সম্পাদকের পাতা

গ্রাহাম বেলের আবিষ্কার

নজরুল মিন্টো

১৮৭৬ সালে ক্যানাডার আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল কর্তৃক টেলিফোন যন্ত্রটি আবিষ্কারের পর এ নিয়ে গবেষণার অন্ত নেই। এই একটি মাত্র যন্ত্র মানব সভ্যতাকে কতটুকু এগিয়ে নিয়ে গেছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আজ সভ্য পৃথিবীতে টেলি যোগাযোগ ছাড়া বসবাসের কথা মানুষ চিন্তা করতে পারেনা। আজ টেলিফোন না থাকলে অফিস-আদালত, ব্যাংক-বীমা থেকে শুরু করে প্রায় সকল ব্যবসা-বাণিজ্য অচল হয়ে যাবে।

১৮৭৬ সাল থেকে যাত্রা শুরুর পর থেকে আজ পর্যন্ত টেলি যোগাযোগ ক্ষেত্রের উন্নয়ন চিত্র লিখে শেষ করা যাবে না। তবে যেটুকু না বললে নয় তা হলো ১৯৭৩ সালে মটোরোলা কোম্পানীর ডক্টর মার্টিন কুপার ‘সেল ফোন’ আবিষ্কার করে আরো একটি নতুন দিগন্তের সূচনা করেন। আজ বিশ্বের প্রায় ৭ বিলিয়ন লোক সেল ফোন ব্যবহার করেন।

টেলিফোন আবিষ্কারের পর থেকে কেবলই মানুষের সুবিধার কথা চিন্তা করে বিভিন্ন পদ্ধতি এবং নানান উন্নয়ন চলে আসছে। তেমনি একটি সুবিধা হচ্ছে- ৯১১। পুলিশ, এম্বুলেন্স এবং ফায়ার ব্রিগেডকে ডাকতে এ নম্বর। উত্তর আমেরিকায় বসবাসকারী সকলেই জানেন ৯১১- এ কেন ডায়াল করতে হয়। ইমার্জেন্সী বা জরুরী নম্বর হিসেবে ৯১১-এর ইতিহাস যদিও বেশিদিন আগের নয়, তবে ইতিহাসবেত্তারা উল্লেখ করেন যে, টেলিফোনের আবিষ্কারকে গ্রাহাম বেল নিজেই প্রথম জরুরী কলটি করেন। জানা যায়, গ্রাহাম বেল তাঁর টেলিফোন যন্ত্রটি যেদিন পরীক্ষা করছিলেন সেদিন তিনি ইচ্ছে করে তাঁর সহকারীর উদ্দেশে টেলিফোনে বলেন, ‘মি. ওয়াটসন, এখানে আসো, আমি তোমাকে চাই’ তার এ বিখ্যাত উক্তিটি টেলিফোনের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ।

১৯৩৭ সালে জরুরী নম্বরের প্রথম প্রচলন ঘটে গ্রেট ব্রিটেন। তাদের নম্বরটি ছিল ৯৯৯। যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৫৭ সাল থেকে একটি জরুরী নম্বরের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সরকারের বিভিন্ন মহলে আলাপ-আলোচনার সূত্রপাত হলেও এর দশ বছরের বেশি সময়ের পর অর্থাৎ ১৯৬৮ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারী থেকে এর প্রচলন শুরু হয়। তিন ডিজিট কোড ৯১১ এখান থেকেই শুরু। উল্লিখিত এই তিন ডিজিট ইচ্ছাকৃত বা উদ্দেশ্যমুলভাবে নির্বাচিত করা হয়নি। যেহেতু ৯১১ তাদের কোন এরিয়া কোড কিংবা কোন গ্রাহকের টেলিফোন নম্বরের প্রথমাংশে ছিল না তাই এটা নির্বাচন করা হয়। উল্লেখ্য, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জরুরী নম্বরের প্রচলন আছে তবে সবগুলো ৯১১ নয়।

যেমন বেলজিয়ামে ৯০০, ডেনমার্কে ০০০, সুইডেনে ৮০০০০, জাপানে ১১৯, নিউজিল্যান্ডে ১১১ ব্যবহার করা হয়। কানাডায় সর্বপ্রথম জরুরী নম্বর প্রচলন হয় ১৯৫৯ সালে। ম্যানিটোবার রাজধানী উইনিপেগের পুলিশ ডিপার্টমেন্ট ৯৯৯ নম্বরটির ব্যবহার প্রথম শুরু করে। পরে ১৯৭২ সালে এটা পরিবর্তন করে ৯১১ করা হয়। কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আরও কিছু নম্বর জরুরী কাজের জন্য নির্দিষ্ট করা আছে। টরন্টোয় যেসব নম্বরে ডায়াল করে সেবা পাওয়া যায় সেগুলো হলো-কমিউনিটি সার্ভিসেস-২১১ (ডে কেয়ার সার্ভিস এবং নির্যাতিতা নারীদের সহযোগিতার জন্য সপ্তাহের সাতদিন ২৪ ঘন্টা এ নম্বরটির মাধ্যমে সেবা দেয়া হচ্ছে)। ডাইরেক্টরী সহযোগিতার জন্য ৪১১, যারা কানে কম শুনতে পান তাদের জন্য ৫১১, টেলিফোন মেরামতের জন্য ৬১১ ইত্যাদি। সর্বশেষ ৩১১ নম্বরটি টরন্টোসহ পাঁচটি নগরীর (টরন্টো, ক্যালগ্যারি, হ্যালিফ্যাক্স, গাটিনিউ এবং হালটন অঞ্চল) নন-ইমার্জেন্সী সার্ভিসেস-এর জন্য যোগ হয়েছে। রাস্তার লাইট নষ্ট হয়ে গেছে, বেসমেন্ট-এ পানি ঢুকছে, গার্বেজ বিন উপচে পড়েছে, পানির লাইন ফেটে গিয়েছে, ম্যানহোলের ঢাকনা উধাও, পোষা প্রাণী হারিয়ে গেছে, রাস্তার ধারে বা বাড়ির সামনে পরিত্যক্ত গাড়ি পড়ে আছে, কোলাহল বা হট্টগোল, বাড়ির দেয়ালে লিখন বা পোষ্টার লাগানো ইত্যাদি বিষয়ক অভিযোগ জানানোর জন্য এ নম্বরটি ব্যবহার হচ্ছে। আগে এসব ব্যাপারে নাগরিকরা সাধারণত ৯১১ ডায়াল করতেন এবং এতে এই নম্বরটির উপর অতিরিক্ত চাপ পড়তো।

যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৯৭ সাল থেকে বিভিন্ন শহরে ৩১১ নম্বরটির সেবা কার্যক্রম শুরু হয়। শিকাগো নগরী ১৯৯৯ সাল থেকে এ নম্বরটি ব্যবহার করে ইতিমধ্যে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে এবং এ বিষয়ে হারভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশেষ এওয়ার্ডও লাভ করে। শিকাগো এ নম্বরের মাধ্যমে ৫ শতাধিক বিভিন্ন ধরনের সার্ভিস প্রদান করছে এবং এ কাজে ৮৫ জন অপারেটরকে ট্রেনিং দিয়ে সার্বক্ষণিক সেবার জন্য তৈরি করা হয়েছে। যে কোন প্রশ্ন করলে তারা সঠিক জবাব এবং সঠিক বিভাগকে জানিয়ে দেয়। নাগরিকরা পরিবর্তীতে ঘটনার অগ্রগতি সম্পর্কেও জানতে পারেন। শিকাগোর ৩১১ নম্বরের ডাইরেক্টর টেড ওকিফি জানান, প্রায় ৬৫ ভাগ ফোন আসে বিভিন্ন তথ্য জানার জন্যে যা সাথে সাথে দেয়া হয়। প্রায় ২২ ভাগ ফোন আসে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে যার ১১ ভাগ আইন-শৃঙ্খলাজনিত; তবে জরুরী নয়। তিনি আরও জানান, এ নম্বরটি চালু হওয়ার পর ৯১১ এর উপর চাপ কমে গেছে এবং পুলিশ, এম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসেস খুবই দ্রুত নাগরিকদের জরুরী সেবা দিতে পারছে।

টেলিফোন ব্যবহার করারও নিয়ম আছে, আইন আছে। অতি সম্প্রতি অন্টারিও সরকার গাড়ি চালকদের জন্য নতুন একটি আইন প্রণয়ণ করেছে। এ আইনে বলা হয়েছে গাড়ি চালানোর সময় কেউ সেলফোন হাতে নিয়ে কথা বলতে পারবে না, টেক্সট মেসেজ অথবা ই-মেইলও করতে পারবে না। আইন অমান্যকারীকে ধরতে পারলে ৫০০ ডলার জরিমানা দিতে হবে। আইন করে টেক্সট মেসেজ কিংবা ইমেইল বন্ধ করা যেতে পারে। কিন্তু কথা কি বন্ধ করা যায়? ইতিমধ্যে নানান ধরনের যন্ত্রে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। আজকাল রাস্তায় বেরুলেই দেখা যায় অনেকের কানে ঝুলছে এক ধরনের যন্ত্র। একা একা কথা বলতে দেখে যে কেউ ভাবতে পারেন এদের স্ক্রু ঢিলা হয়ে গেছে বুঝি! না, এমন ভাববার কোন কারণ নেই; এরা সবাই ব্লু টুথ ব্যবহারকারী।


Back to top button
🌐 Read in Your Language