মেঘনায় অবসান হচ্ছে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার! ইলিশ শিকারে নামছেন লক্ষ্মীপুরের ৫৪ হাজার জেলে

ঢাকা, ২৭ অক্টোবর – মা ইলিশ রক্ষা, জাটকা সংরক্ষণ ও উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে টানা ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে। আগামী ২৯ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ায় ফের রুপালি ইলিশ শিকারে মেঘনার বুকে নামার সুযোগ পাচ্ছেন জেলেরা। নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার সংবাদে লক্ষ্মীপুরের নিবন্ধিত ৫৪ হাজার জেলের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি। ঘাটে ঘাটে এখন সাজ সাজ রব—জাল বোনা, ট্রলার মেরামত ও আনুসঙ্গিক কাজ শেষ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৎস্যজীবীরা।
এর আগে গত ৮ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে শুরু হয়ে ২৯ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত রামগতির আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত মেঘনার ১০০ কিলোমিটার এলাকায় সব ধরনের মাছ ধরা, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও মজুতকরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
কঠোর অভিযান ও আইনি ব্যবস্থা:
নিষেধাজ্ঞার ২০ দিনে (৮ থেকে ২৭ অক্টোবর) রামগতির আলেকজান্ডার থেকে রায়পুরের হাজীমারা পর্যন্ত বিস্তৃত নদীপথে দিন-রাত অভিযান চালায় মৎস্য বিভাগের নেতৃত্বাধীন যৌথ টাস্কফোর্স। এই সময়ে মোট ২২৯টি অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আইন অমান্য করায় ১৫০ জন জেলেকে আটক করা হয়।
আটককৃতদের মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৭৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং ৭৭ জনকে মোট ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দায়ের করা হয়েছে ১০০টি নিয়মিত মামলা। অভিযানে সাড়ে ৪ টন ইলিশ, ২০টি নৌকা এবং প্রায় ৩৭ লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত ইলিশগুলো পরবর্তীতে স্থানীয় বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।
জেলেদের প্রস্তুতি ও সরকারি খাদ্য সহায়তা:
নিষেধাজ্ঞা চলাকালে জেলার নিবন্ধিত জেলেদের জন্য প্রতিজনকে ২৫ কেজি করে মোট ১ হাজার ১৫৩ মেট্রিক টন ভিজিএফ-এর চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে কিছু প্রত্যন্ত অঞ্চলের জেলেরা বরাদ্দকৃত চাল না পাওয়ার অভিযোগ করলেও ঘাটের মৎস্যজীবীদের অধিকাংশ জানান, প্রশাসনের শক্ত অবস্থানের কারণে তারা নদীতে নামেননি এবং সরকারি সহায়তা সময়মতো পেয়েছেন।
মজুচৌধুরীরহাট ও মতিরহাট ঘাটের জেলেরা আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান, অভিযান সফল হওয়ায় এবার নদীতে নামলেই ঝাঁকে ঝাঁকে বড় ইলিশ ধরা পড়বে। এতে ধারদেনা শোধ করে পরিবার নিয়ে একটু ভালোভাবে থাকার নতুন আশা দেখছেন তারা। আড়তদাররাও বেচাকেনার ঢাল সাজাতে প্রস্তুতি শেষ করছেন।
রেকর্ড ইলিশ উৎপাদনের আশা:
মজুচৌধুরীরহাট নৌ-পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. আবদুর রহমান জানান, মৎস্য বিভাগ, কোস্ট গার্ড ও প্রশাসনের যৌথ প্রচেষ্টায় প্রতিকূলতার মধ্যেও শতভাগ সফলভাবে অভিযান শেষ করা সম্ভব হয়েছে।
এদিকে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন জানান, বিগত দুই বছর নদীতে ইলিশের উৎপাদন কিছুটা কম হলেও এবার মা ইলিশ নিরবচ্ছিন্নভাবে ডিম ছাড়ার সুযোগ পাওয়ায় উৎপাদন অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। এ বছর লক্ষ্মীপুরে ২৫ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ২ হাজার মেট্রিক টন বেশি।
এনএন/ ২৭ অক্টোবর ২০২৬







