এশিয়া

নৌবাহিনীকে পারমাণবিক অস্ত্রসজ্জিত করার ঘোষণা কিম জং উনের

কিম জং উন

পিয়ংইয়ং, ৭ সেপ্টেম্বর – উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন তার দেশের নৌবাহিনীকে পারমাণবিক অস্ত্রসজ্জিত এক অপরাজেয় বাহিনীতে রূপান্তরের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর চলমান যৌথ সামরিক মহড়ার মধ্যেই সোমবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে কিমের এই ঘোষণা প্রকাশিত হয়।

জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই মহড়াটি মূলত ২০২৩ সালে শুরু হয়েছিল। কর্মকর্তাদের মতে, পিয়ংইয়ংয়ের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় এটি একটি যৌথ পদক্ষেপ। সরকারি বার্তা সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, রবিবার ওনসান বন্দর নগরীতে কাং কন নামক যুদ্ধজাহাজটি আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবহরে যুক্ত করার সময় কিম এই মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে কিম বলেন, আমাদের নৌবাহিনীকে পারমাণবিক অস্ত্রসজ্জিত বাহিনীতে উন্নীত করার মাধ্যমে এমন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে যাতে প্রকৃত যুদ্ধের প্রয়োজনে পারমাণবিক ব্যবস্থাগুলো বহুমুখী ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যায়। তিনি আরও বলেন, যেকোনো সময় নির্দেশ পাওয়া মাত্রই এই নতুন প্রজন্মের যুদ্ধজাহাজটি শত্রুর ওপর মারাত্মক পাল্টা আঘাত হানতে সক্ষম হবে কারণ এটি রাষ্ট্রের পারমাণবিক পাল্টা ব্যবস্থা বা নিউক্লিয়ার কাউন্টার অ্যাকশন সিস্টেমের একটি অংশ।

প্রকাশিত ছবিতে কিমের সাথে তার মেয়ে জু আয়েকেও দেখা গেছে যাকে তার বাবার উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। গত বছর পানিতে ভাসানোর সময় জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার এক বছরেরও বেশি সময় পর জুলাই মাসে কিম কাং কন এর একটি পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করেছিলেন।

কিউংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিম ইউল চুল বলেন, কিমের এই ঘোষণা ইঙ্গিত দেয় যে যুদ্ধজাহাজগুলো কৌশলগত পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করতে পারে। কিম আরও জানান, উত্তর কোরিয়া নৌবাহিনীকে শক্তিশালী করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে যা আগামী আট মাসের মধ্যে বিশ্বের সামনে তুলে ধরা হবে।

বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপের আন্তর্জাতিক জলসীমায় ফ্রিডম এজ নামে একটি মহড়া চলছে যা শুক্রবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। উত্তর কোরিয়া এই মহড়ার তীব্র সমালোচনা করে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে।

এস এম/ ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Back to top button