জাতীয়

এলপিজি সিলিন্ডারের দাম না বাড়িয়ে নির্ধারিত মূল্য কার্যকরের কঠোর দাবি! ক্যাবের ৭ দফা বিস্ফোরক সুপারিশ

ঢাকা, ২৭ অক্টোবর – তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) মূল্য ও সংশ্লিষ্ট বিতরণ চার্জ না বাড়িয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যে ভোক্তাপর্যায়ে সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। আগামী বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সরকারি ও বেসরকারি এলপিজির মূল্যহার পরিবর্তনসংক্রান্ত প্রস্তাবের ওপর বিইআরসির গণশুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগেই কমিশনের কাছে এই স্পষ্ট দাবি জানিয়েছে ভোক্তা অধিকার রক্ষা নিয়ে কাজ করা দেশের শীর্ষ সংগঠনটি।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিইআরসির কাছে পাঠানো এক লিখিত মতামতের মাধ্যমে ক্যাব তাদের এই অবস্থান ও একগুচ্ছ সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তুলে ধরে।

বিদ্যমান মূল্যে বাজারে বিশৃঙ্খলা ও ভোক্তার অতিরিক্ত চাপ:

ক্যাবের মতে, বাজারে বর্তমানে বিইআরসি নির্ধারিত মূল্যই কার্যকর করা যাচ্ছে না। এমতাবস্থায় নতুন করে এলপিজির দাম বা পরিচালন চার্জ বাড়ানো হলে সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত ভোক্তাদের ওপর অসহনীয় আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে।

নথিতে ক্যাব উল্লেখ করে, গত ৪ অক্টোবর ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বহু এলাকায় সাধারণ ভোক্তাদের বিইআরসি নির্ধারিত দামের চেয়েও ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা অতিরিক্ত দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে হোম ডেলিভারির অজুহাতে পরিবহন খরচ ও মূল দাম আলাদা না দেখিয়ে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত দর বাস্তবায়নে সরকারের দুর্বলতা এবং সরবরাহব্যবস্থায় জবাবদিহির তীব্র ঘাটতির কারণেই এমনটি ঘটছে বলে মনে করে সংগঠনটি।

সিন্ডিকেট ও কৃত্রিম সংকটের তদন্তের দাবি:

পাইপলাইনের গ্যাসসুবিধাবঞ্চিত কোটি পরিবারের জন্য এলপিজি একটি অপরিহার্য জ্বালানি। খাদ্য, বাসাভাড়া, শিক্ষা ও চিকিৎসার খরচ সামাল দেওয়ার পর বাড়তি জ্বালানি খরচ মেটানো অধিকাংশ পরিবারের পক্ষে অসম্ভব।

ক্যাব অভিযোগ করে, আন্তর্জাতিক বাজারের অজুহাত বা সরবরাহের ঘাটতি দেখিয়ে সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ রাখা, গুদামে মজুত থাকা সত্ত্বেও পণ্য না ছাড়া এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পকেট কাটার খেলা চলছে। ক্যাব দাবি জানিয়েছে, এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কেবল খুচরা বিক্রেতা নয়, বরং বড় বড় আমদানিকারক, অপারেটর ও ডিস্ট্রিবিউটরদের ভূমিকাও নিরপেক্ষ তদন্তের আওতায় আনতে হবে।

আমদানিকারকদের দাবিকৃত জাহাজভাড়া ও ডলারের দর বৃদ্ধির যুক্তিগুলো অডিটেড হিসাবের মাধ্যমে যাচাই করার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে অযৌক্তিক কোনো ব্যয় ভোক্তার ওপর চাপানো না হয়।

বিইআরসির কাছে ক্যাবের ৭ দফা প্রধান সুপারিশ:

১. দাম ও চার্জ বৃদ্ধি বন্ধ: এলপিজির মূল দাম এবং সংশ্লিষ্ট কোনো প্রকার চার্জ বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন না করা।

২. নির্ধারিত দামে বিক্রি নিশ্চিত: বিইআরসি নির্ধারিত মূল্যে বাজারে সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রি নিশ্চিত করা।

৩. সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা: কৃত্রিম সংকট তৈরি ও অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের সঙ্গে জড়িত অপারেটর ও বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া।

৪. চার্জের যৌক্তিকতা যাচাই: চার্জ ও কমিশন বৃদ্ধির আবেদনের ক্ষেত্রে বাস্তব পরিচালন ও পরিবহন ব্যয় নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা।

৫. ব্যয়ের পৃথক হিসাব প্রকাশ: এলপিজির আমদানি, বোতলজাতকরণ ও বিতরণ ব্যয়ের পৃথক ও স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ করা।

৬. রসিদ ও মূল্যতালিকা বাধ্যবাধকতা: প্রতিটি রিটেইল শপ বা বিক্রয়কেন্দ্রে দৃশ্যমান মূল্যতালিকা টাঙানো ও বাধ্যতামূলক ক্রয়-রসিদ প্রদান নিশ্চিত করা।

৭. দ্রুত অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা: অতিরিক্ত দাম নেওয়া, কম ওজন বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণের জন্য সহজ প্ল্যাটফর্ম তৈরি এবং নির্দিষ্ট সময়ে সমাধান নিশ্চিত করা।

গণশুনানিতে কেবল আমদানিকারক বা ব্যবসায়ীদের অজুহাত না শুনে ভোক্তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে বিইআরসিকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ক্যাব।

এনএন/ ২৭ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language