সম্পাদকের পাতা

লম্বা মানুষদের ক্লাব

নজরুল মিন্টো

সমস্যা সঙ্কুল পৃথিবী। সমস্যার অন্ত নেই। তারপরও জীবন চলে। একেকজনের একেক সমস্যা। এই যেমন টরন্টোর জেরি রোজ নামে এক মহিলার কথাই ধরা যাক। তার উচ্চতা ৬ ফুট ১ ইঞ্চি। এই উচ্চতাই তার কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল এক সময়। ১২ বছর বয়সেই সে এ উচ্চতা লাভ করে। অল্পবয়সী একটি মেয়ের এমন উচ্চতা সকলেরই দৃষ্টি আকর্ষণ করার কথা। তার সমস্যা ছিল বহুমুখী। দোকানে তার সাইজের পোশাক পাওয়া যেতো না, তাকে দেখলে সবাই তাকিয়ে দেখতো, দুই দরজা বিশিষ্ট গাড়িগুলোতে সে উঠতে পারতো না, সিনেমা কিংবা নাটক দেখতে এসে সামনে বসলে পেছনের লোকদের অসুবিধা হতো। বাজারে যেসব সাধারণ বিছানা পাওয়া যায় সেগুলো তার জন্য ছিল ছোট। ওয়াশ রুমে শাওয়ার ছেড়ে সে স্নান করতে পারতো না, এছাড়া স্কুলেও তার নানান রকম অসুবিধে হতো।

সমস্যা থাকলে তার সমাধানও থাকে। অবশেষে জেরিও সমাধান খুঁজে পেলো। সে টরন্টোর লম্বা মানুষদের ক্লাবে যোগদান করলো। প্রথম দিন ক্লাবে গিয়ে তার অনুভূতি ব্যক্ত করে সে বললো, ‘এখানে এসে আমি অত্যন্ত খুশী হলাম। লম্বা লম্বা মানুষগুলোকে দেখে মনে হলো আমিই বোধহয় এ ক্লাবের সবচে ছোট মানুষ। পরের বছর জেরিকে ‘মিস টল টরন্টো’র ক্রাউন পরিয়ে দেয়া হয়। এখন সে টরন্টোর টল ক্লাবের দূত হয়ে উত্তর আমেরিকার অন্যান্য ক্লাবগুলো ঘুরে বেড়াচ্ছে। তার বয়ফ্রে- হচ্ছে ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি লম্বা। সে ক্যালিফোর্নিয়ায় থাকে।

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় লম্বা মানুষদের ৬৫টি ক্লাব রয়েছে। ইউরোপে আছে ৫৫টি। টল ক্লাবের সদস্য হতে হলে তাদের নিম্নতম উচ্চতা হতে হবে মেয়েদের জন্য ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি এবং পুরুষদের জন্য ৬ফুট ২ ইঞ্চি। উল্লেখ্য, উত্তর আমেরিকার পুরুষদের গড় উচ্চতা হচ্ছে ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি এবং মহিলাদের গড় উচ্চতা হচ্ছে ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি।

আজ থেকে ৬০ বছর আগে অর্থাৎ ১৯৩৮ সালে ক্যালিফোর্নিয়াতে বিশ্বের প্রথম লম্বা মানুষদের ক্লাব গঠন করা হয়। টরন্টোর এ ক্লাবের বয়স এখন ৫০ বছর। ক্লাবের সদস্য সংখ্যা বর্তমানে একশতেরও বেশি।

ক্লাবের সবচেয়ে লম্বা মানুষটির উচ্চতা ৬ ফুট ৮ ইঞ্চি। প্রতি মাসে ক্লাবের একটি অনুষ্ঠান হয় সেখানে নাচ, গান, খেলাধুলাসহ মনোরঞ্জনের জন্য অনেক কিছু থাকে।

ব্যতিক্রমী এ ক্লাবের কর্মকান্ড শুনে অবাক হয়েছি। ক্লাবটি শুধু তাদের মনোরঞ্জনের আয়োজনেই ব্যস্ত থাকে না। তারা প্রতি সপ্তাহে পয়সা উঠিয়ে বিভিন্ন সংগঠনকে সাহায্য করে থাকে। শারিরীক অসুবিধে যাদের রয়েছে তাদের নানা ধরনের সাহায্য করা ছাড়াও তারা হাসপাতালে লম্বা মানুষদের সুবিধের জন্য অতিরিক্ত বিছানা কিনে দেয়।

লম্বা হওয়াটা একদিন যাদের জন্য বিড়ম্বনা ছিল, হতাশ ছিল তাদের অনেকেই এখন খুশী। ৩৩ বছর বয়স্কা জেরি নিজেই বললেন, ‘লম্বা মানুষ হতে পেরে আমি গর্বিত’।


Back to top button
🌐 Read in Your Language