মক্কায় ‘অনৈতিক’ কাজের দায়ে ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, আগে থেকে জানত না ঢাকা

ঢাকা, ১৬ অক্টোবর – সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীর একটি মসজিদ এলাকায় অনৈতিক ও অশালীন কাজে লিপ্ত থাকার নজিরবিহীন অপরাধে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। তবে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পূর্বে এ বিষয়ে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানানো হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সূত্র জানায়, সৌদি সরকারি সংবাদ সংস্থা এসপিএ (SPA) এবং গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পরই বিষয়টি তাদের নজরে আসে। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ঘটনার বিস্তারিত তথ্য ও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চেয়ে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জরুরি চিঠি পাঠিয়েছে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের পরিচয় ও মামলার বিবরণ:
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা: নজরুল ইসলাম এবং সুইটি আখতার নামের দুই বাংলাদেশি নাগরিক।
যে অপরাধে দণ্ড: মক্কার পবিত্র মসজিদ প্রাঙ্গণে অনৈতিক ও অশালীন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে সৌদি নিরাপত্তা বাহিনী তাদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে।
শরীয়াহ আইনে ‘তাআজির’ সাজা: স্থানীয় আদালতে প্রাথমিক তদন্ত ও বিচার শেষে শরীয়াহ আইনের ‘তাআজির’ (বিচারকের বিশেষ স্বেচ্ছাধীন কঠোর শাস্তি) বিধান অনুযায়ী আদালত তাদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। পবিত্র মসজিদের ভাবমূর্তি ও পবিত্রতা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করায় বিচারক সর্বোচ্চ এই শাস্তির নির্দেশ প্রদান করেন।
রাজকীয় আদেশে কার্যকর: পরবর্তীতে উচ্চতর বিচারিক কর্তৃপক্ষ ও রাজকীয় আদেশে রায় বহাল ও চূড়ান্ত অনুমোদনের পর সম্প্রতি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
ভিয়েনা কনভেনশন ও কূটনৈতিক জটিলতা:
কনস্যুলার নোটিফিকেশনের অনুপস্থিতি: ‘ভিয়েনা কনভেনশন অন কনস্যুলার রিলেশনস’-এর ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো বিদেশি নাগরিক গ্রেপ্তার হলে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসকে জানানো ও কনস্যুলার সহায়তার নিয়ম রয়েছে। তবে এই মামলায় আসামিরা কনস্যুলার সহায়তার জন্য অনুরোধ করেছিলেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
দোভাষী দিয়ে বিচারপ্রক্রিয়া: জানা গেছে, জেদ্দার আদালতে কয়েক মাস ধরে চলা এই স্পর্শকাতর বিচারপ্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের দুজন বিশিষ্ট নাগরিক দোভাষী হিসেবে আদালতকে সহযোগিতা করেছিলেন।
“পবিত্র স্থানের নিরাপত্তা রক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ধর্মীয় পবিত্রতা লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম শরীয়াহ আইন কার্যকর করতে সৌদি সরকার সম্পূর্ণ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।” — সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল বিবৃতি।
কূটনৈতিক অঙ্গনে চরম আলোচনা
পবিত্র স্থানে এমন নজিরবিহীন অপরাধ এবং পূর্বাভাস ছাড়া দুই প্রবাসীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও কূটনৈতিক অঙ্গনে চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সৌদি সরকারের কনস্যুলার বার্তার অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট দপ্তর।
এনএন/ ১৬ অক্টোবর ২০২৬







