বিচিত্রতা

বিয়ের পাত্র চেয়ে গুগল ফর্মে পোস্ট!: ২৪১ আবেদন ও দেড় হাজার মেসেজে তোলপাড়

ডেটিং অ্যাপের ভুয়া অ্যাকাউন্ট, বন্ধুদের দেওয়া ব্যর্থ রেফারেন্স কিংবা একের পর এক তিক্ত অভিজ্ঞতা—সবকিছুতে চরম হতাশ হয়ে অবশেষে জীবনসঙ্গী খুঁজে পেতে একদম অভিনব পন্থা বেছে নিয়েছেন এক মার্কিন তরুণী। পাত্রের সন্ধান চেয়ে নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ‘হাজব্যান্ড অ্যাপ্লিকেশন’ (Husband Application) নামক গুগল ফর্ম তৈরি করে শেয়ার করেছেন তিনি!

যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনার শার্লট শহরের বাসিন্দা ৩৬ বছর বয়সী এই নারীর নাম এরিন প্যাটারসন। নিউইয়র্ক পোস্টের (New York Post) এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এরিনের এই ডিজিটাল ‘পাত্র চাই’ বিজ্ঞপ্তি নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পরপরই তৈরি হয়েছে তোলপাড়।

২৪১টি পূর্ণাঙ্গ আবেদন ও ১৫০০ মেসেজের ঝড়!

মনের মতো মানুষ খুঁজে পেতে কোনো চেষ্টারই কমতি রাখেননি এরিন। তবে একটি গুগল ফর্ম যে তাঁর জীবনে এমন বড় ঝড় তুলবে, তা তিনি নিজেও হয়তো ভাবেননি। ফর্মটি পোস্ট করার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আবেদন জমা পড়েছে প্রায় ২৪১টি পূর্ণাঙ্গ গুগল ফর্ম এবং প্রায় ১,০০০ থেকে ১,৫০০টি পাত্রের সরাসরি মেসেজ।

কী কী শর্ত জুড়ে দিয়েছেন পাত্রী?

কেবল বাহ্যিক রূপ কিংবা ভালো চাকরি নয়, সম্ভাব্য জীবনসঙ্গীর মন-মানসিকতা ও পারিবারিক চিন্তাভাবনা স্পষ্ট জানাই ছিল এরিনের মূল উদ্দেশ্য। তাই ফর্মে নাম, বয়স ও ফোন নম্বরের বাইরেও ছিল নানা প্রশ্নের দীর্ঘ তালিকা:

এরিনের ফর্মে যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও শর্ত চাওয়া হয়েছে:

  • বয়স ও ধর্মীয় পরিচয়: পাত্রের বয়স অবশ্যই ২৮ থেকে ৪৭ বছরের মধ্যে হতে হবে এবং তাঁকে হতে হবে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী।
  • পারিবারিক ও বৈবাহিক অবস্থান: পাত্রকে অবিবাহিত হতে হবে এবং দ্রুত বিয়ে করে সংসার ও সন্তান নিয়ে স্থায়ী জীবনযাপনে আগ্রহী হতে হবে।
  • ব্যক্তিত্বের মানদণ্ড: কফি বা ডিনার ডেটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গল্পগুজব করার মতো সুদর্শন, বুদ্ধিমান, দয়ালু, বিশ্বস্ত ও উদার স্বভাবের পুরুষই তাঁর পছন্দ।
  • মনস্তাত্ত্বিক প্রশ্ন: কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে দীর্ঘ সময় আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার দক্ষতা আছে কি না—সে বিষয়েও জানতে চাওয়া হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া

এরিনের এই উদ্যোগ সোশ্যালের নিউজফিডে আসতেই ছড়িয়ে পড়েছে হু হু করে। নেটিজেনদের একটি অংশ তাঁর এই উদ্ভাবনী ও খোলামেলা উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলছেন, “সময় নষ্ট না করে আগেভাগেই জীবনের প্রত্যাশা স্পষ্ট করাটা বেশ বুদ্ধিমত্তার পরিচয়।”

অন্যদিকে, অনেকেই আবার এটিকে ডেটিংয়ের নামে ‘করপোরেট ইন্টারভিউ’ বলে রসিকতায় মেতেছেন। তবে সমালোচনা বা ঠাট্টা যাই হোক না কেন, জীবনের সেরা ‘আবেদনপত্রটি’ বাছাই করে দ্রুতই নিজের রাজপুত্রকে খুঁজে পাবেন বলে আশাবাদী এরিন!

এনএন/ ০২ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language