শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অটল আন্দোলনকারীরা, শক্ত হাতে খারিজ করল মোদী সরকার!

নয়াদিল্লি, ২৪ জুলাই – মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ‘নিট’ (NEET)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নানাবিধ অনিয়মের অভিযোগে ভারতের রাজধানী উত্তাল। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা রাজপথে অনড় অবস্থান নিলেও মোদী সরকার এই দাবি পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে।
ভারতের কেন্দ্রীয় ক্ষমতাসীন এনডিএ (NDA) জোট সরকার সাফ জানিয়ে দিয়েছে—শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। সরকার তাঁর পাশে শক্তভাবে দাঁড়িয়েছে।
১. ‘পদত্যাগ সবচেয়ে সহজ সিদ্ধান্ত’: সরকারের শক্ত অবস্থান
আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট কথা ছিল—শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বরখাস্ত বা পদত্যাগ ছাড়া তারা রাজপথ ছাড়বেন না। তবে সরকারের শীর্ষ সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে যে, কেন্দ্র এই শর্ত মেনে নেওয়ার পক্ষে একেবারেই নয়।
সরকারি এক শীর্ষ কর্মকর্তা ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করে জানান, “আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, ‘পদত্যাগ নেওয়া হলো সবচেয়ে সহজ সিদ্ধান্ত’। কিন্তু দেশের জনগণ আমাদের ওপর আস্থা রেখে যে ম্যান্ডেট দিয়েছে, আমরা সেই অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করে দেখাব। দায় এড়িয়ে সরে যাওয়া আমাদের লক্ষ্য নয়।”
২. এনটিএ (NTA) সংস্কার ও প্রশ্নফাঁস চক্রে কঠোর আঘাত
শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবি প্রত্যাখ্যান করলেও, পরীক্ষা পরিচালনকারী সংস্থা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ-র গাফিলতি ও কারিগরি ত্রুটি শুধরে নেওয়ার বড় আশ্বাস দিয়েছে কেন্দ্র।
ত্রুটির তালিকা প্রস্তুত: এনটিএ-র অভ্যন্তরীণ নানা সমস্যা ও গাফিলতির একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করছে কেন্দ্র, যাতে খুব শীঘ্রই এই সংস্থার স্থায়ী সমাধান বা সংস্কার করা যায়।
প্রশ্নফাঁস চক্র ধ্বংস: সরকারি সূত্র জানিয়েছে, নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের পেছনে সক্রিয় একাধিক চক্র ও গ্যাংকে ইতোমধ্যে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
একদিকে রাজপথে শিক্ষার্থীদের উত্তাল প্রতিবাদ ও বিরোধীদের রাজনৈতিক তোপ, অন্যদিকে শিক্ষামন্ত্রীকে রক্ষার নীতিতে অটল মোদী সরকার—সব মিলিয়ে ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা ও রাজনীতিতে নিট বিতর্ক এক দীর্ঘমেয়াদী সংকটের রূপ নিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এনটিএ-র সংস্কার প্রক্রিয়া ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আস্থা কতটা ফেরাতে পারে।
এনএন/ ২৪ জুলাই ২০২৬









