উত্তর আমেরিকা

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক ব্যর্থ, ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে তিন বিকল্প

ওয়াশিংটন, ১২ এপ্রিল – টানা ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ফলে কোনো চুক্তি ছাড়াই ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষ করে দেশে ফিরে গেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এই ব্যর্থতার পর ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখন তিনটি কঠিন বিকল্প পথ খোলা রয়েছে। প্রথমত, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আলোচনা চালিয়ে যাওয়া। দ্বিতীয়ত, আবারও যুদ্ধের পথে অগ্রসর হওয়া। তৃতীয়ত, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে জড়িয়ে পড়া।

হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়েছে, পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করবেন। তিনি বর্তমানে ফ্লোরিডায় অবস্থান করছেন। সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে জেডি ভ্যান্স জানান, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সীমারেখা বা রেড লাইন স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে এবং কোন কোন বিষয়ে ছাড় দেওয়া সম্ভব সেটিও জানিয়েছে। তবে ইরান সেই শর্ত মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। বিশেষ মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ মন্তব্য করেন, ইরানের উচিত সহজভাবে আত্মসমর্পণ করা। তবে অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, এ ধরনের সমঝোতা মোটেও সহজ কোনো কাজ নয়।

ওবামা প্রশাসনের আমলে একটি বড় চুক্তিতে পৌঁছাতে প্রায় দুই বছর সময় লেগেছিল। বর্তমান আলোচনার মূল বাধা হলো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যু। ইরানের দাবি, আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় নিজ দেশে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার আইনগত অধিকার তাদের রয়েছে। বিপরীত দিকে যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা, এই সুযোগ থাকলে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ খোলা রাখবে। বিগত ৪০ দিনের সংঘাত দুই পক্ষের এই অবস্থানকে আরও বেশি কঠোর করেছে। ফলে উভয় পক্ষই এখন নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে।

যদি নতুন করে যুদ্ধ শুরু হয়, তবে তার বড় প্রভাব পড়বে গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতে। পৃথিবীর প্রায় ২০ শতাংশ তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। পুনরায় সংঘাত শুরু হলে জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা দেখা দেবে এবং মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে। বর্তমানে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির হার ৩ দশমিক ৩ শতাংশে রয়েছে। এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ক্ষয়ক্ষতি তাদের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করেছে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে তারা বিন্দুমাত্র আপস করবে না। সার্বিক পরিস্থিতিতে দুই পক্ষই মনে করছে, প্রথম দফার এই কূটনৈতিক লড়াইয়ে তারা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তাই আপাতত কোনো পক্ষই ছাড় দিতে রাজি হচ্ছে না।

এস এম/ ১২ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language