জাতীয়

দুদকের অনুসন্ধানের বিরুদ্ধে আসিফ মাহমুদের বিস্ফোরক সংবাদ সম্মেলন

ঢাকা, ০৯ সেপ্টেম্বর – দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাম্প্রতিক অনুসন্ধানকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানি ও ভয় দেখানোর প্রক্রিয়ার অংশ বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তার দাবি, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে বদলি-সংক্রান্ত যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা শতভাগ মিথ্যা এবং এটি কেবল তার ও তার পরিবারের চরিত্রহননের উদ্দেশ্যে পরিচালিত একটি ‘মিডিয়া ট্রায়াল’।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে দুদকের আনা সব অভিযোগ খণ্ডন করে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন তিনি।

দুদকের ভুল টাইমিং ও নথিপত্র প্রকাশ

আসিফ মাহমুদ স্পষ্ট তথ্য ও নথি সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরে অভিযোগের মূল ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন:

পদত্যাগের সঠিক হিসাব: তিনি জানান, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে তা গৃহীত হয়।

বিএনপি সরকারের মেয়াদের ঘটনা: স্পেসিফিক যে অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা তিনি পদত্যাগ করার দুই মাসেরও বেশি সময় পর এবং বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার তিন মাস পর ঘটেছে।

বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের তাগিদ: তিনি জোর দিয়ে বলেন, যদি কোনো অনিয়ম হয়েই থাকে, তবে দুদককে অনুসন্ধান করতে হবে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে, তার বিরুদ্ধে নয়। জাস্ট তারিখগুলো দেখলেই দুদক বুঝতে পারত যে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অহেতুক।

‘মিডিয়া ট্রায়াল’ ও দলীয় কায়দায় দুদক পরিচালনার অভিযোগ

সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন যে, ফ্যাসিবাদী আমলের মতোই আবার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের চক্রান্ত শুরু হয়েছে:

দুদকের সংস্কার বাতিল: অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গঠিত দুদকের সংস্কার অধ্যাদেশ বাতিল করে বিএনপি সরকার দলীয় কায়দায় নতুন কমিশন গঠন করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

মুখপাত্রের বিতর্কিত ভূমিকা: দুদকের মুখপাত্র জনসমক্ষে তার বিরুদ্ধে ‘প্রাথমিক সত্যতার’ খবর ছড়িয়ে মানহানি করার পর, তা প্রকাশ্যভাবে প্রত্যাহার না করে একটি গোপনীয় হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে প্রত্যাহার করেছেন, যা পুরোপুরি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

হুমকি বনাম আলটিমেটাম: তিনি জানান, সংস্থাকে তিনি কোনো হুমকি দেননি; বরং মুখপাত্রের করা মারাত্মক ভুলের কারণে নাগরিক হিসেবে মানহানি হওয়ায় ব্যক্তিগতভাবে তাকে আলটিমেটাম দিয়েছিলেন।

‘সারা বছর কেন আলোচনায়?’ আসিফ মাহমুদের ব্যাখ্যা

সারা বছর তার বিরুদ্ধে কেন নিয়মিত অভিযোগ ওঠে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, সরকারে থাকা অবস্থায় তাকে সাধারণ মানুষের স্বার্থে বড় বড় কিছু বোল্ড সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। জনস্বার্থে নেওয়া সেসব সিদ্ধান্তের কারণে দেশের অনেক ক্ষমতাশালী ব্যক্তিবর্গের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে তাকে। বর্তমানে সেই সব শক্তিশালী মহল তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছে এবং তাকে ও তার পরিবারকে মানহানি করতে একের পর এক মিথ্যা অভিযোগ তুলে আনছে।

এনএন/ ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Back to top button