কারো চাপে অনুসন্ধান নয়! আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে তদন্ত নিয়ে দুদকের বিস্ফোরক তথ্য

ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর – অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও এনসিপি নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে আনীত দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান কোনো রাজনৈতিক চাপ বা প্রভাবে করা হচ্ছে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটি একটি স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে ও আইনানুগ উপায়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলেও নিশ্চিত করেছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুদক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন সংস্থাটির সচিব মো. সাইদুর রহমান খান।
দুদক সচিবের মূল বক্তব্য ও ব্যাখা
রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত অনুসন্ধান: আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে তদন্ত কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে বা রাজনৈতিক নির্দেশে হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব স্পষ্ট করেন, “দুদক একটি স্বায়ত্তশাসিত স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। আমরা কারও দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাজ করছি না। আমরা ন্যায়নিষ্ঠার সঙ্গে আইনানুগভাবে সব কার্যক্রম পরিচালনা করছি।”
পেন্ডিং ফাইল ও ধারাবাহিকতা: কমিশন দীর্ঘ পাঁচ মাস না থাকায় বহু অভিযোগ পেন্ডিং ছিল উল্লেখ করে সচিব বলেন, নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা টার্গেট ধরে অভিযান হচ্ছে না। তালিকা অনুযায়ী জমে থাকা বিষয়গুলো ক্রমান্বয়ে অনুসন্ধান করা হচ্ছে। সামনে আরও বহু হাই-প্রোফাইল ফাইল প্রকাশ করা হবে।
অন্যান্য উপদেষ্টাদের প্রসঙ্গ: অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যান্য উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ অনুসন্ধান হবে কি না জানতে চাওয়া হলে সচিব জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এলে আইনের চোখে সবাই সমান এবং অভিযোগ থাকলে প্রমানসাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাবেক মন্ত্রী রুহুল হক ও মেয়র আ জ ম নাসিরের বিরুদ্ধে মামলা
আসিফ মাহমুদের প্রসঙ্গের পাশাপাশি সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক ও তার ছেলে জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে প্রায় ১৪ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুটি পৃথক মামলা এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের বিষয়সংক্রান্ত তথ্য ব্রিফিংয়ে তুলে ধরা হয়।
উল্লেখ্য, গতকাল রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) এনসিপি নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বিদেশে বিপুল পরিমাণ (প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা) অর্থ পাচারের অভিযোগ পর্যালোচনা ও অনুসন্ধানের তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছিল দুদক।
এনএন/ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬







