো খেলেন না। তবে ক’জনের ভাগ্যে এই লটো জুটেছে জানি না। আমার জানা মতে কয়েকজন বাঙালি লটো জিতে মিলিওনিয়ারের খাতায় নাম লিখিয়েছেন। দশ ডলার, পঞ্চাশ ডলার অনেকেই পেয়ে থাকেন। আমিও পাই। এ পর্যন্ত সর্ব্বোচ্চ পেয়েছি এক হাজার ডলার।
লটো সকলেই শখে খেলেন। যদি লেগে যায়! বুধবার, শুক্রবার, শনিবার টিভিতে অথবা পরদিন পত্রিকায় ফলাফল দেখে একটা/দুটো নম্বর লাগলে পকেটে পুরেন, না লাগলে ছিঁড়ে ফেলে দেন। এ নিয়ে তেমন কারো মাথা ব্যাথা থাকে না। পেশাদারীভাবে লটো যে খেলা হয় সেটা জানলাম কিছুদিন আগে। লটো নিয়ে নাকি গবেষণা হচ্ছে। বাঙালিদের একটি গ্রুপ গত কয়েক বছর ধরে একাগ্রচিত্তে এ লটো গবেষণায় নিজেদের নিয়োজিত রেখেছেন। লটোর ইতিহাস তাদের মুখস্ত। বাজারে লটো সম্পর্কে প্রচুর বই-পত্রও আছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব লটো বিশেষজ্ঞরা নাকি দু’ডলার আর তিন ডলারের টিকেট কাটেন না। তারা ৮০/১০০, কোন কোন সময় গ্রুপ ভিত্তিক ২০০/৩০০ ডলারের টিকেট এক সাথে কাটেন। হয়তো অদূর ভবিষ্যতে তাদের এ গবেষণা কাজে লাগলে লাগতেও পারে। কামনা করি আমাদের কমিউনিটিতে মিলিওনিয়ারের সংখ্যা বাড়ুক। তবে লটো খেলোয়াড়রা যদি একটি মহৎ কজে তাদের প্রাপ্ত টাকা ব্যয় করবেন বলে মনস্থ করেন তবে ভাগ্যদেবতা দৃষ্টি সুপ্রসন্ন করলে করতেও পারেন।
প্রাসঙ্গিক দুটো মজার কাহিনী শুনুন-
এক লোক নিয়মিত লটো খেলেন। কিন্তু লাগে না। একবার লটোর টিকেট কেটে তিনি প্রতিজ্ঞা করলেন, ‘হে ঈশ্বর, এবার যদি তিন মিলিয়ান লেগে যায় কথা দিচ্ছি ২ মিলিয়ন তোমার কাজে অর্থাৎ মসজিদে দান করে দেবো। তুমি একটু সদয় হও। বিশ্বাস করো, আমি কথা রাখবো। আর একন্তই যদি তোমার বিশ্বাস না হয় তবে তোমার দুই মিলিয়ন রেখে আমার এক মিলিয়ন দিয়ে দাও।’
আরেকবার এক মহিলা তার ব্যবসায় লোকসান দিতে দিতে প্রচুর ঋণগ্রস্ত হয়ে ঈশ্বরকে ডাকতে শুরু করে। ‘হে ঈশ্বর, তুমি চাইলে আমাকে এ বিপদ থেকে উদ্ধার করতে পারো, কত লোককেইতো তুমি লটারি জিতিয়ে দাও, আমাকে এবার লটারিতে বিজয়ী করে দাও নইলে আমার ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে আর আমি অসহায় হয়ে যাবো।’ এর কিছুদিন পর তার ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়।
কিছুদিন পর আবার সে ঈশ্বরকে ডাকা শুরু করে। ‘হে ঈশ্বর এবার তুমি এবার আমাকে লটারিতে বিজয়ী না করলে আমার গাড়ি-বাড়ি সব যাবে।’ অতঃপর যথা সময়ে ব্যাংক তার গাড়ি-বাড়ির দখল বুঝে নিয়ে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। ভাড়া বাড়িতে উঠে এবার সে ঈশ্বরকে হুমকি দিয়ে ডাকতে লাগলো-‘হে ঈশ্বর, তুমি যদি এবার আমাকে লটারিতে বিজয়ী না করো তাহলে আমি আত্মহত্যা করবো।’ আকস্মিক একটি গায়েবি আওয়াজ শোনা গেলো: ‘মাগো, আগে একটা টিকেট কেনো, তারপর আমাকে ডাকো’।









