জাতীয়

আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে ৫ ধাপে ইউপি নির্বাচন, ইভিএম যুগের অবসান

ঢাকা, ১২ অক্টোবর – সারাদেশে স্থানীয় সরকারের ভিত্তি হিসেবে পরিচিত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে বাজতে চলেছে ভোটের বাদ্য। আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে ২৭ মে’র মধ্যে সারা দেশে প্রায় ৪,৩০০টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করার চূড়ান্ত পরিকল্পনা ও দিনক্ষণ গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই নির্বাচনী মহাযজ্ঞ পরিচালনা করা হবে মোট পাঁচটি ধাপে, এবং প্রতিটি ধাপের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে সপ্তাহের একই দিন—বৃহস্পতিবার।

সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশনের ১৩তম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে সিদ্ধান্তগুলো তুলে ধরেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাত ১৭ জানুয়ারি নির্ধারিত থাকা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতিমূলক অনুরোধ বিবেচনা করেই প্রথম ধাপের ভোট ২১ জানুয়ারিতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এক নজরে ইউপি নির্বাচনের ৫টি ধাপের সময়সূচি

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাঁচ ধাপের ভোটের দিনক্ষণ নিচে তুলে ধরা হলো:

  • প্রথম ধাপ: ২১ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার), জেলা সদরের উপজেলা ও মেয়াদোত্তীর্ণ (ওভারডিউ) ইউপি
  • দ্বিতীয় ধাপ: ৪ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার), বর্ণানুক্রমিক ও সময়ভিত্তিক সমন্বিত ইউপিসমূহ
  • তৃতীয় ধাপ: ২৯ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার), নির্ধারিত পরবর্তী তফসিলভুক্ত ইউপিসমূহ
  • চতুর্থ ধাপ: ১৩ মে (বৃহস্পতিবার), নির্ধারিত পর্যায়ক্রমিক ইউপিসমূহ
  • পঞ্চম ও শেষ ধাপ: ২৭ মে (বৃহস্পতিবার), চূড়ান্ত পর্যায়ের বাকি থাকা সকল ইউপি

“কোনো একক অঞ্চলকে আলাদা না করে দেশের সব জেলায় একযোগে কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে আঞ্চলিক ভারসাম্য বজায় থাকবে। ভোটগ্রহণের নির্দিষ্ট তারিখের প্রায় ৬ সপ্তাহ (৩৮ থেকে ৪৫ দিন) আগে সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা নিজস্ব এলাকার তফসিল প্রকাশ করবেন।” — ইসি সানাউল্লাহ

নির্বাচন কমিশনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত

কমিশনের এই বৈঠক থেকে কেবল ইউপি ভোটের দিনক্ষণই আসেনি, বরং নির্বাচন পরিচালনা ও প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনায় একাধিক সংস্কারমূলক সিদ্ধান্তের কথা জানা গেছে:

১. ইভিএম বাদ ও সরঞ্জাম দ্রুত ডিসপোজাল

নির্বাচনে আর কোনো অবস্থাতেই ইভিএম (EVM) ব্যবহার না করার আগের সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা ইভিএম মেশিনের জটিলতা নিরসনে দুদকসহ বিভিন্ন আইনি প্রমাণের (Evidence) জন্য প্রয়োজনীয় অংশ রেখে বাকি সব সরঞ্জাম দ্রুততম সময়ে ডিসপোজাল বা ধ্বংস ও নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে ইসি।

২. মৃত ভোটারদের বাদ দিতে নতুন প্রযুক্তি (পাইলট প্রজেক্ট)

বর্তমানে মৃত ভোটারদের বাদ দিতে স্বজনদের ১২ নম্বর ফর্ম পূরণের জটিল নিয়ম থাকায় অসচেতনতাবশত বহু মৃত ব্যক্তির নাম তালিকায় থেকে যায়। এই প্রক্রিয়াকে সহজ করতে সরকারি অন্যান্য তথ্যভিত্তিক সোর্স ব্যবহার করে অটোমেটিক্যালি নাম বাদ দেওয়ার প্রস্তাব আনা হয়েছে, যা প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে (Pilot Project) নির্দিষ্ট কিছু উপজেলা ও ইউনিয়নে চালু করা হবে।

৩. নভেম্বর থেকেই স্মার্টকার্ডের পুর্ণাঙ্গ প্রিন্টিং

এনআইডি অনুবিভাগের পার্সোনালাইজেশন সেন্টারের অডিট আপত্তি ও প্রশাসনিক সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আগামী নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই পূর্ণ সক্ষমতায় (Full Capacity) স্মার্টকার্ড প্রিন্টিং ফের শুরু হবে।

৪. জাতীয় নির্বাচন পদক নীতিমালা ২০২৫

বৈঠকে ‘জাতীয় নির্বাচন পদক নীতিমালা ২০২৫’-এর একটি খসড়া উপস্থাপন করা হলেও কমিশন সদস্যরা ব্যক্তিগতভাবে সেটি আরও পর্যালোচনা করে দেখার পরামর্শ দেওয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মুলতবি রয়েছে।

শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও নিরপেক্ষতার প্রত্যাশা

আইনশৃঙ্খলা ও সুষ্ঠু ভোট পরিচালনা প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানিয়েছে, সংঘাতময় রাজনৈতিক সংস্কৃতির দিকে বাংলাদেশ আর ফিরবে না। বিগত জাতীয় নির্বাচনের মতো তৃণমূলের এই নির্বাচনেও অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে কমিশন।

এনএন/ ১২ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language