এশিয়া

মিয়ানমারে অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে গুলিতে ৫২১ নিহত

নেপিডো, ০১ এপ্রিল – মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভ দমনে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে জান্তা সরকার। শুধু বিক্ষোভে গুলিই নয়, সীমান্তে বিমান হামলাও চালাচ্ছে সেনাবাহিনী। জান্তা বাহিনীর দমনপীড়ন বেড়ে যাওয়ায় মিয়ানমারে মার্কিন দূতাবাসে কর্মরত গুরুত্বপূর্ণ নন এমন কর্মীদের দেশটি ত্যাগ করতে নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত দুই মাসের অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে জান্তার সেনা-পুলিশের গুলিতে এ পর্যন্ত ৫২১ ব্যক্তি নিহত হয়েছে। গত কয়েক দিনে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনায় গতকাল বুধবার ভোরে মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করেছেন গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনকারীরা। খবর আলজাজিরা ও রয়টার্স অনলাইনের।

মিয়ানমারে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে গত ১ ফেব্রুয়ারি সেনাবাহিনী ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে দেশটিতে যে অভ্যুত্থানবিরোধী আন্দোলন চলছে, তাতে এরই মধ্যে অন্তত ৫২১ জন নিহত হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শনিবার দেশটি এক দিনে ১৪১ জনের মৃত্যুও দেখেছে।

আরও পড়ুন : এবার মিয়ানমার সীমান্ত বন্ধ করলো চীন

মিয়ানমারের ঘটনাবলি পর্যবেক্ষণকারী গোষ্ঠী অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স (এএপিপি) জানিয়েছে, মঙ্গলবারও দেশটিতে আট বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে। এদিন মিয়ানমারের বেশ কয়েকটি শহরে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী মিছিল করেছে।

এদিন মিয়ানমারের বিভিন্ন শহরে কারফিউ উপেক্ষা করে রাতভর মোমবাতি জ্বালিয়ে অভ্যুত্থানবিরোধী প্রতিবাদ করেছেন আন্দোলনকারীরা। বুধবার ভোরের দিকে অন্তত একটি এলাকায় জান্তাবিরোধী মিছিল হয়েছে। সেখানেও গুলি চালিয়েছে জান্তা বাহিনী।

এদিকে আন্দোলনকারীদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে কয়েক দিন ধরে মিয়ানমারের বিভিন্ন সীমান্তর্তী এলাকায় সেনাবাহিনীর সঙ্গে লড়াই তীব্রতর করেছে বিদ্রোহী কয়েকটি গোষ্ঠী। মিয়ানমারের ক্ষুদ্র জাতিসত্তা অধ্যুষিত একাধিক সীমান্ত এলাকায় বিশেষ করে কারেন বিদ্রোহীদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সংঘাত জোরদার হয়েছে। সংঘাতের মুখে সেখানকার লোকজন সীমান্ত অতিক্রম করছে।

থাইল্যান্ডের কাছে মিয়ানমারের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকাগুলোতে সক্রিয় বিদ্রোহী গোষ্ঠী কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন (কেএনইউ) জানিয়েছে, সরকারি বাহিনী তাদের ওপর বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

নিরস্ত্র মানুষের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধে চাপ সৃষ্টি করতে বিশ্বের দেশগুলোর প্রতি মিয়ানমারের সামরিক জান্তার সঙ্গে ‘সম্পর্ক ছিন্নের’ আহ্বান জানিয়েছে গোষ্ঠীটি। প্রাণ বাঁচাতে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে যাওয়া লোকজনকে সহযোগিতা করতে প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশ বিশেষ করে থাইল্যান্ডের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে তারা।

মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থান ও নৃশংসতার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিন্দা-সমালোচনা চলছে। মিয়ানমারের জান্তার ওপর নিষেধাজ্ঞাসহ নানাভাবে চাপ বাড়িয়ে চলছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।

মিয়ানমারে গণ-অসন্তোষের আশঙ্কায় মার্কিন দূতাবাসে কর্মরত গুরুত্বপূর্ণ নন এমন কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সে দেশ ত্যাগ করতে গতকাল নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের ওপর নৃশংসতার প্রতিবাদে মিয়ানমারের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস জান্তা সরকারের ওপর চাপ দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এসব সত্ত্বেও রক্তক্ষয় চালিয়ে যাচ্ছে সামরিক জান্তা বাহিনী।

সু চি ভালো আছেন : মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত নেতা অং সান সু চি ভালো আছেন। গতকাল বুধবার সু চির আইনজীবী এ তথ্য জানিয়েছেন। গত ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের নির্বাচিত এনএলডি সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। ওই সময় গৃহবন্দি করা হয় সু চিকে।

সু চির আইনজীবী মিন মিন সোয়ে টেলিফোনে জানিয়েছেন, সু চি ব্যক্তিগতভাবে তার আইনজীবীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চেয়েছেন। কিন্তু পুলিশের উপস্থিতিতে ভিডিও আলাপচারিতায় তিনি বিস্তারিত কিছু জানাতে চাননি।

মিন মিন বলেন, ‘সু চির স্বাস্থ্য ভালো দেখা গেছে, তার চামড়ার রং ভালো।’

আটকের দিনই সু চির বিরুদ্ধে ছয়টি রেডিও অবৈধভাবে আমদানি এবং করোনাভাইরাস প্রটোকল ভঙ্গের অভিযোগে মামলা করা হয়। এ ছাড়া সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে আরো দুটি মামলা করা হয়।

সু চির আইনজীবী জানিয়েছেন, এনএলডি নেতার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তার সবকটি ভুয়া ও পাতানো।

সূত্র : প্রতিদিনের সংবাদ
এন এইচ, ০১ এপ্রিল


Back to top button
🌐 Read in Your Language