৬ মাসের মধ্যে চালু হচ্ছে ৫টি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ঢাকা, ৩ জুন – দেশের চিকিৎসাসেবা খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে নতুন সরকার। খুলনা, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী ও কুমিল্লা— দেশের এই ৫টি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে একটি করে সর্বাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত ২০০ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল নির্মাণ করা হচ্ছে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে, অর্থাৎ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই এই হাসপাতালগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে।
আজ বুধবার (৩ জুন) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এই পরিকল্পনার খুঁটিনাটি দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, নতুন এই শিশু হাসপাতালগুলো সাধারণ কোনো হাসপাতাল হবে না। এগুলো হবে শতভাগ আধুনিক ও যুগোপযোগী।
হাসপাতালগুলোর মূল আকর্ষণ:
সেন্ট্রাল এসি: প্রতিটি শিশু হাসপাতাল সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হবে।
বিশেষায়িত আইসিইউ: প্রতিটি হাসপাতালে থাকবে উন্নত নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (ICU)। আইসিইউ প্রাঙ্গণটি অনেক বড় রাখা হচ্ছে যাতে ভবিষ্যতে শয্যা সংখ্যা আরও বাড়ানো যায়।
দ্রুত বাস্তবায়ন: হাসপাতালের আসবাবপত্র ও চিকিৎসা যন্ত্রপাতির টেন্ডার ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। যন্ত্রপাতি বিদেশ থেকে আনার প্রক্রিয়া (এলসি) চলছে। আগামী ৪ থেকে সর্বোচ্চ ৬ মাসের মধ্যে এগুলো চালুর শতভাগ প্রস্তুতি রয়েছে।
৫টি হাসপাতালের সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য মোট ৭ হাজার ৩৭৫ জন (প্রতিটিতে ১৪৭৫ জন করে) স্থায়ী জনবল প্রয়োজন। মন্ত্রী জানান, গতকাল মঙ্গলবারই প্রধানমন্ত্রী নিজে জনপ্রশাসনমন্ত্রীকে এই বিপুল জনবল দ্রুত বরাদ্দ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামীকাল এই নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হবে। জনবল অনুমোদন পেলেই অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে কোড নিয়ে নিয়োগের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে সাথে নিয়ে হাসপাতালগুলো উদ্বোধন করা হবে।
বিগত ১৭ বছরের দুর্নীতি নিয়ে বিস্ফোরক মন্ত্রী, ঢামেকে ১১০০ কোটির প্রকল্প
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “বিগত ১৭ বছরের দুর্নীতি ও চরম অবহেলায় দেশের স্বাস্থ্য খাতে কোনো প্রকৃত কাজই হয়নি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষার্থীরা বর্তমানে অমানবিক পরিবেশে জীবনযাপন করছে। আমরা সেই দুর্নীতির বৃত্ত ভেঙে একটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ স্বাস্থ্য খাত গড়তে চাই।”
ডাক্তার ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আবাসন সমস্যা সমাধানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী দুটি বড় মেগা প্রকল্পের কথা জানান:
১. ঢাকা মেডিকেলে ১১০০ কোটির প্রকল্প: ঢামেক হাসপাতালের চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের আবাসন উন্নত করতে ১,১০০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে বিশাল ও দৃষ্টিনন্দন নতুন আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে প্রকল্প তৈরি করেছে, কয়েকদিনের মধ্যে টেন্ডার হবে এবং আগামী জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে সেখানে গিয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন।
২. মিটফোর্ড থেকে অবৈধ উচ্ছেদ: মিটফোর্ড (সলিমুল্লাহ) হাসপাতালের ভঙ্গুর ভবনগুলোর কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের লোকজন এগুলো অবৈধভাবে সাবলেট দিয়ে রেখেছিল। সেই সাবলেটিং উচ্ছেদ করে সেখানে সম্পূর্ণ নতুন ও আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।
“শিশুদের পাশাপাশি দেশের মায়েদের চিকিৎসায় ৫টি বড় শহরে চীনের অর্থায়নে ১,০০০ শয্যার আন্তর্জাতিক মানের মাতৃসদন হাসপাতাল নির্মাণের চূড়ান্ত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন ও শৈল্পিক নির্মাণশৈলীতে তৈরি এই হাসপাতালগুলোর কাজ চলতি অর্থবছরেই শুরু হবে।”— সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী আরও একটি সুখবর দিয়ে বলেন, আগামী ১৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে ‘নিনমাস’ (ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালাইড সায়েন্সেস)-এর নবনির্মিত অত্যাধুনিক ভবন উদ্বোধন করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতি প্রস্তুত রয়েছে।
একসঙ্গে এতগুলো মেগা প্রজেক্টের ঘোষণা ও আগামী ডিসেম্বরের ডেডলাইন দেশের স্বাস্থ্য খাতে এক নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এনএন/ ৩ জুন ২০২৬









