মিশিগানের সিনেট প্রার্থী এল-সাইদকে নিয়ে ট্রাম্পের মুসলিমবিদ্বেষী আক্রমণ

ওয়াশিংটন, ২৬ অক্টোবর-মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী আবদুল এল-সাইদকে ঘিরে মুসলিমবিদ্বেষী আক্রমণ আরও জোরালো করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এমন কথাও বলেছেন, এই প্রগতিশীল চিকিৎসক নির্বাচনে জিতলে ক্রিসমাস বাতিল হয়ে যাবে।
রোববার ট্রাম্প মিশিগানের পোর্ট হুরন শহরে যান। আগামী ৩ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচন। এর আগে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থন জানাতেই তাঁর এই সফর। প্রায় দুই ঘণ্টার বক্তৃতায় কয়েকশ সমর্থকের সামনে কথা বলেন তিনি। বক্তৃতার বড় অংশজুড়ে ছিল মিশিগানের সিনেট নির্বাচন। আল জাজিরার ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প এল-সাইদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছেন। এর মধ্যে তাঁকে ‘জিহাদি’ বলার অভিযোগও রয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘সিনেটে ঢোকার আগে মেটাল ডিটেক্টরের ভেতর দিয়ে যেতে হবে, এমন একমাত্র সিনেটর হবেন তিনি। আমি চাই, তাঁর জন্য মেটাল ডিটেক্টর থাকুক।’
এই নির্বাচন রিপাবলিকানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মিশিগানের সিনেট আসনটি শূন্য হচ্ছে। সেখানে এল-সাইদের প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স। সিনেটে মোট আসন ১০০টি। বর্তমানে ৫৩টি আসন নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে রিপাবলিকানদের। এ বছর মাত্র ৩৫টি আসনে নির্বাচন হবে। অবসরে যেতে যাওয়া ডেমোক্রেটিক সিনেটর গ্যারি পিটার্সের আসনটি রজার্স জিতলে ডেমোক্রেটদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠবে। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে হলে তাঁদের আরও পাঁচটি আসন দখল করতে হবে।
আল জাজিরা জানিয়েছে, কয়েক দিন ধরেই ট্রাম্প এল-সাইদের মুসলিম পরিচয় নিয়ে আক্রমণ করে আসছেন। এর আগে তিনি এল-সাইদের নাম ভুলভাবে ‘মোহাম্মদ’ বলেও উল্লেখ করেছিলেন। রোববার তিনি এই আক্রমণ আরও বাড়িয়ে দেন।
বক্তৃতায় ট্রাম্প মিথ্যা অভিযোগ করেন, এল-সাইদ যুক্তরাষ্ট্রে শরিয়া আইন চালু করতে চান। তিনি বলেন, ‘তাই আবদুল… চায় আমাদের দেশ শরিয়া আইনের দিকে যাক। সে যদি কখনো তা করতে পারে, তাহলে তার বিচার সবার আগে হওয়া উচিত। আমি সাক্ষী হব।’
সমাবেশে এল-সাইদের নাম উচ্চারণ করা হলেই উপস্থিত কয়েকজন চিৎকার করে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলছিলেন। ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি এসেছি এক জিহাদি মুসলিম ব্রাদারহুড সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর হওয়া থেকে ঠেকাতে।’
এল-সাইদ যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী নাগরিক। তিনি স্বাস্থ্য বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা। তিনি সংবিধান রক্ষার শপথ নিয়েছেন। তিনি কখনো মুসলিম ব্রাদারহুড বা অন্য কোনো বিদেশি সংগঠনের সদস্য ছিলেন, এমন কোনো প্রমাণ নেই।
২০১৬ সালের নির্বাচনের সময় থেকেই ট্রাম্প মুসলিমবিদ্বেষকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। ২০১৫ সালে প্রথম নির্বাচনী প্রচারের শুরুর দিকে তিনি বলেছিলেন, তিনি ‘মুসলিমদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার’ পক্ষে। এর দুই বছরেরও কম সময় পর প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন। ওই আদেশে কয়েকটি মুসলিমপ্রধান দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা হয়। এটি ‘মুসলিম নিষেধাজ্ঞা’ নামে পরিচিতি পায়। তবে সেই আদেশ বেশিদিন কার্যকর থাকেনি।
রোববার ট্রাম্প আবারও মুসলিম অভিবাসন নিয়ে ভীতি ছড়ানোর চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, ‘আবদুল আর ডেমোক্রেটরা জিতলে তারা বন্যার বাঁধ খুলে দেবে। আমাদের তীরে ডেকে আনবে জিহাদিদের দল। সহিংসতা আর সন্ত্রাসের এমন দুঃস্বপ্ন তৈরি হবে যে ক্রিসমাসটাও আপনারা উদযাপন করতে পারবেন না।’
এল-সাইদ এর আগে বেশির ভাগ সময় এসব আক্রমণকে ‘মনোযোগ ঘোরানোর’ চেষ্টা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোই তাঁর মূল লক্ষ্য। এর মধ্যে রয়েছে জীবনযাত্রার খরচ কমানো এবং স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানো।
এস এম/ ২৬ অক্টোবর ২০২৬







