জাতীয়

নববর্ষে কৃষক কার্ডের উদ্বোধন, দেশবাসীকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শুভেচ্ছা

ঢাকা, ১৩ এপ্রিল – প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পহেলা বৈশাখ বাঙালি জাতিসত্তা, ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক। তিনি উল্লেখ করেন, নতুন বছরের আগমন অতীতের সব জীর্ণতা ও গ্লানি মুছে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।

সোমবার ১৩ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে তিনি দেশবাসীসহ বিশ্বের সব বাংলাভাষী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলা ১৪৩২ সালকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছর ১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে স্বাগত জানান।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে উল্লেখ করেন, পহেলা বৈশাখের সঙ্গে এই অঞ্চলের কৃষি, প্রকৃতি এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের এক অত্যন্ত নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির এই আধুনিক যুগেও প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কৃষকরা তাদের ফসল উৎপাদনের সময় নির্ধারণ করে থাকেন। বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও মূল্যবোধের ধারাবাহিকতা পহেলা বৈশাখের মাধ্যমেই নতুন করে উজ্জীবিত হয়ে ওঠে।

তিনি আরও বলেন, বৈশাখী মেলা, শোভাযাত্রা এবং হালখাতার মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজনগুলো আমাদের সংস্কৃতির বহুমাত্রিক সৌন্দর্যকে তুলে ধরার পাশাপাশি জাতীয় ঐক্যবোধকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। বাংলা নববর্ষ নতুন প্রত্যাশা ও সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে আসে। প্রকৃতির নবজাগরণ এবং মানুষের অন্তরের আশাবাদ মিলেমিশে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করে।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের শোষণ ও শাসনের অবসানের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই রাষ্ট্র এবং সমাজের সব শ্রেণি পেশার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকার এরই মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, ক্রীড়া কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি এবং ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিবসহ অন্যান্য ধর্মের ধর্মগুরুদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে।

তিনি ঘোষণা দেন, কৃষক, কৃষি এবং কৃষি অর্থনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন থেকেই দেশব্যাপী কৃষক কার্ড প্রদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের মানুষের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ, সহনশীলতা, উদারতা এবং সম্প্রীতির চর্চা দেশের গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে এটি বহুমতের সহাবস্থানকেও সুদৃঢ় করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

বিশ্ব যখন নানা সংকট ও সংঘাতে বিপর্যস্ত, তখন শান্তি, সহমর্মিতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চা আরও বেশি জরুরি হয়ে উঠেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নববর্ষের এই শুভক্ষণে সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণের পথ অনুসরণ করার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে অতীতের সব হতাশা ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করতে হবে।

পরিশেষে তিনি প্রত্যাশা করেন, নববর্ষ যেন সবার জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনে।

এনএন/ ১৩ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language