পর্তুগাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বড় শাস্তি: ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা ও জরিমানার মুখে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

লিসবন, ২০ অক্টোবর – কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে তীব্র মনোমালিন্য এবং জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে শাস্তি পেলেন পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের (এফপিএফ) শৃঙ্খলা কমিটি তাকে ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা এবং ২৫৫ ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৫,৩৮৩ টাকা) জরিমানা করেছে।
পুরো ঘটনার নেপথ্যে যা ঘটেছিল
গত সেপ্টেম্বরে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের সময় কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে রোনালদোর দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়।
কথা না শোনার অভিযোগ: কোচ তাকে দ্বিতীয়র্ধে মাঠে নামানোর জন্য ওয়ার্মআপ করতে বললেও তিনি তা করেননি এবং পুরো ম্যাচেই বেঞ্চে বসে ছিলেন।
ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়া: এরপর গত ১ অক্টোবর ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় ম্যাচ শুরুর ঠিক একদিন আগেই হুট করে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ: পরবর্তীতে এক দীর্ঘ বিবৃতিতে রোনালদো অভিযোগ করেন, কোচ দুবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার কারণে তিনি চরম বিশ্বাসভঙ্গের শিকার হয়ে ক্যাম্প ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
নিষেধাজ্ঞার প্রভাব ও বর্তমান পরিস্থিতি
এফপিএফ সূত্রে জানা গেছে, ডেনমার্ক ম্যাচের দিন থেকেই রোনালদোর এই ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। যার ফলে এরই মধ্যে নিষেধাজ্ঞার ১৯ দিন পার হয়ে গেছে। সুখবর হলো, এই সময়ের মধ্যে পর্তুগালের কোনো ম্যাচ না থাকায় মিস করার কোনো শঙ্কা নেই। আগামী ১৪ নভেম্বর নেশনস লিগে ডেনমার্কের বিপক্ষে এবং ১৭ নভেম্বর ওয়েলসের বিপক্ষে মাঠে নামতে কোনো বাধা নেই তার।
শাস্তি কমার কারণ ও ক্ষমা প্রার্থনা
পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের শৃঙ্খলা কমিটি জানিয়েছে, শাস্তি দেওয়ার সময় রোনালদোর বিবৃতি এবং তার অনুশোচনার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে।
রোনালদো নিজের আত্মপক্ষ সমর্থনে তার বর্ণাঢ্য ফুটবল ক্যারিয়ারের অর্জন ও পুরস্কারের একটি জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছিলেন।
পাশাপাশি তিনি নিজের কৃতকর্মের দায় স্বীকার করে সতীর্থ ও ভক্তদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে নিজের শাস্তি নিজেই দাবি করেছিলেন।
জাতীয় দলে ফেরার দুয়ার খোলা
ঘটনার পর কোচ জর্জ জেসুস কোনো ধরনের প্রতিশ্রুতির কথা অস্বীকার করলেও জাতীয় দলে রোনালদোর ফেরার দরজা খোলা রেখেছেন। এছাড়া এফপিএফ প্রেসিডেন্ট পেদ্রো প্রোয়েনকা জানিয়েছেন, খুব দ্রুতই অভ্যন্তরীণ এই সংকটের অবসান ঘটিয়ে সিআর সেভেনকে জাতীয় দলে ফেরানোর ‘প্রবল ইচ্ছা’ রয়েছে তাদের।
পর্তুগালের জার্সিতে ২৩৪ ম্যাচে ১৪৬ গোলের বিশ্বরেকর্ড গড়া এই মহাতারকা দলের ২০১৬ সালের ইউরো ও দুইবারের নেশনস লিগ জয়ের মূল কারিগর। ভক্তরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন মাঠের ফুটবলে তার স্বমহিমায় প্রত্যাবর্তনের।
এনএন/ ২০ অক্টোবর ২০২৬







